রিশাদের প্রতিভা নিয়ে বিস্ময় সোধির: এ অঞ্চলে এমন বোলার অনেক দিন দেখা যায়নি
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন এক নতুন হাওয়া বইছে, আর সেই হাওয়া বয়ে আনছেন leg spinner রিশাদ হোসেন। বিশ্বমঞ্চে তাঁর উপস্থিতি এখন কোনো অজানা কথা নয়। বরং তাঁর প্রশংসা করছেন বিদেশি তারকারা পর্যন্ত। নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ bowler ইশ সোধি তো এমন এক সুরে কথা বলেন যেন তাঁর সামনে অতীতের কোনো মাস্টার মিন্টো দাঁড়িয়ে। সোধি বলেন, ‘বহুমুখী প্রতিভার লেগ স্পিনার’ রিশাদ অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। রিশাদের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি—একটি বিরল বৈশিষ্ট্য যা তাঁকে বেশি bounce আদায় করতে সাহায্য করে। সোধির মতে, এ ধরনের লেগ স্পিনার এই অঞ্চলে অনেক দিন দেখা যায়নি।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করা রিশাদ প্রথম বছরেই ঝড় তুলেছেন। বিগ ব্যাশে গিয়ে স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৫টি wicket নেওয়া তাঁর কৃতিত্ব। কিন্তু এখনো তিনি খেলছেন শুধুমাত্র ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—টেস্ট ক্রিকেট তাঁর নামে আরও অপেক্ষা করছে। এ বিষয়ে সোধি বলেন, টেস্টে আবার লেগ স্পিন ফিরে আসা হবে ‘exciting ’, কারণ এটি আজকাল বেশ rare । রিশাদের মধ্যে সেই সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও সমর্থন করেন এ কথা।
প্রথম দুই ওয়ানডেতে খেলা সত্ত্বেও শেষ ম্যাচে একাদশ থেকে বাদ পড়েন রিশাদ। কিন্তু মুশতাক জানান, এটি কোনো শাস্তি নয়—উন্নতির একটা প্রক্রিয়া। রিশাদের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন বিশেষ করে googly বোলিং নিয়ে। তাঁর মতে, গুগলির ক্ষেত্রে আরও কিছুটা improvement দরকার। এছাড়া, ক্রিজের গভীরতা, angle এবং ব্যাটসম্যানদের শক্তি-দুর্বলতা বোঝা নিয়েও কাজ চলছে। মুশতাক বলেন, ‘কৌশলগত পদক্ষেপ দিয়ে প্রতিপক্ষকে আউট করা যায়।’ তিনি কেবল বোলিংয়ের কথা বলছেন না—tactics এবং মানসিকতার কথা বলছেন।
মুশতাক একটি তুলনা তুলে আনেন—ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কথা। তাঁর পারফরম্যান্সেও একসময় ভাটা পড়েছিল। টানা পাঁচ ম্যাচে উইকেট না পাওয়া থেকে তিনি ধীরে ধীরে ফিরে এসেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে: আগামী বছরের বিশ্বকাপ এর কন্ডিশনে তাঁর বোলিং কতটা effective হবে? অন্যদিকে, রিশাদ এখন প্রত্যাশার চাপে। টি-টোয়েন্টি দলে তিনি এখনো জায়গা করে নিতে পারেননি, কিন্তু সোধি ও মুশতাকের মতো বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি তাঁর দিকে।
আগামীকাল চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রথম ম্যাচে রিশাদ খেলবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আগের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি হলো আরেক দুনিয়া—quick game , যেখানে pressure বেশি, সুযোগ কম। রিশাদ যদি এবার মাঠে নামেন, তাহলে দেখা যাবে, সোধির প্রশংসার পিছনে কতটা সত্য আছে। পারফরম্যান্স দিয়েই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
রিশাদ সত্যিই promising আশাব্যঞ্জক, কিন্তু টেস্টে খেলার আগে আরও বেশি ম্যাচ ফিট হওয়া দরকার।
মিরাজের সময়ে আমরা কত ঝড় ঝাঁপটা দেখেছি, এখন রিশাদ আনবে নতুন ঝড়। কিন্তু কি consistent ধারাবাহিক হতে পারবে? সেটাই দেখার।
মুশতাক ভাই ঠিকই বলেছেন—cricket ক্রিকেট শুধু বোলিং নয়, মানসিক খেলা।
গুগলি নিয়ে কাজ করা ভালো, কিন্তু ডানহাতিদের বিরুদ্ধে line লাইন আর length লেংথ ঠিক রাখা জরুরি।
সব প্রশংসা শুনে ভালো লাগে, কিন্তু প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান আউট করলে তবেই সত্যি মূল্য বোঝা যাবে।
চট্টগ্রামে আজকের ম্যাচ, আশা করি রিশাদ খেলবে। আমাদের স্টেডিয়ামেই হোক তাঁর বড় অভিষেক।
bounce বাউন্স তো আছে, কিন্তু কন্ট্রোল আর ভ্যারিয়েশন কতটা আছে? সেটা ম্যাচে বোঝা যাবে।