সলমনের মানবিকতা, মোহিতের নিরপেক্ষতা, সঞ্জয়ের জেলের গল্প: পর্দার পিছনের সত্যি কাহিনী
বড় পর্দার জাঁদরে আবেগের অন্য নাম—সলমন খান। ইন্ডাস্ট্রির বাইরে তাঁকে ঘিরে যত gossip ছড়ায়, সেটে গিয়ে দেখা যায় বাস্তব চরিত্র তার ঠিক উলটো। চিত্রাঙ্গদা সিং, যিনি সদ্য ‘মাতৃভূমি’ ছবির শুটিং সেটে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, সেই প্রচলিত myth উড়িয়ে দিয়েছেন এক হাতে। তিনি বলেন, তাঁকে আগে থেকে নানা tip দেওয়া হয়েছিল—যেমন সলমন সময়মতো আসেন না, শিডিউল লম্বা হয়। কিন্তু কোনটাই সত্যি নয়। বরং তিনি ছিলেন punctual , কাজের মাঠে অত্যন্ত professional । এই অভিনেত্রীর মতে, তাঁর সঙ্গে কাজ করা ছিল সাবলীল, প্রাণখোলা।
কিন্তু যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি তাঁকে স্পর্শ করেছে, তা হল সলমনের মানুষের প্রতি অপরিসীম affection । তিনি শুধু প্রধান তারকাদের সঙ্গেই নয়, সেটের সবচেয়ে ছোট কর্মীদের প্রতিও নজর রাখেন। চিত্রাঙ্গদা বলেন, সেটে লাইটম্যান থেকে চতুর্থ সহকারী পরিচালক—সবার দিকেই তাঁর খেয়াল থাকে। তিনি নিজে গিয়ে check নেন, খাবার খেয়েছেন কি না, ব্রেক পেয়েছেন কি না। এমন gesture কাজের পরিবেশে বিরল। এই মানবিক গুণ তাঁকে প্রশংসনীয় করে তোলে—যা হলিউডে বা বলিউডে কমই দেখা যায়। এ কোনও act নয়, বরং গভীর মানবিকতার প্রকাশ।
অন্যদিকে, ‘আওয়ারাপন ২’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। প্রথম পর্বের ১৯ বছর পর ফিরছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু পরিচালক মোহিত সুরি না থাকায় হতাশা ছিল। তবে মোহিত স্পষ্ট করেছেন, তাঁকে এই ছবির জন্য offer করাই হয়নি। তিনি বলেন, “আমাকে কখনও অফার করা হয়নি।” তাঁর মতে, তারা হয়তো অন্যভাবে work করতে চেয়েছেন। এই প্রত্যাখ্যান নিয়ে তিনি কোনও bitterness প্রকাশ করেননি। এটি শুধু পেশাদারি সিদ্ধান্ত—যা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনিবার্য অংশ। মোহিতের এই স্বচ্ছতা প্রশংসা তুলেছে দর্শকমহলে।
আরেক মাইলফলক ছবি ‘খলনায়ক’—সঞ্জয় দত্তের বল্লু চরিত্রের জনপ্রিয়তা আজও কাটেনি। সম্প্রতি তিনি জানালেন, ‘খলনায়ক ২’-এর ধারণা জন্ম নিয়েছিল জেলখানার চার দেওয়ালের ভেতরে। সেখানে তাঁর ৪০০০ সহবন্দী তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন বল্লুকে ফিরিয়ে আনতে। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনারা কি sequel দেখতে চান?”—সবাই এক কণ্ঠে হ্যাঁ বলেছিল। সঞ্জয় শুধু শোনেননি, তাঁদের involve করেছিলেন সৃজনশীলভাবে। প্রত্যেককে একটি করে পৃষ্ঠা লিখতে বলেছিলেন। ৪০০০ পাতার আইডিয়া পড়ে তিনি অনুপ্রাণিত হন। এই ঘটনা শুধু একটি ছবির গল্প নয়, এটি মানবিকতা, আশা এবং প্রেরণার narrative ।
এই গল্পগুলি শুধু তারকাদের কাজের ইতিহাস নয়, তাদের চরিত্রের পরিচয়ও দেয়। সলমনের সহানুভূতি, মোহিতের নিরপেক্ষতা, সঞ্জয়ের সহবন্দিদের প্রতি মমতা—সবই বলে শিল্পীদের অদৃশ্য মাত্রা। বলিউড বাইরের চকচকে চেহারার চেয়ে ভিতরের গল্পগুলোতে বেশি সমৃদ্ধ। এমন ব্যক্তিত্ব যারা সেটের ছোট কর্মীকে মানুষ হিসেবে দেখেন, বা জেলের কয়েদিদের কথা গুরুত্ব দেন, তাঁদের গল্প শুনতে দর্শক চায়। এটি শুধু বিনোদন নয়, এটি অনুপ্রেরণা। আর তাই, পর্দার পিছনের মানুষগুলো পর্দার আগের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন।
সলমনের এমন পার্শ্বচিত্র জানতাম না। এটা সত্যিই মন ভরে উঠবে এমন।
মোহিত সুরি যদি অফার পাননি, তবে এখন পরিচালক কে? এটা নিয়ে কোনও তথ্য আছে?
সঞ্জয় দত্তের গল্পটা অবিশ্বাস্য। ৪০০০ কয়েদির আইডিয়া পড়া? এটা সত্যিই অসাধারণ initiative উদ্যোগ।
সেটে লাইটম্যানের জন্য খেয়াল রাখা—এমন detail বিস্তারিত আমরা কখনও শুনি না।
বলিউডে সময়নিষ্ঠা এখন বিরল। সলমন যদি সত্যিই এমন, তাহলে তাঁকে সালাম।
সব গুজব ভুল হতে পারে, কিন্তু এত মানুষের কাছ থেকে একই কথা শুনলে সন্দেহ তো আসে।
‘আওয়ারাপন ২’-এ ইমরান হাসমি ফিরছেন, কিন্তু মোহিত না থাকায় ম্যাজিক কি থাকবে?
সঞ্জয় দত্ত যদি বল্লুকে ফিরিয়ে আনেন, তাহলে হিন্দুস্তান জয় হবে। এটা কোনও joke রসিকতা নয়, আমার আবেগ।