ট্রুকলারের জয়জয়কার কি শেষ হচ্ছে?
competition আর প্রযুক্তি পরিবর্তনের স্রোতে ভাসছে একসময়ের অবিসংবাদিত রাজা—app ট্রুকলার। স্প্যাম call আর অচেনা নম্বরের ভয় ছিল যাদের প্রধান অস্ত্র, আজ তারাই হার মানছে ধীরে ধীরে। বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর বিশ্বাস জয় করা এই platform এখন সংকটের মুখোমুখি। ভারত তার সবচেয়ে বড় market , যেখানে ৩৫ কোটিরও বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করে—মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৭০ শতাংশ। কিন্তু সেই ভারতেই এখন নেমে এসেছে তার অংশীদারত্ব—মাত্র মধ্য ৫০ শতাংশে।
একসময় টেলিকম অপারেটরদের চেয়ে আগুয়ে ছিল ট্রুকলার, আজ সেই অপারেটররাই নেটওয়ার্কভিত্তিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করছে। ফলে ফোন উঠলেই কলারের নাম দেখা যায়—separate অ্যাপের দরকার পড়ছে না। আরও বড় চাপ এসেছে smartphone নির্মাতাদের দিক থেকে। অ্যাপল ও গুগলের মতো কোম্পানি এখন নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমেই স্প্যাম ফিল্টারিং সুবিধা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রুকলারের ব্যবহারকারী growth ধীর হয়েছে—২০২৫ সালে ভারতে ডাউনলোড ১৬ শতাংশ কমেছে।
আর্থিকভাবেও কম্পানির ওপর চাপ বাড়ছে। মোট আয়ের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আসে advertisement থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এক বড় অংশীদারের কাছ থেকে ট্রাফিক কমে যাওয়ায় সেই আয় প্রভাবিত হয়েছে। investor মধ্যে ছড়িয়েছে উদ্বেগ। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোম্পানির সিইও রিশিত ঝুনঝুনওয়ালা বলেছেন, নেটওয়ার্কভিত্তিক ব্যবস্থা প্রশ্ন তুলেছে কিন্তু এটি প্রমাণ করছে যে সমস্যাটি এখনও বড়। আর সেটাই তাদের কাজের সার্থকতা।
এমন চাপের মধ্যেও ট্রুকলার নতুন পথ খুঁজছে। নিজস্ব advertising ব্যবস্থা গড়তে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে আয় গঠনে। ২০১৭ সালে অ্যাপ থেকে আয় ছিল মাত্র ৬ লাখ ডলার, ২০২৫ সালে তা লাফিয়েছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে। premium সাবস্ক্রিপশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যবসায়িক সেবার মাধ্যমে তারা নতুন দিগন্ত খুলছে—যেখানে মানুষ শুধু কল ব্লক করছে না, বরং নিরাপদ যোগাযোগ কিনছে।
ট্রুকলারের গল্প এখন আর শুধু কল ব্লকিংয়ের নয়। এটি এক রূপান্তর কাহিনী। প্রযুক্তির পরিবর্তনে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেখানেই তার নতুন opportunity । কিন্তু প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অপারেটর, ডিভাইস নির্মাতা, নেটওয়ার্ক সলিউশন—সবাই এগিয়ে আসছে। ট্রুকলারকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এটি শুধু একটি tool নয়, বরং একটি অপরিহার্য service —যে সেবা প্রযুক্তির চেয়ে আগুয়ে থাকতে পারে।
প্রতিযোগিতা বাড়ছে, কিন্তু ব্যবহারকারীদের trust বিশ্বাস এখনও ট্রুকলারের পক্ষে।
আমি প্রিমিয়াম নিয়েছি—spam স্প্যাম কল কমেছে বটে, কিন্তু মোবাইলের নিজস্ব সুরক্ষাও তো ভালো।
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমে যদি এই সুবিধা থাকে, তাহলে আলাদা অ্যাপ ইনস্টলের কী দরকার?
বিজ্ঞাপন নির্ভরতা বড় ঝুঁকি। নতুন আয় উৎস তৈরি করা জরুরি।
আমি আগে ট্রুকলার ব্যবহার করতাম, এখন ফোনের নিজের ফিল্টার চালিয়ে রাখি। পারফরম্যান্স প্রায় একই।
গুগলের নিজস্ব কল ব্লকিং সিস্টেম আসলেই দারুণ কাজ করে। একীভূত সুবিধা আলাদা অ্যাপের চেয়ে ভালো।
ভারত থেকে ডাউনলোড কমছে—এটা তো বড় সতর্কবার্তা কোম্পানির জন্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যদি তারা আসল স্প্যাম আলাদা করতে পারে, তবে হয়তো বাঁচবে।