বগুড়া থেকে টিউলিপ: উত্তরাঞ্চলের আকাশে উড়বে কি অর্থনীতি?

উত্তরাঞ্চলের মাটিতে ঘুমিয়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো হঠাৎ করেই রাষ্ট্রীয় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। economy ঘাঁটতি পূরণের চেয়ে বড় লক্ষ্য এখন—উত্তরবঙ্গের অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে জাগ্রত করা। সরকারের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করে regional বৈষম্য কমানো, যেখানে বগুড়া বিমানবন্দর হলো সবচেয়ে বড় আশা। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতিমধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষ করেছে, কিন্তু এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই বা খরচ হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। এরপরও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এই উদ্যোগ কেবল যোগাযোগ বাড়ানোর চেয়ে বেশি—এটি একটি রূপান্তর এর সূচনা।

উত্তরাঞ্চলের মাটি কৃষিতে সমৃদ্ধ—ফল, দুধ, টিউলিপ, চাল, ভুট্টা। কিন্তু এই সম্পদ বিশ্ব বাজারে export হয় না যথেষ্ট পরিমাণে, কারণ পরিবহন ব্যবস্থা inefficient । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকে কৃষি-পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সাথে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ তিতুমীর স্পষ্ট করেছেন, ইউরোপের মৌসুম শেষ হলে উত্তরবঙ্গে টিউলিপ ফোটে—এটি opportunity । বেপজা রংপুর ও সিরাজগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে প্রস্তুত, যা এক লাখ চাকরি তৈরি করবে। বিমানবন্দর ছাড়া এই সব প্রকল্প ধীরগতির হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া বিমানবন্দর ব্রিটিশ আমলের নয়; ২০০০ সালে তৈরি হয়েও চোখের সামনে unused পড়ে আছে। এখন ৫৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব আছে। এর কৌশলগত গুরুত্ব অসাধারণ: মহাস্থানগড়, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবু প্রশ্ন উঠছে—বাণিজ্যিক ভাবে এটি লাভজনক হবে কি? ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বলেছেন, ১৭-১৮ আসনের বিমান নিয়েও ঢাকা-বগুড়া রুট চালানো সম্ভব। তাঁর ভাষায়, "লাভজনক" করা যাবে মাত্র ১০-১১ যাত্রী নিয়ে। ঈশ্বরদী বিমানবন্দরও প্রায় চলছে—২০১৩ সালে স্বল্প সময় চালু হয়েছিল, কিন্তু রানওয়ে ও নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে আবার বন্ধ।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা স্পষ্ট: অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেছেন, অতীতে ছোট বিমানবন্দর ছিল প্রয়োজনে, কিন্তু এখন প্রয়োজন কৌশলগত পরিকল্পনা। কেবল জাতীয় স্বার্থে কিছু বিমানবন্দর চালু রাখা যেতে পারে, কিন্তু তাতেও planning আর timeline চাই। বেবিচক পরামর্শক নিয়োগের জন্য দরপত্র ডাকার পরিকল্পনা করছে—সেটাই প্রথম বাস্তবিক পদক্ষেপ। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকায় যাওয়ার ৮-১০ ঘণ্টা কমে এক ঘণ্টায় নেমে আসবে। সেটাই হবে development এর পথ।

প্রতিক্রিয়া 8

  • নকশী৯৯

    বিমানবন্দর চালু হলে বগুড়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আসবে—investment ছাড়া শিল্পায়ন হয় না।

  • আকাশপথ

    বেপজা ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীতে রপ্তানি করছে ২.২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এখানে বিমানবন্দর মানে লজিস্টিকস এ বিপ্লব।

  • ঘাটের_বাসিন্দা

    সত্যি বলতে, রাস্তায় ১০ ঘণ্টা না বসে যদি ১.৫ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো যায়, তাহলে যাত্রী আসবেই। ব্যবসার সময় বাঁচবে।

  • মিস্ত্রি_বাবু

    বগুড়ায় ফাউন্ড্রি আর কৃষি যন্ত্রপাতির কারখানা আছে। কিন্তু যানজটে পণ্য পৌঁছায় না। বিমানপথে পাঠানো গেলে সরবরাহ চক্র দ্রুত হবে।

  • হাওয়ার_পাখি

    টিউলিপ রপ্তানির কথা বলছেন, কিন্তু কে উড়িয়ে নিয়ে যাবে? ছোট বিমান দিয়ে ফুল পাঠানো কি সম্ভব? দাম কত হবে?

  • প্ল্যান_বি

    বিমানবন্দর চালুর আগে সত্যিকারের ফিজিবিলিটি স্টাডি হোক। নইলে আরেকটি সাদা হাতি হয়ে দাঁড়াবে।

  • জমির_খতিয়ান

    ৫৫০ একর জমি অধিগ্রহণ মানে কতজন কৃষক জমি হারাবে? সেটা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে না।

  • ভবিষ্যৎদ্রষ্টা

    উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন হলে ঢাকার চাপ কমবে। এটা কেবল বগুড়ার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য sustainable সমাধান।

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]