বাজেটের আশা আর বিনিয়োগের বাস্তবতা: জিডিপির ৩১.৪% কি সম্ভব?
একটি জাতি যখন অর্থনৈতিক সংকটের গহ্বরে, তখন প্রত্যাশা জাগে বাজেটের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনের। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ঘোষণা করছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩১.৪ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য — এর মধ্যে private খাতে ২৪.৯ এবং public খাতে ৬.৫ শতাংশ। এই লক্ষ্য অর্জন হলে অর্থনীতি চাঙা হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, উৎপাদন ও রপ্তানির গতি ফিরবে বলে আশা। কিন্তু কাগজের চেয়ে বাস্তবের পথ কঠিন। গত দুই বছরে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৩০.২ থেকে ৩১ শতাংশে — বড় লাফ নেই। আর এই স্থবিরতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে private বিনিয়োগে, যেখানে উদ্যোক্তারা নতুন কিছু শুরু করার বদলে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই ছুটছেন।
বিনিয়োগের পথে অসংখ্য বাধা। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধজনিত জ্বালানি অনিশ্চয়তা — এগুলো শুধু বৈশ্বিক খবর নয়, বাংলাদেশের কারখানার মূল ভিত নাড়া দিচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, সরবরাহ নিয়মিত নয়। কোথাও গ্যাস নেই, কোথাও বিদ্যুৎ নেই — উৎপাদন হচ্ছে না পূর্ণ সক্ষমতায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অবস্থায় কেউ বিনিয়োগ করবে না। ব্যাংকিং খাতের চাপ, খেলাপি ঋণ, উচ্চ সুদের হার — এসব আবার আলাদা কথা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পগুলো সহজে loan পাচ্ছে না।
সরকার জানে এগুলো সমস্যা। তাই আগামী বাজেটে কয়েকটি উদ্যোগ এনেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, incentive দেওয়া হবে দেশি বিনিয়োগে, public-private জোরদার করা হবে, আর ডিজিটাল সেবা বাড়বে। তৈরি হতে পারে স্টার্টআপ support ও বিশেষ তহবিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভালো লাগলেও যথেষ্ট নয়। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের হার হতে হবে ৩২-৩৪ শতাংশ। বর্তমান লক্ষ্য এখনও সেই মানে পৌঁছায়নি। আর সবচেয়ে বড় কথা — লক্ষ্য কাগজে লেখা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
উদ্যোক্তাদের আসল চাওয়া আরও মৌলিক। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, stable নীতি, জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আর কার্যকর one-stop চাই। অনেক সময় একটি প্রকল্পের অনুমোদন পেতে বছর কেটে যায় — যা বিনিয়োগকারীকে নিরুৎসাহিত করে। বিকেএমইএ-এর হাতেম বলছেন, ঋণ সহজ শর্তে, সুদ কম, আর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা চাই। অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ স্পষ্ট করেছেন, লক্ষ্য কাগজে ভালো লাগলেও তা নির্ভর করে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর। বাজেটে ঘোষণা নয়, কাজে কাজে ক্ষমতা দেখাতে হবে। না হলে আবার একই কথা — আশা আর ব্যর্থতা।
বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রথমে জ্বালানির সমস্যা সমাধান করতে হবে। গ্যাস না পেলে কারখানা চলবে কী করে? fuel জ্বালানি নিরাপত্তা না থাকলে কেউ মূলধন ঢালবে না।
বেসরকারি খাতে incentive প্রণোদনা দিলে হয়তো কিছুটা ভালো হবে। কিন্তু সুদের হার এক অঙ্কে না আনলে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আরেকটা বাজেট, আরেকটা ঘোষণা। কাজে কাজে কতটুকু হবে সেটাই বাকি।
ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আছে, কিন্তু কাজ করে না। আমার প্রকল্পের জন্য ৮ মাস ধরে অনুমোদন চাই। delay বিলম্ব বন্ধ না হলে বিনিয়োগ আসবে না।
বিদেশি বিনিয়োগ আসবে যদি ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল হয়। ডলার সংকট আর খেলাপি ঋণ কমানো ছাড়া তা অসম্ভব।
সরকার যদি সত্যিই নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে চায়, তাহলে startup স্টার্টআপ তহবিল কার্যকর হতে হবে। নাহলে শুধু নাম আর ঘোষণা।
গত বছর জিডিপির ৩০.২% ছিল বিনিয়োগ। এটা কি ভালো? আমি বুঝি না।
বিনিয়োগ বাড়লে চাকরি বাড়বে বলে শুনি। আশা করি এবার সত্যি হবে। আমার ছেলে চাকরি খুঁজছে বছর দুয়েক ধরে।