অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা: এক পা এগোলে আরেক পা পিছলে যায়?
challenge কাটানোর মতো সময় এখন অর্থনীতির সামনে। একসঙ্গে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, banking খাতের সংস্কার—সবই এখন জরুরি কাজ। কিন্তু সবচেয়ে বড় সংকট হলো, এগুলো একসাথে ঘটছে। যেন এক পা এগোলে আরেক পা পিছলে যায়। প্রতিটি pressure আরেকটির ওপর চাপ ফেলছে—মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, চাহিদা দুর্বল, আর অর্থনীতি হাঁপাচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি এখন rate ৮.৭১ শতাংশ, কিন্তু মজুরি বাড়ছে মাত্র ৮.০৯ শতাংশ। এই ছোট্ট ফারাকটাই difference , মানুষ যত আয় করছে, তার চেয়ে বেশি খরচ করছে। এই gap তৈরি করছে অস্থিরতা। একদিকে সুদহার বাড়ালে মূল্যস্ফীতি কমবে, কিন্তু তখন loan দুর্ভোগ হবে, বিনিয়োগ কমবে। আবার কর্মসংস্থান বাড়াতে খরচ বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আবার উসকে উঠবে। এটা কোনো নীতি নয়, এটা এক ভারসাম্য—যেখানে এক পদক্ষেপের প্রভাব আরেকদিকে পিছন হটাতে পারে।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখন মাত্র ৩.৪৯ শতাংশ—টানা তিন বছর decline যাওয়ার পর। এই সময়ে দারিদ্র্য আবার বাড়ছে, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এখন ২১.২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে। আবার আয়বৈষম্য বাড়ছে—জিনি অনুপাত ০.৪৯৯, আর শীর্ষ ১০ শতাংশের হাতে মোট আয়ের ৪১ শতাংশ। অর্থনীতি যদি benefit শুধু কয়েকজনের হাতে পৌঁছায়, তবে সেই প্রবৃদ্ধি কি আসলেই প্রবৃদ্ধি?
কর্মসংস্থানের ছবিটাও কম আশাব্যঞ্জক নয়। ২০১৬ থেকে ২০২২-এর মধ্যে ১.৪ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছেছে, কিন্তু চাকরি পেয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। যুব বেকারত্ব ৮ শতাংশ, আর university পড়ুয়াদের মধ্যে ১৪ শতাংশ। বিনিয়োগ না বাড়ার পেছনে আস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বড় কারণ, আর তার সঙ্গে জ্বালানিসংকট, নীতিগত অনিশ্চয়তা। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখন ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা, মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এটা শুধু সংখ্যা নয়, এটা অস্থিরতার সংকেত।
আর এখন বাইরে থেকে বাহ্যিক পরীক্ষা—ইরান যুদ্ধ। এর তরঙ্গ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, টাকার ওপর pressure বাড়বে, মূল্যস্ফীতি আবার উসকে উঠতে পারে। রপ্তানি, প্রবাসী আয়, ভর্তুকি—সব ক্ষেত্রেই ঝুঁকি। নতুন সরকারের জন্য এটা কোনো সাধারণ চ্যালেঞ্জ নয়, এটা test —যে কীভাবে স্থিতিশীলতা ফিরবে, সেটাই হবে নির্ণায়ক।
মূল্যস্ফীতি আর কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য ঠিকই কঠিন, কিন্তু policy নীতি না থাকলে কিছু হবে না।
৬ লাখ কোটির খেলাপি ঋণ শুনলে মনে হয়, কেউ ঋণ নিয়ে পালিয়েছে। দুর্নীতি ছাড়া এটা কি সম্ভব?
fuel জ্বালানি দাম বাড়লে সব কিছুর দাম বাড়ে, এটা তো আমাদের রান্নাঘর থেকেই বোঝা যায়।
প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যায় নয়, সমাবেশী হওয়া জরুরি, নইলে দারিদ্র্য কমবে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব আর সরকারের হিসাব মিলছে না মনে হয়। কোনটা সত্যি?
আমরা পড়াশোনা করে বেরিয়েছি, কিন্তু চাকরি নেই। বেকারত্ব কি আমাদের ভাগ্য?
জিনি অনুপাত ০.৪৯৯ মানে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নেই। সম্পদের বণ্টন জরুরি।
আমরা প্রতিদিন বাজারে যাই, মূল্যস্ফীতি মানে আমাদের ক্ষুধা, না কি হিসাব?