ক্যাম্পাসে মেধার রাজত্ব চান ফখরুল, কিন্তু কে নিয়ন্ত্রণ করবে রাজনীতি?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো যেন রাজনৈতিক দলের ময়দান না হয়ে উঠে, সে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একটি স্মরণ সভায় তিনি বলেন, ছাত্র politics যদি প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি না হয়, তাহলে তা আর অনিয়ন্ত্রিত রাখা যাবে না। তাঁর কথায়, leadership গড়ে উঠুক মেধার ভিত্তিতে, নয় দলীয় স্বার্থে। আজকের প্রজন্মের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হোক জ্ঞানের অঙ্গন, নয় ক্ষমতার লড়াইয়ের ময়দান। এটাই তাঁর আবেদন। সেই অডিটোরিয়ামে শুধু অতীতের কথা ভাসেনি, ভেসে এসেছে ভবিষ্যতের উদ্বেগ।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ছাত্রদের ত্যাগ আছে, শিশুদের রক্ত আছে। সেই সংগ্রামের ফলে একটি পরিবর্তন এসেছে, একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তিনি দেখছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেন অপপ্রচার আর propaganda ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে, সে কথাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর ভাষায়, 'আমরা আর বিভাজন তৈরি করতে পারি না।'economy ধ্বংস হয়ে গেছে—এই সত্য মেনে নিয়ে এখন কাজ করা উচিত পুনর্গঠনের দিকে।

তিনি জোর দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের উপর। অযথা debate আর সময় নষ্টের মধ্যে দেশ আর ডুববে না, তাঁর বক্তব্য। সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু তা যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়। তিনি মনে করেন, reform নিয়ে বিএনপির কোনো দ্বিধা নেই। বরং ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসা ছিল মহান সংস্কার। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা চালু করে—সেসবও তিনি সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, বিএনপি তো সংস্কারের জনক। আজ সেই সংস্কারের নামে যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তা তিনি নাকচ করেছেন।

technology আর প্রতিযোগিতার যুগে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে, এমনটাও মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা তাল মেলাতে পারছি না। আর পিছিয়ে পড়া মানেই অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া। তাঁর মতে, শুধু রাজনীতি নয়, সমগ্র জাতির দৃষ্টি এখন হওয়া উচিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে দেশ—এই অবস্থা থেকে বের হওয়া যাবে শুধু ঐক্য আর প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। তাঁর কথায়, নতুন প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।

ফখরুলের বক্তব্যে একটি স্পষ্ট বার্তা: আর সময় নষ্ট নয়, আর বিভাজন নয়। দেশ এখন অর্থনৈতিক সংকটে। তাঁর মতে, সংসদ হবে সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র মাধ্যম—নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা গঠিত সংস্কার পরিষদ নয়। তিনি আশা করছেন, বিরোধী দল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সবাই মিলে এগিয়ে যাবে। কারণ কালের চাকা থামবে না, আর আমরা পিছিয়ে থাকতে পারব না। জাতির ভবিষ্যৎ এখন জাতীয় ঐক্যের উপর নির্ভর করছে। এই বার্তাই তিনি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অডিটোরিয়াম থেকে।

প্রতিক্রিয়া 8

  • সত্য_অন্বেষী_১৯৭১

    ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, কিন্তু কে নিয়ন্ত্রণ করবে? রাষ্ট্র? নাকি বড় দলগুলো? control মানে কি দমন?

  • নিরপেক্ষ_চিন্তা

    অর্থনীতি পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে—ভালো কথা। কিন্তু সেটা কি সম্ভব ছাত্র leadership নষ্ট হওয়ার পর?

  • জানালার_আলো

    শিক্ষক নিয়োগে মেধার কথা বললে ভালো, কিন্তু কে মেধা নিরূপণ করবে? সেটাও তো রাজনৈতিক হতে পারে।

  • প্রযুক্তির_ছাত্র

    আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু কি করবেন তা নিয়ে কোনো plan নেই।

  • ইতিহাস_ঘেঁষা

    জিয়া আর খালেদা জিয়ার সংস্কারের কথা মনে করিয়ে দিলেন—সেটা সত্যি। কিন্তু সেই সংস্কার কি আজকের চাহিদা মেটায়?

  • বাস্তববাদী_৯৯

    ‘নতুন প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব’—এই কথাটা বারবার শুনি। কিন্তু কাজে কি তা রূপ পায়? দায়িত্ব শুধু কথা নয়, কর্মেও হতে হবে।

  • স্মৃতির_সন্ধানী

    ডা: আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণ সভায় এত রাজনৈতিক বক্তব্য? শ্রদ্ধার জায়গায় রাজনীতি এলো কেন?

  • আশাবাদী_২০২৬

    একটু আশা রাখি—হয়তো এবার সত্যিই বিতর্ক ছাড়া এগোনো যাবে। hope করি, কথার চেয়ে কাজ বেশি হবে।

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]