যাঁর আঙুল উঠেছিল বাতাসে, তিনি চলে গেলেন সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে
১৯৯৭ সালের এক উত্তপ্ত জুলাইয়ের দুপুর। কলম্বোর মাঠে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলছে এশিয়া কাপের ম্যাচ, আর ক্যামেরার স্ক্রিনে ভেসে উঠছে এক বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের উড়ন্ত পা। তিনি আতহার আলী খান, আর তাঁর পা ছিল air —ক্রিজের বাইরে নয়, কিন্তু মাটি ছোঁয়নি। সেই মুহূর্তে এক মানুষ চাপ দিলেন রিমোটের নিচে—আম্পায়ার মোহাম্মদ আসগর। তাঁর আঙুল উঠল, আউট। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হওয়ার গৌরবের চেয়ে তখন তাঁকে চিনত দেশ জুড়ে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই ছিল তাঁর নির্ভীক judgment , ক্রিকেটের নিয়মের জয়।
আসগরের পথ ছিল অনন্য। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন আম্পায়ারিং করেছেন, আর ১৯৯৭ সালের এশিয়া কাপে সাতটি ম্যাচে television আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—বাংলাদেশের প্রথম মানুষ হিসেবে। তাঁর কাজ ছিল প্রযুক্তি ও মানব চোখের সীমানায় দাঁড়িয়ে। কখনো কখনো তাঁর সিদ্ধান্ত জনতার হৃদয়ে বাজত, কখনো বা ক্ষোভ ছড়াত। কিন্তু তিনি ছিলেন consistent , নিয়মের প্রতি অটুট। তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আলোটি জ্বলে গেল ২০২১ সালে, যখন তিনি ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যু ঘটেছে ৭৩ বছর বয়সে, দীর্ঘদিন illness করার পর। বিসিবি এক statement জারি করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সেখানে শুধু মৃত্যুর কথা নয়, বরং এক যুগের অবসানের কথা বলা হয়েছে। আসগর ছিলেন এক যুগের অগ্রদূত—যিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ের মানচিত্রে স্থাপন করেছিলেন। তাঁর নাম হয়তো আউটের রিপ্লেতে প্রথম চোখে পড়েছিল, কিন্তু তাঁর অবদান ছিল উত্তরাধিকার হিসেবে গভীর।
আজ, যখন ক্রিকেট প্রযুক্তির বাহুবলে প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয়, তখন মোহাম্মদ আসগরের মতো মানুষদের কথা মনে করলে মনে হয়—তাঁরা ছিলেন সেই সেতু, যা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছিল বিশ্ব stage । তাঁর সিদ্ধান্ত সবসময় জনপ্রিয় হয়নি, কিন্তু সবসময় ছিল নীতিগত। তাঁর জীবন মনে করিয়ে দেয় যে, ন্যায় কখনো popularity চায় না—শুধু সত্যের দাবি রাখে।
তিনি হয়তো একটা আউটের জন্য বিতর্কিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তটাই তো সততা ছিল।
আম্পায়ারদের কাজ কখনো সহজ না, বিশেষ করে যখন দেশের খেলোয়াড় নিজের দেশের মাটিতে খেলে।
১৯৯৭ সালে টিভি আম্পায়ারিং মানেই ছিল বিপ্লব। আসগর ছিলেন সেই বিপ্লবের অংশ।
আমি মনে রাখি সেই ম্যাচ। আতহারের সেঞ্চুরির আশা ছিল, কিন্তু ক্রিজের বাইরে না হয়েও আউট। কষ্ট লাগলেও নিয়ম তো নিয়মই। rule নিয়ম মানতে হয়।
এখন তো প্রতিটা বলে VAR, আগে এমন মানুষদের উপর ছিল চাপ।
এই খবরটা পড়ে চোখে এসে গেল সেই এশিয়া কাপের দিনগুলো। এক যুগ কেটে গেল। memory স্মৃতি আজ আরও মূল্যবান হয়ে উঠল।