মনুর মঞ্চে ক্রিকেট নয়: পদকের গুরুত্ব কোথায়?
ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (NRAI) ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান ছিল এক ঐতিহাসিক celebration —ভারতীয় শুটিংয়ের গৌরবের প্রতীক। নয়াদিল্লিতে মঞ্চে বসেছিলেন একাধিক শুটিং কিংবদন্তি। সামনের সারিতে ছিলেন মনু ভাকর, প্যারিস অলিম্পিক্স ২০২৪-এর দুটি bronze পদকজয়ী। স্বাধীন ভারতে একই olympics -এ দুটি পদক জেতা প্রথম ভারতীয় তিনি। কিন্তু সেই মহিমান্বিত মুহূর্তেই এক সাংবাদিক এসে প্রশ্ন করলেন: ‘বৈভব সূর্যবংশী সম্পর্কে কী মনে করেন?’ এই এক বাক্যেই ভেঙে পড়ল আবেগের ভারসাম্য। মনে হল, শুটিংয়ের মঞ্চ হঠাৎ করেই ক্রিকেটের headline -এ পরিণত হয়ে গেল।
সমাজমাধ্যমে ঝড় উঠল। কেন এক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নকে ক্রিকেটের আইপিএল সেনসেশন নিয়ে প্রশ্ন করা হল? social মিডিয়া জুড়ে উঠল ক্ষোভ। ক্রীড়া সম্প্রচারক জয় ভট্টাচার্য লিখলেন, ‘তিনি অলিম্পিক্স পদকজয়ী। তাঁকে বৈভব সূর্যবংশী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা তাঁর অর্জন ও খেলাধুলার প্রতি disrespect ।’ আরেকজন বললেন, ‘তাঁর দুটো অলিম্পিক পদক গোটা আইপিএলের চেয়ে bigger !’ এই সমালোচনা শুধু এক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়—এটি ভারতীয় মিডিয়ার একচেটিয়া ক্রিকেট coverage নিয়ে চিরন্তন প্রশ্ন।
মনু ভাকর কিন্তু একটুও বিচলিত হলেন না। যে মানসিক strength রেঞ্জে তাঁকে স্থির রাখে, সেই ধৈর্যে জবাব দিলেন। বললেন, ‘মেন্টরশিপ ভাল হলে, আশেপাশের মানুষ ভাল হলে, বয়স কোনো barrier নয়। প্রতিভার কোনও বয়স নেই। ৬০ বছরেও বড় কাজ হয়, ৬ বছরেও।’ তাঁর কথায় ছিল না ক্রিকেটের প্রসঙ্গ, নেই বৈভবের নাম। আছে এক অ্যাথলিটের দৃষ্টিভঙ্গি—এক journey কথা। সোশ্যাল মিডিয়া এখন তাঁর এই জবাবে fascinated ।
বিতর্কটি নতুন নয়। অলিম্পিক পদক এনেও শুটিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলো প্রায়শই overshadowed পড়ে ক্রিকেটের ছায়ায়। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে, কিন্তু মিডিয়ার attention এখনও এক খেলার দিকে। যে অনুষ্ঠানে শুটিংয়ের ৭৫ বছরের ইতিহাস উদযাপন হচ্ছিল, সেখানে ক্রিকেটের প্রসঙ্গ উঠাটাই অনেকের কাছে মনে হয়েছে mockery মতো। মনু সামলে নিলেন। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল: ভারতীয় মিডিয়া কবে বাকি খেলাগুলোকে equal গুরুত্ব দেবে?
এই ঘটনা শুধু একটি অসুবিধাজনক প্রশ্ন নয়—এটি আমাদের ক্রীড়া culture আয়না। যেখানে অলিম্পিক পদকের মর্যাদা ক্রিকেটের ট্রফির কাছে পিছিয়ে যায়, সেখানে মনুর মতো ক্রীড়াবিদদের অস্বস্তি অপরিহার্য। কিন্তু তাঁর জবাব আমাদের একটি message দিল—প্রতিভা বয়সে বাঁধা নয়, ক্রীড়াও একটি খেলার মধ্যে আবদ্ধ নয়। যখন মিডিয়া এবং দর্শকরা এই বার্তা গ্রহণ করবে, তখনই ভারতের ক্রীড়া জগত আসল স্বীকৃতি পাবে।
মনুর জবাবটা ছিল thoughtful বুদ্ধিদীপ্ত—সরাসরি নয়, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।
আমরা কি আসলেই ভাবি একটা ব্রোঞ্জ পদক আইপিএলের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?
সাংবাদিকের প্রশ্নটা ছিল বেমানান। অনুষ্ঠানটা শুটিংয়ের, ক্রিকেটের নয়।
মনুকে এভাবে প্রশ্ন করা শুধু অসম্মান নয়, এটা reflects প্রতিফলিত করে আমাদের মিডিয়ার পক্ষপাত।
ভারতের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নদের সম্মান করা হয় না যতটা উচিত।
পরের বার বৈভবকে মনু ভাকর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন, তাঁর মুখের ভাব দেখুন।
৬ বছরেও বড় কাজ হয়—মনুর এই কথাটা inspiring অনুপ্রেরণামূলক।
সবাই ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে, অন্য খেলাগুলো তো আছেই না মিডিয়ায়।