শজনের বীজের জাদু: পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্তির নতুন আশা?
আমাদের water এখন আর শুধু জীবনের উৎস নয়, plastic জমার ভাণ্ডারও বটে। মাইক্রোপ্লাস্টিক—এক ইঞ্চির চিল্লিশ হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত ছোট এই কণা আজ পৃথিবীর সব কোণে উপস্থিত, গভীর ocean থেকে শুরু করে মানুষের শিরা-উপশিরাতেও। ২০২৪ সালের এক study দেখা গেছে, বিশ্বের ৮৩ শতাংশ ট্যাপের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এমন এক সংকটের মধ্যে, একটি প্রাচীন গাছ হয়তো হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে আমাদের বাঁচার—শজনে। ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের এক recent প্রকাশিত গবেষণা বলছে, শজনে গাছের seed খাবার পানি থেকে ৯৮.৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে পারে।
শজনেকে অনেকেই ডাকেন ‘miracle ’। কারণ এর পাতা, ফুল, ফল—সবই পুষ্টিকর এবং ওষুধি গুণে ভরপুর। কিন্তু এর আরেকটি অলৌকিক ক্ষমতা এখন উঠে এসেছে: পানি শোধন। অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গনসালভেস জানান, শজনের বীজের নির্যাস এক ধরনের ‘কোয়াগুল্যান্ট’ হিসেবে কাজ করে, যা পানির ভেতরের ভাসমান কণাগুলোকে জমাট বাঁধায়। এরপর সেগুলো সহজেই ছাঁকনি দিয়ে আলাদা করা যায়। গ্রিক, রোমান এবং মিসরীয় সভ্যতায় হাজার হাজার বছর ধরে এ গাছ ব্যবহার করা হয়েছে পানি পরিষ্কার করতে—আজ আধুনিক science তার সেই ঐতিহ্যকে প্রমাণ করছে নতুন প্রযুক্তির আঙিনায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে বীজের কার্যকারিতা রাসায়নিক কোয়াগুল্যান্টের সমতুল্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ক্ষারীয় পানিতে, এটি রাসায়নিক chemical ছাড়াও ভালো কাজ করে। আর এখানেই তার বড় সুবিধা: এটি নবায়নযোগ্য, পচনশীল এবং toxic ঝুঁকি কম। নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেন যিনি গবেষণায় অংশ নেননি, বলেছেন, অ্যালুমিনিয়ামভিত্তিক শোধন ব্যবস্থার বদলে শজনে বীজ হতে পারে একটি সস্তা ও টেকসই solution । এটি অ্যালুমিনিয়াম খনির চাহিদাও কমাবে, যা পরিবেশের জন্য harmful ।
কিন্তু চ্যালেঞ্জও কম নয়। একটি শজনের বীজ দিয়ে প্রায় ১০ লিটার পানি শোধন করা যায়—বড় শহরের পানি শোধনাগারের জন্য প্রচুর বীজ লাগবে। অধ্যাপক গনসালভেস স্বীকার করেছেন, এটি promising হলেও বড় পরিসরে প্রয়োগে আরও গবেষণা দরকার। আরেকটি ঝুঁকি: বেশি বীজ ব্যবহারে পানিতে বাড়তে পারে জৈব অবশিষ্টাংশ। অধ্যাপক ক্যাম্পেন বলেছেন, আটকে থাকা পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিকের কী হবে, এই পদ্ধতির cost কত, আর এটি ন্যানোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর—সবই খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে বিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই দিকেই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ। অধ্যাপক ক্যাম্পেন সতর্ক করে বলেছেন, ‘মানুষ প্রতিনিয়ত আরও বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসছে, আগামী কয়েক decade এ প্রবণতা বদলাবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’ কিন্তু আশার আলো আছে—প্রকৃতির কাছ থেকেই হয়তো আসবে আমাদের উদ্ধার। শজনের ছোট্ট বীজ, যা হাজার বছর ধরে মানুষের পাশে ছিল, আজ হয়তো হবে আমাদের পরিবেশের রক্ষাকর্তা। এবং এই research শুধু বিজ্ঞানের নয়, প্রকৃতির প্রতি আস্থারও এক বার্তা।
এটা কি সত্যিই প্রাকৃতিক কোয়াগুল্যান্ট হিসেবে কাজ করবে? খুব আশাবাদী লাগছে।
১০ লিটার পানি পরিষ্কার করতে এক বীজ? ছোট গ্রামের জন্য দারুণ সমাধান হতে পারে।
আমরা কি জানি, মাইক্রোপ্লাস্টিক আটকানোর পর সেটি কীভাবে ফেলা হবে? এটা তো নতুন একটা waste বর্জ্য সৃষ্টি করছে।
৯৮.৫% অপসারণ! এটা কি প্রমাণিত হয়েছে বাস্তব laboratory ল্যাব পরীক্ষায়?
শহরের পানির চাহিদা পূরণে এটা কি সত্যিই সাশ্রয়ী? বীজের সরবরাহ কতটা সম্ভব?
অবশেষে একটি প্রাকৃতিক ও নবায়নযোগ্য alternative বিকল্প—এটা আমাদের পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ।
ন্যানোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে কাজ করে কি না, সেটা না জানা পর্যন্ত আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।
গ্রামে গ্রামে শজনে গাছ লাগানো হোক, আর স্থানীয় স্তরে পানি পরিষ্কার করা হোক—এটাই হোক নতুন প্রজেক্ট।