‘খান’ নয়, শুধু ইরফান: নামের আড়ালে পরিচয়ের রাজনীতি ভাঙলেন কীভাবে?
act করার মাধ্যমে নয়, পরিচয় গড়ার এক অনন্য পথ বেছে নিয়েছিলেন ইরফান খান। তাঁর নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় সেই সংযত, deep চোখের দৃষ্টি, যা কথা বলে না, কিন্তু সব বলে দেয়। ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল, মাত্র ৫৩ বছর বয়সে চিরতরে চুপ হয়ে গেলেন তিনি। কিন্তু আজও তাঁর উত্তরাধিকার জীবন্ত—কেবল পর্দায় নয়, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে। তাঁর নাম থেকে ‘খান’ সরানো ছিল কেবল একটি নাম change নয়, এক বিশ্বাসের ঘোষণা।
ইরফান চেয়েছিলেন যেন তাঁকে চেনা হয় তাঁর কাজ দিয়ে, নয় তাঁর ধর্ম বা বংশ দিয়ে। ২০১৬ সালে এক interview তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁর পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর work দ্বারা। “আমার কাজই আমার পরিচয়”—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নাম থেকে ‘খান’ সরিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন। এটি ছিল নামের সাধারণ অপসারণ নয়, বরং এক সামাজিক গণ্ডি ভাঙার ঘটনা।
নামের বানানও তিনি নিজের মতো করে গড়ে তুলেছিলেন। ইংরেজিতে ‘Irfan’ নয়, তিনি লিখতেন ‘Irrfan’—দুটি ‘R’ নিয়ে। তাঁর মজার মন্তব্য ছিল, এতে নামটা roll । এটি ছিল নামের সৌন্দর্য বাড়ানোর এক ছোট gesture , কিন্তু তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভারী নাম ‘সহাবজাদে ইরফান আলি খান’-কে এড়িয়ে হালকা, simple এক পরিচয়ে আসা। এটি কেবল নাম নয়, জীবন style প্রকাশ।
ইরফান ছিলেন brave —নাটকে নয়, জীবনে। নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার সঙ্গে লড়াই করেও তিনি কাজ ছাড়েননি। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন তাঁর দায়বদ্ধতার কাছে অটুট। থিয়েটার থেকে শুরু করে হলিউড, প্রতিটি stage তিনি নিজেকে খুঁজেছেন কাজের মধ্যে। পদবি নয়, পারফরম্যান্সই ছিল তাঁর স্বাক্ষর।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে, ইরফান কেবল একজন অভিনেতা নন—তিনি একটি thought , একটি অবস্থান। নামের আড়ালে লুকানো পরিচয়ের বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন কাজের আলোয় নিজেকে উজ্জ্বল করে তোলা। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি বিদায় নয়, একটি বার্তা: আপনি কে, সেটা বলে না আপনার পদবি, বলে আপনার কাজ।
‘খান’ বাদ দেওয়া ছিল এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—বাংশিকতা নয়, মানবতা বেছে নেওয়া।
আমার কাজই আমার পরিচয়—এই লাইনটা আমি নোটবুকে লিখে রেখেছি। অনুপ্রেরণা।
একটা celebrity বিখ্যাত মানুষের মধ্যে এমন নিরলস নিঃস্বার্থ ভাবনা দেখে অবাক হই।
‘Irrfan’-এ দুটি ‘R’ নিয়ে মজা করা তাঁর humor রসবোধ দেখায়—গাম্ভীর্যের সঙ্গে হালকা ছোঁয়া।
নাম পাল্টালেই বা কী হবে? কিন্তু না, এটা ছিল প্রতীকী—এক ঘোষণা যে পরিচয় বংশে নয়, কর্মে।
অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজ করে যাওয়া—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় strength শক্তি।
বড় হতে গিয়ে অনেকেই ‘খান’ বা ‘শেখ’ নাম রাখে, কিন্তু ইরফান এর উল্টোটা করলেন—অসামান্য।
পরিচয়ের রাজনীতি নয়, পরিচয়ের দার্শনিকতা—তাঁর কাহিনী শুধু সিনেমা নয়, জীবন।