‘প্রেশার কুকার’ প্রত্যাশার আয়নায় রায়হান রাফীর মুখ
‘প্রেশার কুকার’ হয়তো কোনো যুগান্তকারী সিনেমা নয়, কিন্তু রায়হান রাফীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। টানা বাণিজ্যিক সাফল্যের পর তার উপর যে audience expectation ও industry pressure তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এমন একটি কাজ দরকার ছিল যেখানে তিনি নিজের গল্প বলার ভাষা ও সীমাবদ্ধতা পুনর্মূল্যায়ন করতে পারবেন। এই সিনেমাটি তার জন্য এমন একটি পথপ্রদর্শক, যেখানে নিজেকে আবার redefine যায়।
‘প্রেশার কুকার’-এ রাফী কেবল নাটক বা কমেডি নয়, বরং ধর্ম, সামাজিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ধর্মকে কেবল একটি social structure হিসেবে না দেখে একে personal experience হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু এই ব্যক্তিকরণ কি সমগ্র সমাজের collective reality থেকে বিচ্ছিন্ন? এই প্রশ্ন তুলে ধরেছে সিনেমাটি, যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।
সিনেমাটির গল্প পাঁচটি অংশে বিভক্ত: পরাণ, সুড়ঙ্গ, তুফান, তাণ্ডব ও কর্মফল। এর মধ্যে প্রথম চারটি নাম তার নিজের আগের চারটি হিট সিনেমা থেকে নেওয়া, যা নির্মাতা হিসেবে তার ক্যারিয়ারের একটি খতিয়ান তৈরি করে। এখানে তিনি নিজের গল্পের চরিত্রদের নাম বা পরিণতির মাধ্যমে আগের চলচ্চিত্রগুলোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং একটি creative reinterpretation । এমনকি ‘পালাবি কোথায়’-এর একটি দৃশ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা শুধু শ্রদ্ধা নয়, বরং একটি ঝুঁকিপূর্ণ নাটকীয় সিদ্ধান্ত।
নারী চরিত্রগুলোকে এখানে ‘প্রধান’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রচারণায় জোর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পর্দায় তা কতটা সফল হয়েছে—সে নিয়ে প্রশ্ন আছে। নাজিফা তুষি তার চরিত্রে সম্পূর্ণ দক্ষতা দেখিয়েছেন, কিন্তু গল্পের কাঠামোয় কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। এই ব্যবধান কি শুধু নির্মাতার দায়? নাকি এটি narrative planning ও emotional authenticity নিয়ে বড় প্রশ্ন?
রাফীর আগের সিনেমাগুলো প্রায়শই নিয়তিবাদী ছিল—যেখানে প্রত্যেকে তার কর্মফল ভোগ করে। ‘প্রেশার কুকার’-এও সেই সূত্র আছে, কিন্তু এবার সেটি ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চেয়ে বেশি social failure হিসেবে ফুটে উঠেছে। এটি নির্মাতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন থাকে: কখন তিনি মানুষের জীবনকে শুধু কর্মফলের চক্র ছাড়া আরও multi-dimensional ও সম্ভাবনাপূর্ণ ভাবে দেখবেন?
‘প্রেশার কুকার’ কি সত্যিই রাফীর জন্য সৃজনশীল মোড়, নাকি শুধু আগের রেসিপিরই আরেকটি ভার্সন?
নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প বলা হয়েছে, কিন্তু প্রচারণার চেয়ে on-screen presence পর্দার উপস্থিতি কম মনে হয়েছে। এটা নির্মাতার দায় নাকি দর্শকের প্রত্যাশা?
ধর্মকে ব্যক্তিগত করে তোলার চেষ্টা ভালো, কিন্তু social context সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে তা কি বাস্তবসম্মত হয়?
পুরোনো সিনেমার নাম দিয়ে অংশ ভাগ করা—এটা কি artistic self-reference সৃজনশীল আত্ম-তুলনা, নাকি শুধু নস্টালজিয়া?
আমি নাজিফা তুষির অভিনয় দেখে মুগ্ধ, কিন্তু গল্পটার মাঝে emotional gap আবেগগত ফাঁক টের পেয়েছি। কেন এমন হলো?
‘কর্মফল’ নিয়ে গল্প চলে, কিন্তু কখনো কি hope আশা বা নতুন সুযোগ দেখানো হবে? সব কিছু কি নিয়তির হাতে?