২০২৩: বাংলাদেশের কূটনীতির এক আলোকিত অধ্যায়
২০২৩ সাল ছিল বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য এক অভিনব মোড়দাঁড়। একপাশে বিশ্বযুদ্ধের ধোঁয়া, অন্যপাশে আঞ্চলিক উত্তেজনা—সেই ঝঞ্ঝার মধ্যেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান prime minister শেখ হাসিনা নিজের উপস্থিতি দিয়ে দেশের কূটনীতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। জাপান, ভারত, কাতার, সৌদি আরব—এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও তাঁর উপস্থিতি ছিল significant । একজন নারী নেতা হিসেবে এভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে হাজির হওয়া মাত্রই একটি statement —যে বাংলাদেশ আর পেছনে নয়। তাঁর প্রতিটি সফর ছিল কেবল মিটিং নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ কেবল ঘুরে বেড়ায়নি, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছে। এপ্রিলে ইন্দো-প্যাসেফিক আউটলুক ঘোষণা করে দেশটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই অঞ্চল হবে উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু ভারসাম্যপূর্ণ নয়, বৈশ্বিক শক্তিদের জন্যও একটি warning —যে কোনো একদেশীয় আধিপত্য আমরা মেনে নেব না। পাশাপাশি জাতিসংঘের মতো international প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সোচ্চার উপস্থিতি উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিন সংকটে বাংলাদেশের strong অবস্থান আর যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলা দেশটির নৈতিক অবস্থানকে সুস্পষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সমস্যা এখনও সমাধানের দূরে। তবু বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে তন্দ্রা ছাড়েনি। চীনের উদ্যোগে পাইলট প্রকল্পের প্রচেষ্টা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু এই প্রচেষ্টা নিজেই একটি message —যে বাংলাদেশ নিষ্ক্রিয় নয়। ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা, ফিলিস্তিনে সোচ্চার অবস্থান—এসব মিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই ভারসাম্য রক্ষা বজায় রাখা কঠিন, কিন্তু বাংলাদেশ সফল।
অর্থনীতি আর কূটনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনও ঘটেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল—এসব মেগা প্রকল্প শুধু দেশের অবকাঠামো শক্তিশালী করেনি, বরং জাপান, চীন, ভারতের মতো দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক এগিয়েছে। এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে দরকষাকষি বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাজারে ভূমিকা তুলে ধরেছে। এমনকি নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে tension থাকলেও সহযোগিতার আশ্বাস বাড়ছে—যা নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব নজরে রয়েছে।
২০২৪-এ নতুন সরকার আসছে, কিন্তু কূটনীতির ভিত্তি আগের বছরই গড়ে উঠেছে। বিশ্ব এখন আরও complex —রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট, চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক presence বজায় রাখতে পারলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি হয়ে উঠবে এক অপরিহার্য খেলোয়াড়। আর ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এর নীতি যদি অটুট থাকে, তবে কোনো মহাশক্তি কখনোই এটিকে target হিসেবে দেখতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রীর leadership নেতৃত্ব সত্যিই গর্বের। কিন্তু রোহিঙ্গা ফিরে যাবে কবে?
ইন্দো-প্যাসেফিক আউটলুক ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রভাব কতটা? বিশ্লেষণ দরকার।
বোয়িং আর এয়ারবাস কেনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু আসলে কোন airline বিমান সংস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেবে?
পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে relationship সম্পর্ক নিয়ে কী হবে আগামীতে?
বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষা করা অসাধারণ। কিন্তু সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব কি সম্ভব?
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সোচ্চার ভূমিকা অনুপ্রেরণাদায়ক।
সব সফর আর ঘোষণা ভালো, কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কি প্রভাব পড়েছে?
বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলো দেখলে মনে হয়, আমরা সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছি।