প্রতিশ্রুতির প্রথম দুই মাস
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম দুই মাস কেটেছে উচ্ছ্বাস আর public trust ফিরিয়ে আনার চেষ্টায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তাঁর new plan নিয়ে সংসদে হাজির হয়েছিলেন এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকেছিলেন। ইতোমধ্যে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসায় জাতীয় praise কুড়িয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রশংসনীয় ব্যক্তিগত আচরণ আর কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনো কোনো মজবুত action নেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নিয়মিত অফিসে আসছেন, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন এবং প্রটোকল ছাড়া চলাফেরা করছেন—এমন ছোট ছোট উদ্যোগ মানুষের মন জয় করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস বিতরণের মতো কাজগুলোতে সরাসরি মানুষের support পেয়েছেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি, যানজট কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে—এসব পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু এগুলো কি দীর্ঘমেয়াদি economic recovery -এর বিকল্প হতে পারে?
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সরকারের আসল priority হওয়া উচিত ছিল ব্যবসায়িক খাত পুনরুজ্জীবন এবং ভুয়া মামলা নিষ্পত্তি। কিন্তু গত দুই মাসে উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো পরিষ্কার policy ঘোষিত হয়নি। ব্যাংকগুলোতে ঋণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা, এলসি নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা শিল্পখাতে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকছাঁটাই হচ্ছে, আর কর্মসংস্থানের সংকটে সামাজিক tension বাড়ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ছয় মাস অপেক্ষা করা যাবে না—এক মাসের মধ্যেই এক বছরের roadmap ঘোষণা করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, দলের নেতা-কর্মীদের কাজকর্ম প্রধানমন্ত্রীর image কালি মাখাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং ফুটপাত বরাদ্দের মাধ্যমে তাঁর নির্দেশনার বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে। ভুল তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যে তিনি বারবার ট্রলের শিকার হচ্ছেন। জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে সরকারের দাবি আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান আছে—পাম্পে তিন থেকে আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো মানুষের মুখে সরকারের claim নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো response দেখা যাচ্ছে না।
সংসদে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় নাম আসায়। কিন্তু সরকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত তারা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন প্রতিশ্রুতির আশা এখনো বাকি, কিন্তু সময় কম। মানুষ প্রশ্ন করছেন—প্রধানমন্ত্রী শুধু আশা জাগাবেন নাকি আসল পরিবর্তন নিয়ে আসবেন?
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিলে ভালো হয়েছে, কিন্তু এগুলো short-term support স্বল্পমেয়াদি সমর্থন ছাড়া আর কিছু না। কাজ কোথায়?
টাইম ম্যাগাজিনে নাম উঠলে international recognition আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়, কিন্তু রাস্তায় মানুষ তেল পেতে দিন দিন লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এটা কী পরিবর্তন?
প্রধানমন্ত্রী নিজে সাদামাটা জীবনযাপন করলেও তাঁর দলের লোকজন আবার পুরনো ধরনের corruption দুর্নীতি নিয়ে ফিরে এসেছে। এতে আস্থা কমে।
যে সরকার জ্বালানি সংকটে public pressure সাধারণ চাপ মোকাবিলা করতে পারছে না, তারা কীভাবে বড় অর্থনৈতিক সংস্কার করবে?
ব্যবসায়ীরা বলছে ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে। ঋণ না পেলে business growth ব্যবসার বৃদ্ধি হবে কীভাবে?
প্রতিশ্রুতির চেয়ে real action বাস্তব কদম দরকার। কথা নয়, কাজ চাই।