ব্রেট লির সঙ্গে আশা ভোসলে যুগলবন্দি, সৃষ্টি হয়েছিল অনবদ্য গান, কীভাবে হয়েছিল সম্ভব? ফিরে দেখা...
আশা ভোসলের মৃত্যুতে যেন থমকে গেল সমগ্র ভারতীয় সঙ্গীত জগৎ। ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিরবিদায় নেওয়া এই কিংবদন্তি গায়িকার অনন্য কণ্ঠস্বর আর কখনও নতুন করে রেকর্ডিং স্টুডিওতে গুঞ্জিত হবে না। তবু তাঁর জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত এখনও শোনা যায় সেই গানে, যেখানে নতুন সহযোগিতাটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত—অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেট লি আর ভারতের গায়িকা আশা ভোসলে।
২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত "ইউ আর দ্য ওয়ান ফর মি" গানটি ছিল না মাত্র একটি সঙ্গীত, ছিল এক সাংস্কৃতিক impact ঘটনা। ক্রিকেট ও সঙ্গীতের এই বিরল মেলবন্ধন গোটা এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা হয়তো কোনও প্রমোশন, কিন্তু ব্রেট লির নিজের আত্মজীবনীতে তিনি এটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম best achievement হিসেবে উল্লেখ করেন।
গানটির সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়কর দ্রুততায়। ব্রেট লি জানান, মাত্র আধঘণ্টায় তিনি লিরিক্স লিখে ফেলেছিলেন। গানের শুটিং হয়েছিল ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়। আশা ভোসলের warm behavior দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁকে ভারতীয় সঙ্গীতের "আরেথা ফ্র্যাঙ্কলিন" বলে অভিহিত করেন। এই recognition ছিল তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের আরেকটি মুকুটমণি।
পরে সিডনি অপেরা হাউসে তাঁদের আবার দেখা হয়, যেখানে ব্রেট লি আশা ভোসলের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত অ্যালবাম পান। এই ঘটনাটি শুধু একটি স্মৃতি নয়, এটি ছিল ক্রিকেট ও সঙ্গীতের জগতের মধ্যে এক বিরল connection । এমন মুহূর্তগুলি সময়ের স্রোতে ভেসে যায় না, বরং সাংস্কৃতিক heritage হয়ে থাকে।
আশা ভোসলের প্রয়াণে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গীত এখনও অমর। "পিয়া তু আব তো আজা", "কাজরা মহব্বত ওয়ালা", "রঙ্গিলা রে"-সহ অসংখ্য গান আজও নতুন প্রজন্মকে মুগ্ধ করে। আর সেই তালিকায় বিশেষ জায়গা রয়েছে সেই গানটির, যেখানে একজন ক্রিকেটার আর এক সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী মিলে created history করেছিলেন। সেটি শুধু একটি গান নয়, ছিল ভাবনার এক বার্তা—সৃজনশীলতা কখনও সীমানা মানে না।
এখনও মনে আছে টিভিতে প্রথম বার ওই গানটা চলছিল, মনে হচ্ছিল কী অদ্ভুত fusion মিশ্রণ! কিন্তু কত ভালো লাগছিল।
আশা দিদি ছাড়া আর কে পারতেন এমন কিছু করতে? একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে গান—এটা ছিল সাহসের decision সিদ্ধান্ত।
ব্রেট লি এতটা মুগ্ধ হবেন, ভাবতেই পারিনি। তাঁর কথা শুনে বোঝা যায়, আশা দিদি শুধু কণ্ঠ নয়, মানুষটাই ছিলেন অনন্য।
মাত্র আধঘণ্টায় লিরিক্স? এটা হয়তো সত্যি, কিন্তু গানটা যে কত lasting value স্থায়ী মূল্য পাবে, তা তখন কেউ ভাবেনি।
আমরা অনেকেই ভাবি সেলিব্রিটিরা শুধু প্রমোশনের জন্য কাজ করেন। কিন্তু এটা ছিল সত্যিকারের passion আবেগ, শুনলেই বোঝা যায়।
এখন আর কখনও আশা দিদির কণ্ঠ নতুন করে পাব না। কিন্তু গানগুলো তো আছে। এবং সেই তালিকায় ব্রেট লির সঙ্গে ওই গানটা সবচেয়ে বিশেষ memory স্মৃতি।