নার্গিস মোহাম্মাদি: নোবেলজয়ী যাঁর কণ্ঠস্বর কারাগারে ভেঙে পড়ছে
ইরানের জেলে নার্গিস মোহাম্মদির শরীর ভাঙছে—health অবনতির সঙ্গে বাড়ছে পৃথিবীজুড়ে উদ্বেগ। কারাবন্দী নোবেল পুরস্কারজয়ীর জন্য এখন চিকিৎসার জরুরি আবেদন করছে পরিবার, পাশাপাশি নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি। কয়েকদিন আগে তাঁকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি স্থানীয় hospital নেওয়া হয়, কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, treatment শুরু করা হয়েছে অত্যন্ত দেরিতে। তাঁর ভাই বলেছেন, হঠাৎ রক্তচাপ অনেকটাই কমে গেছে, আর চিকিৎসকেরা এখনও তা স্থিতিশীল করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় তাঁকে উন্নত সুবিধা সম্পন্ন medical ব্যবস্থায় স্থানান্তর চাওয়া হচ্ছে।
নার্গিস মোহাম্মদি তাঁর জীবনে ইতিমধ্যে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন—মানবাধিকার activist হিসেবে তাঁর সাহসী কণ্ঠস্বরের জন্য বহুবার সরকারি দমন-নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর অবস্থান আরও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু গত ডিসেম্বরে তেহরানের এভিন কারাগার থেকে সাময়িক release পাওয়ার পর মাশহাদে এক স্মরণসভায় বক্তৃতা দেওয়ার পর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় মারধরের শিকার হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল, জানান তাঁর পরিবার।
তাঁর ভাই হামিদরেজা মোহাম্মাদি জানিয়েছেন, জানজান কারাগারে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায় নার্গিসকে—হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর আগে থেকেই heart , lung ও রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। তার পরও জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে পাঠাতে অস্বীকার করেছিল। এমন বৈষম্যমূলক আচরণ কেবল তাঁর জীবনকে বিপন্ন করছে না, বৈশ্বিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গেও সংঘাত তৈরি করছে। নোবেল কমিটির প্রধান ইয়ুর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস স্পষ্ট করেছেন, life এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে মোহাম্মাদির।
২০২১ সালে তাঁকে charged করা হয় ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগে—যা তিনি সবসময় অস্বীকার করেছেন। মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা হয়েছে তাঁর। গত ফেব্রুয়ারিতে আরও সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ও যোগসাজসের অভিযোগে। তাঁর আইনজীবী এই সাজাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক নোবেলজয়ী মানুষের এমন অমানবিক treatment বিশ্ব মানবাধিকার সম্প্রদায়কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নার্গিস মোহাম্মাদি শুধু একজন রাজনৈতিক বন্দী নন—তিনি ইরানের নির্বাসিত নারীদের কণ্ঠস্বর। তাঁর লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য। তাঁর বর্তমান অবস্থা একটি প্রতীক—কতটা ভাঙা হতে পারে একজন মানুষ, যখন তাঁর অপরাধ শুধু কথা বলা। উন্নত care তাঁর জন্য নয়, এটি মানবতার জন্য প্রয়োজন। তেহরানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে তাঁকে পাঠানোর দাবি এখন কেবল পরিবারের নয়, সমগ্র বিশ্বের।
একজন নোবেলজয়ীকে এভাবে মারধর করা হচ্ছে? এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। মারধর কখনই স্বীকৃতি হতে পারে না।
তাঁর হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল, তারপরও হাসপাতালে না পাঠানো কতটা নির্মম। এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়?
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি শুধু ঘোষণা দিয়ে থাকবে? বাস্তব চাপ প্রয়োগ কবে শুরু হবে?
নারী, মানবাধিকার, স্বাধীনতা—তিনটি শব্দের প্রতীক নার্গিস। তাঁকে বাঁচালে একটি বার্তা যাবে: voice কণ্ঠস্বর চিরতরে চেপে রাখা যায় না।
১৫৪টা বেত্রাঘাত? আজকের দুনিয়ায় এটা কি সম্ভব? বেত্রাঘাত মানুষকে পশু বানায়।
নোবেলজয়ী হওয়ার পরেও এমন আচরণ? পুরস্কার কি তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি? protection সুরক্ষা চাই মানুষের, নামের জন্য নয়।
তেহরানের হাসপাতালে চিকিৎসা হোক—এটাই চাওয়া যাচ্ছে এখন। রাজনীতি বাদ দিয়ে মানুষ হিসেবে তাঁকে দেখুন।
জেল থেকে মুক্তি, আবার গ্রেপ্তার—এটা কি শেষ হবে কোনোদিন? তাঁর জীবন কি এখন রাজনীতির বন্দী?