চাঁদপুরের ছেলে, দেশের তারকা: শান্ত চন্দ্র সূত্রধরের উড়াল
একটি সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের entertainment জগতে নতুন ঝড় তুলেছেন শান্ত চন্দ্র সূত্রধর। ‘উড়াল’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় শুধু দর্শকদের মুগ্ধ করেনি, সমালোচকদের কাছেও প্রমাণ করে দিয়েছে যে নতুন প্রজন্মের হাতে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিরাপদ। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই চাঁদপুর থেকে শুরু করে সারাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের ঢেউ। এই পুরস্কার, যা প্রায়শই অস্কার হিসেবে পরিচিত, তার ব্যক্তিগত লড়াই, পরিশ্রম এবং অনন্য প্রতিভার স্বীকৃতি। তার অভিনয় ছিল এমন স্বতঃস্ফূর্ত যে দর্শক মুহূর্তেই চরিত্রের সঙ্গে connect স্থাপন করে।
পুরস্কার অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে, যেখানে জমকালো আলো, সঙ্গীত এবং performance মিলিয়ে সারা রাত জুড়ে চলে এক উৎসব। প্রখ্যাত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম নিজ হাতে শান্ত চন্দ্র সূত্রধরকে পুরস্কার তুলে দেন, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। সেই মুহূর্তটি ছিল গভীরভাবে emotional , যা টেলিভিশন দর্শকদের মনও ছুঁয়ে যায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আফরান নিশো এবং মেহজাবীন চৌধুরী, যাদের lively উপস্থাপনা সমগ্র অনুষ্ঠানকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
শান্তের সাফল্যের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে কঠোর প্রস্তুতি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক, চলচ্চিত্র এবং গণযোগাযোগে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ভারত সরকারের উচ্চতর শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া এই তরুণ অভিনেতা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয়, ব্যবহারিক দক্ষতাও গড়ে তুলেছেন। চাঁদপুরের নাট্যগোষ্ঠী ‘কর্ণচোরা’-র মাধ্যমে তার অভিনয় যাত্রা শুরু হয়, যেখানে তিনি stage জীবনের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছান, পার্শ্বচর ভূমিকা থেকে এগিয়ে এসে আজ দেশের শীর্ষ অভিনেতাদের সারিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এই পথে তাকে পার হতে হয়েছে সীমিত সুযোগ, প্রতিযোগিতা এবং নানা obstacle ।
পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশও তার শিল্পীসত্তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার বাবা লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংস্কৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ রাখতেন। এই পটভূমি শান্তকে শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করে। পুরস্কার প্রাপ্তির পর তিনি বলেন, support এবং ভালোবাসা একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জানান, নতুন সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন, তবে বিস্তারিত ফাঁস করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ভবিষ্যতে বৈচিত্র্যময় ও diverse চরিত্রে কাজ করতে চান।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, শান্ত চন্দ্র সূত্রধরের আবির্ভাব ঘটেছে ঠিক সেই সময়ে যখন বাংলাদেশি সিনেমা নতুন করে জাগছে। নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থানের মধ্য দিয়ে শিল্পটি এখন নতুন opportunity খুঁজে পাচ্ছে। শান্তর মতো প্রতিভাবান অভিনেতা এই প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তার গল্প শুধু চাঁদপুরের নয়, সারা দেশের তরুণদের inspiration । জেলা শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের এই গল্প প্রমাণ করে যে প্রতিভা এবং পরিশ্রম থাকলে সীমানা ভাঙা সম্ভব। এখন প্রশ্ন, তিনি কি এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন? future সেটাই বলবে, কিন্তু শুরুটা যে অসাধারণ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রথম সিনেমাতেই এত সাফল্য? অবিশ্বাস্য! talent প্রতিভা সত্যিই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো ছোট শহরে।
আমাদের এলাকার ছেলে যে এত বড় কিছু করবে, সেটা ভাবিনি। তার বাবা তো আমাদের প্রেসক্লাবে নিয়মিত ছিলেন।
workshop কর্মশালা থেকে শুরু করে মঞ্চ, তারপর সিনেমা—তার যাত্রাটা খুব সুগঠিত। এটা আসল প্রস্তুতি।
রিচি সোলায়মান যখন পাশে দাঁড়ালেন, তখন মনে হলো তারা দুজনেই পুরস্কার পেলেন! কেমিস্ট্রি ছিল স্পষ্ট।
পুরস্কার পেয়েছেন, ভালো কথা। কিন্তু এখন দেখা যাক পরের সিনেমাতে কতটা টিকে থাকেন।
ওয়েব সিরিজ এবং OTT-এর যুগে এখন অনেক নতুন প্ল্যাটফর্ম। platform প্ল্যাটফর্ম বদলাচ্ছে, কিন্তু গল্প আর অভিনয়ই রাজা।
আমিও নাটক করি কলেজে। শান্ত ভাইয়ের গল্প শুনে মনে হচ্ছে—হয়তো আমিও পারব।
গিয়াসউদ্দিন সেলিম যখন পুরস্কার দিলেন, তখন মনে হলো প্রজন্মের মেরুদণ্ড হস্তান্তর হচ্ছে।