প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে গুজব উড়িয়ে দিলেন সরকারি মুখপাত্র
গুজব ছড়িয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শীঘ্রই India সফরে যাবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তা স্পষ্টভাবে নাকচ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কয়েকটি গণমাধ্যমে এই information ছড়িয়ে পড়ার পর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বুধবার রাতে ঘোষণা করেন, এ সবই ভিত্তিহীন। প্রধানমন্ত্রীর কোনও রাষ্ট্রীয় সফরের তারিখ বা গন্তব্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
রুমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের মিথ্যা তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। তিনি public , journalists , এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানান – গুজবে কান না দেওয়ার এবং ভেরিফাইড আনুষ্ঠানিক উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি সফর হয়, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
একই বার্তা ফেসবুকেও শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা, যাকে সবাই সুজন মাহমুদ নামে চেনেন। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হবে, তা-ও এখনও ঠিক হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো ভিত্তিহীন। গুজবে বিশ্বাস না করার অনুরোধ তিনি জানান সরাসরি।
এই ঘটনা শুধু একটি ভ্রান্ত খবর নয়, এটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশের তথ্য পরিবেশ-এর একটি প্রতিফলন। কখনও রাজনৈতিক পক্ষ, কখনও বা অজানা সূত্র থেকে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয় যা সার্বিক ধারণা প্রভাবিত করে। এবারের ঘটনায় স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি জাতীয় আলোচনার বিষয়। ভারতের সাথে সম্পর্ক, বিগত ইতিহাস, এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি – সবই এখানে মাথা চাড়া দেয়।
যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এত স্পষ্টভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, তার অর্থ এই গুজব শুধু ছড়ায়নি – এটি কার্যকর প্রভাব ফেলার মতো ছিল। কিন্তু প্রশ্ন থাকে: কারা এই গুজব ছড়িয়েছে? কেন? এবং কীভাবে এত দ্রুত এটি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার চক্রে ঢুকে পড়ল? উত্তর ছাড়াই এই প্রশ্নগুলো আপাতত ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আবার কি ভারতে যাওয়া নিয়ে এত হইচই? প্রধানমন্ত্রী কোথাও যাবেন না আগেই বলা হয়েছে। এসব গুজব ছড়াচ্ছে কে? রাজনীতি নাকি মিডিয়া বিভ্রাট?
এই ভুয়ো তথ্য আসলে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের সাধারণ মনোভাব নষ্ট করার চেষ্টা। যে কেউ একটু মস্তিষ্ক খাটালেই বুঝবে, এত বড় সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হয়ে কীভাবে খবর বেরোয়?
আমার ফেসবুকে পুরো গ্রুপেই লাইক আর শেয়ারের বন্যা চলছিল। কেউ জিজ্ঞাসা করেনি উৎস কোথায়। এক বন্ধু বলেছিল, ‘এই সফর মানে সম্পর্কের উন্নতি।’ আমি কিছু বলিনি। আজ বুঝলাম, কতটা ভুল পথে চলছিলাম।
গুজব ছড়ানো এখন একটা কৌশল। রাজনৈতিক পক্ষ জানে, মানুষ প্রথমে react প্রতিক্রিয়া দেয়, তারপর verify নিশ্চিত করে না। এই ফাঁকে মিথ্যা ঘর করে নেয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কোন দেশে যাবেন, সেটাই না ঠিক হয়েছে? কী অদ্ভুত! তার মানে সরকারের কাছেও কোনও বৈদেশিক নীতির পরিকল্পনা নেই? গুজব মিথ্যা হতে পারে, কিন্তু দ্বিধা তো বাস্তব।
রুমন ভাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এর পরেও যারা বলবে সফর হচ্ছে, তাদেরকে সত্য যাচাই করতে বলব। সরকারি হ্যান্ডেল ছাড়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মানা হবে না।
সবচেয়ে হালকাভাবে নেওয়া বিষয়টা হলো — কেন ঠিক India ভারতই হবে প্রথম গন্তব্য? কানাডা বা যুক্তরাজ্য নয়? এখানে লুকিয়ে আছে একটা ভূরাজনৈতিক ইঙ্গিত।
আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার কাছে গুজব ছড়ানো এবং গণমাধ্যম হেনস্তা দুটোই সমান বিপজ্জনক। এগুলো আমাদের trust বিশ্বাস ভাঙে।