নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা: আইন নাকি রাজনীতি, নাকি উভয়ই?
আগামী রোববার থেকে ফের শুরু হচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার শুনানি। এই ঘটনা সাধারণ ordinary আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে ঢের বেশি কিছু — এটি এমন এক রাজনৈতিক মুহূর্ত যা ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে এক নির্ধারক পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলাকালীন সময়ে এই মামলার শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু সেই অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে, আদালত আবার resumes করছে নিয়মিত কার্যক্রম। আদালতের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে চার দিন — রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত — নিয়মিত শুনানি হবে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উঠে থাকা অভিযোগগুলো অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর: ঘুষ, জালিয়াতি এবং আস্থার অপব্যবহার। এই মামলাগুলো নতুন কিছু নয় — এগুলো ২০১৯ সাল থেকেই চলছে। কিন্তু যুদ্ধ এবং জাতীয় সংকট এর আড়ালে এই মামলার বিচার আড়াল হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার সেটি আলোর মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনি ভবিষ্যতের নয়, বরং সমগ্র ইসরায়েলি রাজনৈতিক চিত্রের সঙ্গে জড়িত। একদিকে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্রমাগত আবেগপ্রবণ আনুগত্য আছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে: কি হবে যদি দোষী সাব্যস্ত হন? আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, তা হলে তাঁর পদত্যাগ বাধ্যতামূলক হবে না, কিন্তু রাজনৈতিক চাপ অসহনীয় হয়ে উঠবে। আর যদি দোষমুক্ত ঘোষিত হন, তবে তা তাঁর সমর্থকদের জন্য নৈতিক জয় হয়ে উঠবে।
এই মামলা শুধু ইসরায়েলের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিশ্বব্যাপী নজর রাখছে। আইনের শাসন এবং দুর্নীতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের দৃষ্টান্ত কেমন হয়, সেটি এখন সবার চোখের সামনে।
আইনের সামনে সবাই সমান, এমনকি ক্ষমতাশীল নেতাদের জন্যও। এই মামলা সেই নীতির জন্য পরীক্ষা।
ভাবছি, কি হবে যদি এই সময়েই জোট সরকার ভেঙে যায়? তখন আইনি বিচার আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা একসাথে মাথাচাড়া দেবে।
আমার কাজ ইসরায়েলে। আমি সেখানকার কর্মীদের মধ্যে মানুষের মতামত অনুযায়ী দেখছি — অনেকেই বিরক্ত! যুদ্ধ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা — আর এখন আবার দুর্নীতি মামলা নিয়ে আলোচনা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হচ্ছে, কিন্তু আমার প্রশ্ন — বিচার বিলম্বিত হলে কি সেটা আদৌ justice বিচার থাকে? এই মামলা কি শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে গেল?
ক্ষমতার ঘরে বসে যারা দুর্নীতি করে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু timing সময় নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুদ্ধের সময় না করে এখন করা কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত?
আমি কখনো আশাবাদী হই না, কিন্তু এই বিচার দেখে একটু মনে হচ্ছে — হয়তো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও কাজ করছে।
পড়ছি নেতানিয়াহুর মামলার বিস্তারিত। একটা কথা বারবার ভাবি — অপরাধমুক্তির সংস্কৃতি যদি শীর্ষ পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র কি survive টিকে থাকে?
একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার চলছে — শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এটাই কার্যকর গণতন্ত্রের নমুনা। আমি আশা করি, এটি নিরপেক্ষ বিচার হবে।