আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না: আব্দুল মোমেন
কোভিড মহামারির পর আওয়ামী লীগ সরকার ধীরে ধীরে জনগণ থেকে the public থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তৎকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল কিছু নেতার corruption এবং চাঁদাবাজির প্রতি ঝুঁকে পড়া। এর ফলে পদোন্নতি দেওয়া হতো টাকার বিনিময়ে, আর আসল জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গিয়েছিল। মন্ত্রীরা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার opportunity পেতেন না।
মোমেন বলেন, কোভিডের আগে প্রতিদিনের মতো ক্যাবিনেট মিটিং-এর পর প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতেন। কিন্তু মহামারির পর থেকে সেই বৈঠকের পর তিনি তাড়াতাড়ি চলে যেতেন। এটি distance তৈরি করেছিল, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ে। ministers এমনকি কথা বলার জন্য দৌড়ে গেলেও সিকিউরিটির লোকজন তাদের সরিয়ে দিত। এতে রাজনৈতিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের অসন্তোষ সম্পর্কে জানানোর chance পেতেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংসদে তিনি বারবার চাঁদাবাজি ও misconduct বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে সিলেটের বিমানবন্দরের কাজের বিলম্ব তুলে ধরেন, যেখানে তিন বছর পার হয়ে গেলেও কাজ শুধু ১০ শতাংশই হয়েছে। এর পেছনে তিনি project delay এবং দুর্নীতির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা দেরি করে প্রকল্পের বাজেট বাড়ায় এবং অতিরিক্ত টাকার ৮০ শতাংশ গ্রাস করে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে কোটা পরিবর্তনের পক্ষে ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক সাহসের অভাবে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আব্রাহাম লিংকনের দাসত্ব বিলোপের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, কিছু বিষয়ে political decision নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেতাদের আঁতাত ছাড়া কোনো দুর্নীতি সম্ভব নয়। অর্থ ছাড়পত্র কর্মকর্তাদের হাতে, তাই তাদের সহযোগিতা ছাড়া কেউ একা টাকা আত্মসাৎ করতে পারে না।
মোমেনের এই মন্তব্যগুলো সরকারের শেষ দিকের গুরুতর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভাটতির ছবি তুলে ধরে। তিনি বলেন, অনেক নেতা কেবল প্রশংসা শুনতে চান, কিন্তু সমালোচনা শোনার মানসিকতা থাকে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার পিয়নের কাছেও কোটি কোটি টাকা। এটি ক্ষমতার দীর্ঘ অবস্থানের পর অপকর্মের একটি inevitable outcome বলে তিনি মনে করেন।
একজন সাবেক মন্ত্রীর এত খোলামেলা সমালোচনা দেখে অবাক লাগছে। আগে কেউ এমন কথা বলতে পারত না।
মন্ত্রীরা access প্রবেশাধিকার পেতেন না? তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা কে শুনবে?
যদি কর্মকর্তারা সব নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে নির্বাচিত নেতারা কী করছেন? এটা তো গণতন্ত্রের বিপরীত।
প্রকল্পের দেরি হলে বাজেট বাড়ে—এটাই তো দুর্নীতির মূল হাতিয়ার। একে কি কখনো বন্ধ করা যাবে?
রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত—কিন্তু সেটা তো ক্ষমতার হাতে। ক্ষমতাশীনরা কি কখনো নিজেদের বিরুদ্ধে action ব্যবস্থা নেবে?
সিলেটের বিমানবন্দর নিয়ে তিনি ঠিক বলেছেন। তিন বছরে ১০%? এটা তো কোনো বিমানবন্দর না, বরং symbol প্রতীক হয়ে গেছে দুর্নীতির।
যদি পিয়নের কাছে কোটি টাকা থাকে, তাহলে আসল ক্ষমতা কার হাতে? এই প্রশ্ন সবার মাথায় ঘুরছে।
এখন সবাই সমালোচনা করছে, কিন্তু তখন কেউ কি কিছু বলেছিল? না বলে আজ কেন regret অনুশোচনা?