স্বাস্থ্য কার্ডের আশ্বাস: সেবা কি ঘরে ঘরে পৌঁছাবে?
গ্রামের ধুলোয় মিশে থাকা সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে রাজধানী। এবার কৃষক কার্ড আর পরিবার কার্ডের পর পথ খুঁজছে health কার্ড। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আগামীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই কার্ড হতে পারে এক বড় ভরসা। কেবল কার্ডই নয়, হাসপাতালগুলোতেও আনা হবে বিশেষ নজরদারী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ স্পষ্ট: স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছতে হবে ঘরে ঘরে। এজন্য people কাছে যেতে হবে, তাদের সঙ্গে মিশতে হবে। সেই মন্ত্রীর কথা শোনা গেল টাঙ্গাইলের এক গ্রামীণ চত্বরে।
সেদিন শনিবার, ২ মে, মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নে শিশুদের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে সচেতনতা ফেলার আয়োজন করা হয়েছিল। চাইল্ড হেলথ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সেবা যেন কোনো বিলাস না হয়ে ওঠে, তার জন্য কাজ চলছে প্রতিদিন। এই ঘটনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝে medicine বিতরণ করা হয়। সেই দৃশ্যে মনে হয়, কার্ডের চেয়েও বড় কথা হতে পারে এই মাটির সঙ্গে সম্পর্ক। মন্ত্রী শুধু নির্দেশ দেননি, তিনি সেদিন নিজেই ছিলেন মানুষের সারির মাঝে। এমন উপস্থিতি হয়তো government এর নতুন ভাবমূর্তি।
সেদিন মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন ড্যাবের মানবাধিকার বিষয়ক সহসম্পাদক ডা. আসলামুল ইসলাম রুদ্র। অর্থাৎ, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা। এই ধরনের কার্যক্রম শুধু চিকিৎসা দেয় না, সৃষ্টি করে awareness । জনগণ জানে না কেন, কীভাবে তারা সুবিধা পাবে—এ ফাঁক মেটাতে এমন ক্যাম্প হয়ে উঠতে পারে সেতু। মন্ত্রী বারবার বলেছেন, কার্ড বা ক্যাম্প নয়, মূল লক্ষ্য হলো পরিবর্তন। একটি ব্যবস্থা যেন আর কারও পক্ষপাত না করে। এই ভাবনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু কথা থেকে কাজে রূপ নেওয়াটাই এখন নজরে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃত্বের অনেকেই—বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সহসভাপতি এম রতন হায়দার—যারা রাজনৈতিক ভাবনার চেয়ে সেদিন মানুষের সমস্যার কথা বেশি তুলে ধরেছেন। মন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা: রেশমা আনামও ছিলেন উপস্থিত। এমন মুখগুলো দেখে মনে হয়, স্বাস্থ্য সেবা আর কোনো দলীয় ইস্যু নয়। এটি এখন public এর অধিকার। মন্ত্রী আগেই আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, যা দাঁড়াবে সেবার একটি স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে। ভবন হোক বা কার্ড, মূল কথা হলো সেবা যেন কখনো থেমে না যায়। সেই বার্তা ছিল স্পষ্ট।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই স্বাস্থ্য কার্ড কতটা দ্রুত হাতে পাবে সাধারণ মানুষ? কী ধরনের সুবিধা থাকবে তাতে? কারা যোগ্য? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট—সরকার চাইছে না যেন কেউ চিকিৎসার জন্য দরজায় দরজায় ঘোরে। তাই সেবা নিয়ে আসা হবে দরজায়। এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, সেটা সময়ই বলবে। তবে এতদিন যে স্বাস্থ্য ছিল শহরের বড় হাসপাতালের কথা, আজ তা নামছে ক্ষুদ্র ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে। একটা সুর বাজছে—পরিবর্তনের। আর সেই সুরে মিশে আছে আশা।
ভালো উদ্যোগ, কিন্তু কার্ড পেতে কত time সময় লাগবে কেউ জানে?
আমাদের এলাকায় এখনো ডাক্তার নেই, কার্ড এলেও কী কাজ হবে?
সচেতনতা ক্যাম্প দেখে ভালো লাগলো। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটা খুব important গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার যদি হাসপাতালে আসল নজরদারী দেয়, তাহলে সত্যিই কিছু বদল আসবে।
একটা কার্ড দিয়ে সব সমস্যা সমাধান হবে না। আসল কাজ হচ্ছে সেবার quality মান বাড়ানো।
আমার মতো দুঃস্থ পরিবারের জন্য এটা আশীর্বাদ হতে পারে। প্রার্থনা করি যেন সত্যিই হয়।
মন্ত্রী বারবার service সেবা শব্দটা বললেন, কিন্তু বিস্তারিত কিছু বললেন না।
আগে কৃষক কার্ড, এখন স্বাস্থ্য কার্ড—দেখা যাক কতটা বাস্তবায়ন হয়।