শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে ভূমিকম্প: দুর্নীতির অভিযোগে বোর্ড ভাঙল, নতুন যাত্রা কবে?
একটি ক্রিকেট বোর্ডের chairman হওয়া মানেই শুধু ম্যাচ আয়োজন করা নয়, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় সেই দায়িত্ববোধ ক্রমে পরিণত হয়েছে বিতর্কে। শাম্মি ডি সিলভার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে সরকার তাদের committee ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একজন বোর্ড কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ পদক্ষেপ নয়, বরং ক্রিকেট প্রশাসনে অপব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক জনগণের প্রতিক্রিয়া, যা পৃথিবীর অন্যান্য ক্রিকেটিং জাতিও নজর দিয়ে দেখছে।
শাম্মি ডি সিলভা চার মেয়াদে বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে তিনবার তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমন এক প্রক্রিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন— কতটা transparent ছিল এই নির্বাচন? কীভাবে একই ব্যক্তি বারবার ক্ষমতায় আসেন অথচ কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? এসএলসির প্রতি জনগণের বিশ্বাস কমে যাওয়ায় বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল। সরকার শেষপর্যন্ত সেই চাপে সাড়া দিয়েছে। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের পতন নয়, বরং ক্রীড়া প্রশাসনে শাসন ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, নতুন অন্তর্বর্তী কমিটি কীভাবে গঠিত হবে? বোর্ড কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক এক বিনিয়োগ ব্যাংক কর্মকর্তাকে প্রধান করে এটি গঠন করা হতে পারে। এমন একজনের নেতৃত্বে কীভাবে ক্রিকেট প্রশাসন চলবে, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। কিন্তু সরকার শুধু বোর্ড ভাঙলেই সব সমাধান হয়ে যাবে না। তাদের কাছে এখন জবাবদিহিতা চাইছে মাঠের ক্রিকেটাররা, ভক্তরা, এমনকি স্টেকহোল্ডাররাও। কারণ, শুধু মুখ্য ব্যক্তি বদলালেই সংস্কৃতি বদলায় না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা। তবে প্রায় দুই মাস পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এবারের ঘটনা দেখে আইসিসি আবারও নজরদারি শুরু করেছে কিনা, তা জানা নেই। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে— যেখানে reform নয়, transparency এবং আন্তরিকতা হবে মূলমন্ত্র। কারণ, ভক্তরা আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি মানতে রাজি নন।
বারবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন? এটা কি আদৌ election নির্বাচন নাকি নিয়োগ?
নতুন কমিটি কারা হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রক্রিয়াটা কতটা fair ন্যায্য হবে, সেটা দেখতে হবে।
সরকার সরে দাঁড়ালেও আসল কাজ শুরু হয়নি। এখনও অনেক কিছু বদলাতে হবে।
আইসিসি আবার নজরদারি শুরু করলে আমাদের মতো ভক্তদের জন্য লজ্জা হবে।
দুর্নীতি থামবে না, শুধু মুখ বদলাবে। হাসির খেলা চলছে।
আশা করি নতুন নেতৃত্ব শুধু নাম নয়, কাজেও প্রমাণ করবে। দলের performance পারফরম্যান্স উন্নত হোক।
শাম্মি সিলভার ৪ মেয়াদ? এটা ক্রিকেট না কোনো রাজতন্ত্র?
বোর্ড ভাঙা সহজ, কিন্তু ভাঙা বিশ্বাস গড়ে তোলা কঠিন।