যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের অর্থনীতি: ডলার ছাড়া বাঁচার কৌশল
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইরান, কিন্তু তার অর্থনীতি উল্টো আগুন ধরে জ্বলে উঠছে। মার্কিন sanctions আর ইসরায়েলি আক্রমণের মধ্যেও তেহরান তার লেনদেনের চাবিকাঠি বদলে ফেলেছে। ডলারের বদলে এখন তারা ভরসা রাখছে cryptocurrency , রেনমিনবি আর পুরনো হুন্ডি নেটওয়ার্কে। যে নিষেধাজ্ঞা একসময় সরকারকে মুড়ি মুড়কানো করত, আজ তার ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠছে এক বিকল্প অর্থনীতি। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি আর শুধু বাঁচার প্রয়াস নয়—এটি নিরন্তরতা। ব্লকচেইন তথ্য বলছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোতে flow বেড়েছে ৬৯৪ শতাংশ। ইরানের আইআরজিসি-কে গেছে ৩০০ কোটি ডলার। এই অর্থ আর ফিরছে না ডলারের পথে।
তারা এখন জাহাজের কাছ থেকে মাশুল তুলছে bitcoin আর রেনমিনবিতে। হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পার হয়, সেখানে ইরান চালাচ্ছে নতুন ব্যবসায়িক মডেল। প্রতি ব্যারেলে কমপক্ষে ১ ডলার। আর এই মাশুল কেউ কেউ পরিশোধ করছে stablecoin দিয়ে—বিশেষ করে টিথার (ইউএসডিটি), যা কোনও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ আটকাতে পারে না। ডলারের বিপক্ষে এই বিদ্রোহ শুধু মুদ্রার নয়, এটি সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন। কারণ, আমেরিকা যখন ডলারকে হাতিয়ার বানায়, অন্যরা তখন খুঁজে পায় বিকল্প। আর সেই বিকল্প এখন mainstream প্রবেশ করছে।
কিন্তু ক্রিপ্টো কি একা? কখনো না। ইরানের পাশে আছে শতাব্দি পুরনো hawala ব্যবস্থা। একজন দালাল থেকে অন্যজনের কাছে শর্ত মেনে টাকা পাঠানো হয়, ব্যাংক ছাড়াই। আর আছে পণ্য বিনিময়—barter । শ্রীলঙ্কা চায়ে শোধ করছে ঋণ, ভারত চালের বিনিময়ে চায় তেল। পাকিস্তান আর ইরানের মধ্যে চুক্তি আছে। যুদ্ধ এই সমস্ত ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করছে। ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে চলার ফলে, মার্কিন restrictions এখন কার্যত অকার্যকর। এমনকি, ইরান তার ক্রিপ্টো জমা রেনমিনবিতে রূপান্তর করে রাশিয়া থেকে পণ্য কিনছে। এটি নয় মুদ্রা পরিবর্তন—এটি strategy ।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই পদ্ধতিগুলো শুধু ইরানকে বাঁচাচ্ছে না, তাকে আন্তর্জাতিক অংশীদার বানাচ্ছে। হুন্ডি নেটওয়ার্কে জড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো, কারণ তারাও পাচ্ছে commission আর বাণিজ্যের সুযোগ। হরমুজে আদায় করা টোল দিয়ে তারা পণ্য কিনে এশিয়া-ইউরোপে বিক্রি করতে পারে। এভাবে একটি যুদ্ধক্ষেত্র পরিণত হচ্ছে বিকল্প বাণিজ্যকেন্দ্রে। ডলারের আধিপত্য এখনো আছে—৮০ শতাংশ তেল বাণিজ্য ডলারে, ৫৭ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ডলারে। কিন্তু রেনমিনবি এখন ৩০ শতাংশ চীনা বাণিজ্যে। এটি নয় বিপ্লব, এটি ক্ষয়। এবং এই ক্ষয় আটকানো যাবে কি?
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যুদ্ধ নীতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক বিরোধাভাস। তারা ইরানকে ভাঙতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাঙার চাপে সে গড়ে উঠছে আরও মজবুত। একে বলা হচ্ছে অ্যাক্সিস অব ইভেশন—এড়ানোর অক্ষ। ডি-ডলারাইজেশন, হুন্ডি, বার্টার—এই তিনে মিলে গড়ে উঠছে এক নতুন বাজার ব্যবস্থা। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তবে হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ইরান, বরং নিষেধাজ্ঞার বৈশ্বিক পদ্ধতিটিই। আর সেখানেই লুকিয়ে আছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ—বিভাজন নাকি নতুন সমন্বয়?
এই বার্টার পদ্ধতি আসলে খুব পুরনো। কিন্তু এখন relevance প্রাসঙ্গিকতা বাড়ছে।
হুন্ডি কি শুধু ইরানের জন্য কাজ করছে? নাকি পুরো আঞ্চলিক economy অর্থনীতি বদলে দেবে?
স্টেবলকয়েন আর বিটকয়েনের পার্থক্য অনেকে বোঝে না। প্রথমটা কাউকে ফ্রিজ করতে দেয় না।
ডলারের পতন হবে না একদিনে। কিন্তু এই trend প্রবণতা বাড়লে ক্ষতি হবে পশ্চিমের।
ইরান শুধু টিকে থাকছে না, তারা শেখাচ্ছে কীভাবে নিষেধাজ্ঞা মানে না।
শ্রীলঙ্কা চা দিয়ে ঋণ শোধ করছে? এটা কি আসলে টেকসই হবে?