পরিশোধিত আ.লীগ আসছে!

‘আনপ্রেডিক্টেবল’—এই শব্দটি একসময় শুধু হুসেন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিল। তিনি সকালে এক ঘোষণা দিতেন, বিকেলে তার বিপরীতটা। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে এই unpredictable শব্দটি এখন সমগ্র দেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ‘পালায় না’ বক্তব্যের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি গণভবনের রান্না ছেড়ে পালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় আসা, ড. আলী রীয়াজের গং এবং তাদের পালিয়ে যাওয়া, আর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিএনপির অনুকম্পার ওপর নির্ভরশীল হওয়া—সব মিলিয়ে রাজনীতি এখন ‘সকালে আমির, সন্ধ্যায় ফকির’-এর গানের মতো অস্থির।

দেশের রাজনীতি ক্রমশ স্থিতিশীলের বদলে instability দিকে এগোচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, তার নিজের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। আর জামায়াত, যা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত, তা আজ জাতীয় সংসদে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। এই পরিবর্তন কেউ আগে কল্পনাও করেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা চালালেও, কিছু সাবেক নেতাকে দ্রুত released দেয়া হচ্ছে—যা অন্যদের জন্য রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। খবর হচ্ছে, শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো নেতাদের মাধ্যমে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।

এই নতুন পর্যায়ে, আওয়ামী লীগ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রভাব ফেলতে চায়। ভারত থেকে কম বিতর্কিত নেতাদের মাধ্যমে দলটি পরিচালনা করার চেষ্টা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়োগ করে জনমত গঠন করা হচ্ছে। দলের জেলা কার্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে, এবং ৩০টি জেলার উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম চলছে। আইনজীবী, মেডিক্যাল প্রফেশনাল, সাংস্কৃতিক সংগঠন—সব জায়গাতেই মুজিববাদী চিন্তাধারাকে mobilized করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন: আওয়ামী লীগ নামে না হলেও, অন্য ব্যানারে কাজ চালিয়ে যেতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন কেউ ঠেকাতে পারবে না। ড. ইউনূসের ব্যর্থতার কারণে মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। বিএনপি সরকারের অদূরদর্শিতা এবং জামায়াতের আতঙ্ক মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এনসিপি নেতারা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে তাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ঠেকাতে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আপোসের আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, জামায়াতের ১৫-দিনের রাজপথের কর্মসূচি রাজনৈতিক tension বাড়িয়ে তুলেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নূরুল আমিন ব্যাপারী সতর্ক করেছেন: আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে, তবে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির ভোট ভাঙন হবে। হিন্দু ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। জামায়াতের সাথে বিএনপির ঐক্য মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কোটি কোটি কর্মী এখনও দেশে আছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে, এবং ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব পেলেই তারা সক্রিয় হয়ে উঠবে। উপদ্রব এবং প্রতিক্রিয়ার এই চক্রে রাজনীতি আরও unpredictable হয়ে উঠছে।

প্রতিক্রিয়া 6

  • রাজন

    বিএনপি যদি জামায়াতের সাথে ক্ষমতায় থাকে, তবে আওয়ামী লীগ ফিরে আসা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। মানুষ pressure মানবে না।

  • সুমি

    জামায়াতের সংসদে আস্ফালন দেখে বাস্তবেই মন খারাপ হয়। স্বাধীনতার সৈনিকদের প্রতি অপমান মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ফিরুক কি না, কিন্তু এই insult থামুক।

  • মাহি

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও টাকার জোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে? এটা কি fair ? বিএনপি কখনো এমন করবে?

  • বিকাশ

    ‘রিফাইন্ড’ মানে কি আগের কোনও নেতাকে বাদ দেয়া? নাকি শুধু নাম পালটানো? স্পষ্ট করা দরকার।

  • তানজিন

    আওয়ামী লীগের যত নেতা পালালেন, কর্মীরা তত নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এখন তাদের support করা হচ্ছে—এটাই ন্যায়।

  • জুয়েল

    স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নামবে না, কিন্তু মুজিববাদী নামে লড়বে? এটা কি বাস্তবে আইনি ফাঁকফোকরের মতো নয়? legal কৌশল?

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]