টিপাইমুখ বাঁধ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে চালু করেছিল ভারত: সংসদে স্পিকারের মন্তব্য
জাতীয় সংসদে উঠে এলো বহুচর্চিত টিপাইমুখ বাঁধের বিতর্ক। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের requestটি মাথায় রেখেই ভারত বাঁধটি চালু করেছিল। তাঁর মন্তব্যে ছিল এক করুণ স্বীকারোক্তি: ‘আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।’ এ কথা শুধু অতীতের ভুলের ইঙ্গিত নয়, বরং বর্তমানের pressure এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকিরও প্রতিফলন।
সিলেট-৩ এর বিএনপি সদস্য আবদুল মালিক সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমে বাঁধের প্রভাব নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলেন। তিনি কালবৈশাখী ও বর্ষাকালে পাহাড়ি পানির প্রবাহে সিলেটের রাস্তাঘাট এবং বাড়িঘর ভাসমান হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, খরার সময় water scarcity মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে। তাঁর প্রশ্ন ছিল স্পষ্ট: সরকারের টিপাইমুখ নিয়ে plan কী, এবং পাহাড়ি পানির চাপ ঠেকাতে কী action নেওয়া হবে?
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, বাঁধের কারণে এক সময় পানিতে ভাসে এলাকা, আবার কখনো পানি পাওয়া যায় না। তবে ভবিষ্যতে এ সমস্যা কমাতে কাজ করা হবে বলেও জানান। এ উত্তরে স্পষ্টতার চেয়ে vagueness বেশি ছিল।
এরপরই স্পিকার নিজে এগিয়ে আসেন। পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঁধটি চালু হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমিকা কম নয়। এটি কোনো রহস্য নয় যে বিদেশ নীতির কিছু decision দীর্ঘমেয়াদে জনগণের উপর ভারী পড়ে। তাঁর মন্তব্য প্রশ্ন তোলে: আন্তর্জাতিক আলোচনায় কতটা কর্তৃত্ব আমাদের আছে, এবং ভবিষ্যতে এমন চুক্তি হাতে নেওয়ার আগে কতটা বিশ্লেষণ হয়?
টিপাইমুখ বাঁধ এখন শুধু জলবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি রাজনীতি, বিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট কৌশল দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু স্পিকারের মন্তব্য জনসাধারণের concern আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতের জন্য কী ধরনের প্রতিরোধমূলক strategy গড়ে তোলা হবে?
‘আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম’—এ কথার ভেতর কত বেদনা! আমাদের নিজেদের mistake ভুল থেকে শেখা হচ্ছে না কেন?
আমরা যখন পানির দাবি করি, তখন বাঁধ খুলুক—আবার বন্যা হলে বন্ধ করার দাবি। ভারত কীভাবে এই দ্বৈত চাপ মানবে? আমাদের consistency সামঞ্জস্যতা কোথায়?
মন্ত্রীর উত্তরে vagueness অস্পষ্টতা ছিল, কিন্তু স্পিকারের কথায় ছিল সত্য। কখনো কি সরকারি নীতি এত transparent স্বচ্ছ হয়?
সিলেটের মানুষ বছরের পর বছর ভোগে। কিন্তু ঢাকার তালিকায় এটি কখনোই প্রথম নয়। আমাদের local crisis স্থানীয় সংকট কতদিন উপেক্ষিত থাকবে?
টিপাইমুখ শুধু বাঁধ নয়, এটি আমাদের বৈদেশিক নীতির weakness দুর্বলতা তুলে ধরে। আমরা কি কখনো ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ভাবি?
‘অনুরোধে’ চালু হওয়া বাঁধ? এ কী ধরনের রাজনৈতিক request অনুরোধ? জাতীয় স্বার্থ কি এমনিতেই আপোষযোগ্য?