নিরাপত্তার চেয়ে ভোট? বাংলার রাজনীতিতে কাঁটাতারের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা প্রশ্ন
ভারতের নিরাপত্তার চেয়ে ভোট পাওয়ার হিসাব বড়? এমনটাই প্রশ্ন তুলছেন সাংসদ biplob কুমার দেব, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ধরে রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না, যা দেশের জন্য নিরাপত্তার দৃষ্টিতে উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে বাংলার যোগসূত্র থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসনের নীরবতা আরও বড় প্রশ্ন তুলেছে। কেন অনুপ্রবেশ রোধে সহযোগিতা করা হচ্ছে না? কেন বিএসএফের ধরা অনুপ্রবেশকারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলি এখন পুরো দেশের মুখে।
সীমান্তে ৪৪৭ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া টানার প্রস্তাব কেন্দ্রের তরফে বারবার এসেছে, কিন্তু রাজ্যের পক্ষ থেকে তার কোনও সাড়া নেই। বিপ্লবের কথায়, এটি কোনও প্রশাসনিক অবহেলা নয়, বরং political ইচ্ছার অভাব। তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গা সহ বহু অনুপ্রবেশকারীকে আটক করলেও রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর action নেয়নি। ফলে মুসলিম জনসংখ্যা কিছু এলাকায় ১৯% থেকে বেড়ে ২৯%-এ দাঁড়িয়েছে—যা তাঁর মতে কেবলমাত্র votebank পাওয়ার কৌশল। সীমান্তের এই ফাঁক কেবল জনপরিসংখ্যানই বদলাচ্ছে না, বদলাচ্ছে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
অনুপ্রবেশের পাশাপাশি উগ্রপন্থার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বেঙ্গালুরুর বিস্ফোরণ মামলায় বাংলার সূত্র পাওয়া গেছে, আর দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিংয়ে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন সময় ভুয়ো নথিপত্র তৈরির চক্র সক্রিয় থাকা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাংসদ অভিযোগ করছেন, রাজ্য সরকার এই কারবারের পিছনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি উগ্রবাদ ছড়ানোর পথ তৈরি করছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করে মুখ্যমন্ত্রী কি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিসর্জন দিচ্ছেন? প্রশ্নটি এখন জনমানুষের মনে।
রাজনৈতিক তীর শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই নয়, তিনি অতীতের বাম শাসনের সঙ্গেও তুলনা টানেন। কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট: বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৪৭ কিলোমিটার সীমান্তে এক মাসের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া হবে। পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ির মতো ঐতিহাসিক heritage রক্ষায় মনোযোগ আসবে। এমনকি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও মহিলা বিল সমর্থন করা হয়নি—এটি তাঁর কাছে একটি বড় অসঙ্গতি। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর তারা confusing রাজনীতির বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে উঠছে বলেও তিনি মনে করেন। এই রাজনীতি কি আর চলবে?
এই অভিযোগগুলি শুধু এক রাজনৈতিক দলের কথা নয়, এগুলি দেশের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সীমান্ত কেবল মানচিত্রের রেখা নয়, এটি আমাদের national সীমানা। অনুপ্রবেশ, ভুয়ো নথি, উগ্রপন্থা—এগুলি কি কেবল পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা? নাকি সেগুলি পুরো ভারতের জন্য হুমকি? প্রশ্নগুলি সরাসরি, কিন্তু উত্তরগুলি আরও জটিল। কোথায় দাঁড়িয়েছে রাজ্য আর কোথায় দাঁড়াবে দেশ? সময়ই বলবে। এখন প্রতিটি কাঁটাতারের ফাঁকে লুকিয়ে আছে একটি বড় প্রশ্ন—দেশের অখণ্ডতা আর রাজনীতির ভারসাম্য।
ভোটের রাজনীতি আর দেশের নিরাপত্তা একসাথে চলে না। এটা clear স্পষ্ট যে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিএসএফ যদি এগারো হাজার আটক করে, তাহলে রাজ্য সরকার কেন ছাড়ছে? এটা কি logic যুক্তিসঙ্গত?
মমতা মানুষের জন্য ভালো কাজ করেছেন, কিন্তু এই অভিযোগগুলো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একটু balance ভারসাম্য দরকার।
বামদের সময়েও এমন কিছু হতো না। এখন কেন হচ্ছে? রাজনীতি এতটা খারাপ হয়ে গেল কীভাবে?
৪৪৭ কিলোমিটারে কাঁটাতার এক মাসে? সেটা কি সম্ভব? এটা কি শুধু rhetoric বক্তৃতা না সত্যি?
বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ি না সংস্কার করা আসলে সাংস্কৃতিক উপেক্ষা। এটা দেখে মন খারাপ হয়।
নিরাপত্তা আর ভোট—দুটো একসাথে মাপা যায় না। যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা খুব dangerous বিপজ্জনক।
জনসাধারণ সচেতন হচ্ছে, এটাই বড় কথা। কিন্তু তারা কতটা প্রভাবিত হবে, সেটাই দেখার।