চা-বাগানের তেতো সত্য আর দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি গল্প
‘new ধারাবাহিক’ নয়, ‘new ফিল্ম’ নয়—বাংলা নববর্ষের আগেই বাঙালির মনে জায়গা করে নিল চরকির ‘sweet story ’। পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্তের ‘tea garden ’ প্রেক্ষাপটের এই ওয়েব ফিল্ম ‘চা গরম’ মুক্তির আগেই ট্রেলারে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু অনেকে ভেবেছিলেন, এটি হয়তো শুধু শোষণ, দারিদ্র্য আর অবহেলার heavy burden তুলে ধরবে। বাস্তবে, সিনেমাটি সেই সব reality -কে ঘিরে থাকলেও তাকে মেশানো হয়েছে মানুষের hope , সহজ স্নেহ আর হালকা হাসির সঙ্গে—ঠিক যেমন বাঙালির চা: তেতো সত্য আর দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি।
সিনেমার শুরুটা চা-পাতা তোলা থেকে—ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে বরকত হোসাইনের দৃষ্টিশক্তি। কিন্তু গল্প আসলে শুরু হয়েছে ডাক্তার আইরিনের ট্রেনের যাত্রা থেকে, যেখানে তিনি চাকরির জন্য যাচ্ছেন চা-বাগানে। শিল্প নির্দেশনার জন্য নাঈমা জামানের প্রশংসা কম হবে না—বাস্তব পরিবেশের ছোঁয়া লাগে প্রতিটি ফ্রেমে। সাফা কবিরের আইরিন চরিত্রটি তুলে ধরেছেন এক reluctant মানুষের ক্রমবিকাশ, যিনি ক্রমশ সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে connection তৈরি করেন। পার্থ শেখ আর আর এ আজাদ সেতুর চরিত্রও মন কেড়েছে—এক অনায়াস অভিনয় যা সমাজের বৈষম্য আর আশার কথা বলে।
অভিনয়ে সবচেয়ে বেশি ছাপ ফেলেছেন সারাহ জেবীন আর রেজওয়ান পারভেজ। চা-বাগানের নন্দিনীর ভূমিকায় সারাহ জেবীন চোখের ভাষায় কথা বলেছেন, আর রবিনের চরিত্রে রেজওয়ান ধরে রেখেছেন সরলতা আর গভীর দার্শনিক ভাবনার ভারসাম্য। পোশাক ও রূপসজ্জায় মারিয়া হক সরকার আর আতিয়া রহমান প্রতিটি চরিত্রকে পরিবেশ অনুযায়ী সাজিয়েছেন—এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ছোট খামতি, যেমন পার্থ শেখের ‘rich kid ’ চেহারায় ব্র্যান্ডেড পোশাকের অভাব, সমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। সালেহ সোবহানের সম্পাদনা, উম্মিদ আশরাফের কালারিস্ট কাজ আর রুসলান রেহমানের সংগীত সিনেমার আবেগকে আরও গভীর করেছে।
এক মুহূর্তের জন্য হাসি আসে, পর মুহূর্তে বুক চিপিয়ে যায়—যখন আইরিন জানেন তিনি প্রথম ডাক্তার যিনি ওই বাগানে এসেছেন। আর যখন রবিন বলেন, চা-গাছকে বড় হতে দেয়া হয় না, সেটা শুধু চা-বাগানের কথা নয়—সেটা আমাদের সমাজের সম্ভাবনাকে চাপা দেওয়ার কথাও। এই সিনেমা শুধু গল্প বলে না, এটি জাগায় প্রশ্ন। চরকি ও অক্সফ্যামের মতো সংস্থাগুলো যাদের কথা কেউ বলে না, তাদের গল্প বলার সাহস দেখিয়েছে। এই সম্মিলিত effort না থাকলে বাংলাদেশের সিনেমা হয়তো আজও stunted হয়েই থাকত—যেমন চা-গাছ।
‘চা গরম’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক statement । এটি দেখায় যে বাংলাদেশি সিনেমা এখন আর কেবল বিনোদন নয়—এটি সমাজের আয়না। শঙ্খ দাশগুপ্ত তেত্রিশের পয়লা বৈশাখে নতুন হালখাতা খুললেন। তাঁকে অভিনন্দন। আর সবাইকে ধন্যবাদ—যারা এমন গল্পের পিছনে পয়সা, প্রতিভা আর support দিয়েছেন। এই সিনেমা আমাদের মনে করিয়ে দেয়: উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-বাড়ি নয়, মানুষের মনে জায়গা করে দেওয়া আশা, শিক্ষা আর স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে তাদের dignity ফিরিয়ে আনা।
পোশাক নিয়ে একটু কম মনোযোগ পড়েছে, কিন্তু অভিনয়ের impact প্রভাব এড়ানো যায় না।
‘চা গরম’ মানে শুধু তাপ নয়, মানুষের হৃদয়ের তাপও। চমৎকার সিনেমা।
যাদের কথা কেউ বলে না, তাদের গল্প এভাবে তুলে ধরা উচিত। এটা না হলে risk ঝুঁকি ছিল চলচ্চিত্র শিল্পের।
সারাহ জেবীনের চোখে যে কথা বলে, তা শব্দে বোঝানো যায় না।
‘stunted growth খর্ব বৃদ্ধি’-এর রূপকটা খুব শক্তিশালী। সমাজের বাস্তব ছবিও এঁকেছে।
এত সুন্দর গল্পের পিছনে যে বড় বাজেট আর আন্তর্জাতিক সমর্থন আছে, তা ভাবলে বিষাদ লাগে। স্থানীয় প্রচেষ্টা কেন এত কম?