সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট | | বাংলাদেশ প্রতিদিন
জাতীয় সংসদে ছবি তোলার জন্য কেনা হয়েছে প্রায় sixty lakh টাকার ক্যামেরা সেট, কিন্তু বাজারমূল্য মাত্র কয়েক লাখ। একটি সাধারণ ব্যাগের জন্য চাওয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা, অথচ তার আসল দাম মাত্র ৪ হাজার। একইভাবে ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডারের মূল্য চড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। এমন overpricing ঘিরে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। সংসদ, যেখানে প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা হয়, সেখানেই এমন হরিলুটের ঘটনা ঘটায় বিস্ময় ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সরবরাহকারী company হিসেবে রয়েছে সেফ ট্রেডার্স, যার প্রোপ্রাইটর সঞ্জয় কুমার দাস। তাদের কাছ থেকে চারটি ডিজিটাল ক্যামেরা বডি কেনা হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়, যার আসল মূল্য ছিল মাত্র ৩ লাখ ৩৮ হাজার। এছাড়া বিভিন্ন লেন্স, স্পিডলাইট, মেমোরি কার্ড, কার্ড রিডার, ব্যাটারি—সব মিলিয়ে মোট খরচ হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পণ্যের বাজারদর ছিল সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় চারগুণ বেশি দাম নেওয়া হয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, টেন্ডারে নিক্কনের পণ্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সরবরাহ করা হয়েছে চীনা কোম্পানি সিমপেক্সের নিম্নমানের পণ্য। কিছু ক্যামেরায় ব্র্যান্ডের লোগো পর্যন্ত আলাদাভাবে লাগানো হয়েছে। এমনকি কিছু আইটেম দেখে মনে হয়েছে যেন রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে। সংসদের এক দীর্ঘদিনের ফটোগ্রাফার বলেন, "session room ছবি তোলার জন্য ১০ লাখ টাকার সেটও যথেষ্ট, কিন্তু ৫৮ লাখ টাকা? এটা কখনো দেখিনি, শুনিওনি।"
কেনাকাটার সমস্ত প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সংসদ সচিব কানিজ মাওলা। তাঁর কাছে বক্তব্যের জন্য বারবার ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার মিরাজুল ইসলাম বলেন, "দামি ব্র্যান্ডের মালামাল দেওয়ায় দাম বেশি পড়েছে।" কিন্তু বাজারদর ও ব্র্যান্ডের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ফোন কেটে দেন। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মহিদুল হক বলেন, "procurement একটি কমিটির মাধ্যমে হয়েছে, আমি নতুন, শুধু স্বাক্ষর করেছি।"
সরকারি কেনাকাটায় এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন নয় বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এভাবে জনসম্পদ লুট হওয়া মানুষের trust নাড়া দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
৫৮ লাখ টাকায় ক্যামেরা সেট? এটা কি আদৌ real বাস্তব নাকি কোনো ফ্যান্টাসি মুভি?
ব্র্যান্ডের নাম লেখা, কিন্তু পণ্য ভিন্ন কোম্পানির? এটা তো সোজা fraud প্রতারণা, আর কি।
স্টেডিয়াম মার্কেটের সামগ্রী সংসদে? আমার government সরকার নাকি বাজারের দোকান চালাচ্ছে?
প্রতিটি ক্যামেরা লেন্সের দাম লক্ষাধিক টাকা? দামের এই gap ফারাক দেখে চোখ কপালে উঠেছে।
সচিব বলেন, "আমি তো শুধু স্বাক্ষর করেছি"—এটা কি excuse অজুহাত নাকি বাস্তব কথা?
যদি এত দাম দিতেই হয়, তবে কেন সেগুলো better ভালো মানের হলো না? লুট তো হলোই, সঙ্গে গুণগত মানও পড়ে গেল কেন?
জনগণের টাকায় এমন খেলা কতদিন চলবে? কখন জবাবদিহিতা আসবে?
বাজারমূল্য আর কেনার দামের পার্থক্য দেখে মনে হয় evidence প্রমাণ পেলে তদন্ত সহজ হবে।