শীর্ষ-চারের বিপক্ষে জয়: শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের জন্য ১৮ কোটির বোনাসের প্রস্তাব
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট জগতে এখন ঝড় বইছে — ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা, পদত্যাগ, সরকারি intervention , আর এখন চোখ জুড়ানো বোনাসের proposal । ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে হতাশাজনক performance শুধু দলের নয়, গোটা জাতীয় ক্রিকেট ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নড়িয়ে দিয়েছে। আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পুনরাবৃত্তি হওয়া ব্যর্থতা আর ভারতের সঙ্গে যৌথ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের নিষ্প্রাণ display প্রধান কোচ সনাথ জয়াসুরিয়াকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। এসএলসির বিরুদ্ধে সরকারের পদত্যাগের দাবি শুধু বিতর্ক নয়, এটি এক বড় পরিবর্তনের signal ।
এখন থেকে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের জন্য বোনাস আর আগের মতো সহজ হবে না। এসএলসি ঘোষণা করেছে, নিচু র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোকে হারালে আর bonus পাওয়া যাবে না। এমনকি সিরিজ হারলে খেলোয়াড়দের জরিমানা দেওয়া হতে পারে। একমাত্র শীর্ষ-চার দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় করলেই বোনাসের যোগ্যতা আসবে। এমনকি ম্যাচ জিতলেও যদি সেটা শীর্ষ-চারের বাইরের দলের বিপক্ষে হয়, তবে সেটা যথেষ্ট হবে না — এটা আর নয়া নিয়মের কঠোর reality ।
বোনাসের পরিমাণ বিশাল। টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাওয়ে ম্যাচে প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের দলকে হারালে খেলোয়াড়রা পাবেন ১৮ কোটির বেশি টাকা। দ্বিতীয় র্যাঙ্কের বিপক্ষে ১২ কোটির বোনাস, তৃতীয়ের বিপক্ষে ৯ কোটি, চতুর্থের বিপক্ষে ৭ কোটির বেশি। ঘরের মাঠে এই পরিমাণ কম, কারণ অ্যাওয়ে জয়ের challenge বেশি। ওয়ানডেতেও অ্যাওয়ে সিরিজের পুরস্কার বেশি, আর টি-টোয়েন্টিতে হোম-অ্যাওয়ে বোনাস একই, যা ওয়ানডের অ্যাওয়ে পুরস্কারের সমান। এখন শুধু জয় নয়, জয়ের quality বিচার হবে।
ব্যক্তিগত সাফল্যেও পুরস্কার আছে। কোনো খেলোয়াড় যদি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে কোনো ফরম্যাটে শীর্ষে পৌঁছান, তাহলে তিনি পাবেন ২৫ হাজার ডলার। দুই থেকে পাঁচ নম্বরে থাকলে ২০ হাজার ডলার। এই incentive -ভিত্তিক পদক্ষেপ শুধু আর্থিক নয়, এটি মনোবল বাড়ানোর কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তুলবে। এটা আর ছোট দলের সামনে জয় পাওয়ার যুগ নয় — এবার শীর্ষদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে বড় হওয়ার ambition ।
শীর্ষ-চারের বিপক্ষে জয়ের জন্য এত বড় reward পুরস্কার? ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু কি ক্রিকেটাররা আসলে এই চাপ সামলাতে পারবে?
অ্যাওয়ে বোনাস বেশি দেওয়া হচ্ছে — এটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু নিচু র্যাঙ্কের দলগুলোকে হারালে কেন recognition স্বীকৃতি নেই? সেগুলোতেও সংগ্রাম থাকে।
আগে যে বোনাস পেতাম যেকোনো জয়ে, এখন শুধু বড় দলের বিপক্ষে। এটা কি আসলে চাপ বাড়াবে নাকি ভাঙন ডেকে আনবে?
২৫ হাজার ডলার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে পৌঁছালে? এটা একটা motivation অনুপ্রেরণা। যুব খেলোয়াড়দের জন্য এটা বড় লক্ষ্য হতে পারে।
সরকারের হস্তক্ষেপ আর পদত্যাগের চক্রান্ত দেখে মনে হয় সঙ্কট গভীর। এই বোনাস প্রস্তাব কি ব্যবস্থাগত সমস্যার সমাধান করবে নাকি শুধু ঢাকনা চাপানো?
টেস্টে ১৮ কোটি? এটা শুনে চোখ কপালে! কিন্তু মাঠে ফিরে আসুক শ্রীলঙ্কার জাদু — আসল বোনাস সেটাই।
প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ানোর জন্য এটা ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু দলগত সংহতি কি এই টাকার লোভে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
শীর্ষ দলের বিপক্ষে জয়ের জন্য এত বড় পুরস্কার দেখে অন্য দেশগুলোও হয়তো ভাবতে বসবে। এটা নতুন যুগের পূর্বাভাস।