বগুড়ার মাটিতে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট—২০ বছর পর কি হবে পুনর্জাগরণ?
দীর্ঘ বিরতির পর বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবারও বাজবে ক্রিকেটের মহড়া। বিগত ২০০৬ সালের পর এখানে আর কোনো international ম্যাচ হয়নি, কিন্তু আগামী ৮ ও ১০ জুন ফিরছে সেই আয়োজন—বাংলাদেশ ‘এ’ বনাম জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের one-day টুর্নামেন্ট হবে এখানে। ভোঁতা পিচ, অবহেলিত স্ট্যান্ড, আর বন্ধ দরজার পেছনে লুকিয়ে ছিল এই মাঠের ইতিহাস; আজ সেখানে আবার শোনা যাবে ক্রিকেটের ছন্দ। স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এটি শুধু খেলা নয়, একটি পুনর্জাগরণ—যেখানে ক্রীড়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের মূল হাড়।
ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৩ সালে চান্দু স্টেডিয়ামের মর্যাদা বাতিল করলে মাঠটি হয়ে উঠেছিল নিষ্প্রাণ। কর্মকর্তারা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, equipment উঠে গিয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু এই নিষ্ক্রিয়তা ভাঙতে এগিয়ে এলো স্থানীয়দের protest । বিসিবি পরে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সব ফিরিয়ে দেয়। তবে তখনও পিচের কোনো উন্নয়ন হয়নি। আজ সেই মাঠেই আবার খেলা হবে—প্রমাণ যে জনগণের pressure আর আবেগ কখনো নিষ্ফল হয় না।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’-এর উদ্বোধন এই ফিরে আসার সঙ্গে কাকতালীয় নয়। প্রতিমন্ত্রী আলাপ করলেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের কথা—যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্রীড়াকে দেওয়া হয়েছিল গুরুত্ব। এখন সেই ধারায় আটটি খেলায় প্রতিভা খুঁজে বাহির করা হবে তৃণমূল থেকে। এটি কেবল ম্যাচ নয়, একটি আন্দোলন—যেখানে প্রতিভা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাকে বাহির করে আনা হবে। খেলোয়াড়দের profession হিসেবে গ্রহণের দাবি আজ আরও জোরালো।
ভেন্যু ব্যবস্থাপক জামিলুর রহমানের কথায়, ২০০৬-এর পর থেকে মাঠটি হারিয়েছিল তার স্বাদ। কিন্তু আজ তা ফিরছে নতুন করে। এই ফিরে আসা কেবল ক্রিকেট নয়—এটি একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের ইঙ্গিত, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল নির্বাচনের মাঠে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি খেলার মাঠগুলোকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে জনগণের হাতে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি জনগণের ইচ্ছার জয়। আর এই মাঠে ফিরবে সেই ইচ্ছা—একটি stadium হিসেবে নয়, একটি সম্প্রদায়ের হৃদয় হিসেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফিরে আসা ঘিরে উৎসবের আমেজ, কিন্তু প্রশ্নও উঠেছে। পিচের গুণমান কি যথেষ্ট? স্টেডিয়ামের সুবিধা কি আধুনিক মানদণ্ড মেনে? আর এতদিন পর আয়োজন কেন? তবে একটা কথা স্পষ্ট—বগুড়াবাসী তাদের মাঠকে হারাতে চায়নি। এখন তারা জানে, মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়—এটি একটি পরিচয়, একটি ইতিহাস, এবং এখন একটি আশা।
চান্দু স্টেডিয়ামে আবার ক্রিকেট? এটা শুধু ম্যাচ নয়, নস্টালজিয়া ফিরে পাওয়া।
২০০৬-এর পর থেকে অপেক্ষা করছি। আজ মনে হচ্ছে আমাদের pride গর্ব ফিরে এসেছে।
আয়োজন ভালো, কিন্তু পিচ সত্যিই কি ওয়ানডের মান মানবে? আগে এটা ছিল dusty ধুলো ধুলো।
নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে প্রতিভা খুঁজে পাওয়া যাবে, আর তা যদি global বৈশ্বিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে এটা বড় সাফল্য।
বিসিবি আগে বাতিল করেছিল, এখন ফিরল কেন? রাজনৈতিক কারণ না আসল উন্নয়ন?
আমরা আন্দোলন করেছিলাম। সেই সংগ্রামের ফল এখন দেখছি। protest আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না।
আমার ছেলেবেলায় এই স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতাম। এখন নাতি নিয়ে যাব—উত্তরাধিকার বুঝতে হবে।
বগুড়া আবার মানচিত্রে। এটা শুধু ক্রিকেট নয়, একটি পুনর্জাগরণ।