ইলিশ: নদীর মাছ নাকি রাজনৈতিক প্রতীক?
distance মাত্র ৬-৭ মাইল পাবনা শহর থেকে হিরতলা। সেখানেই মোহাম্মদ সিরাজউদ্দীনের বাড়ি, shore । টমটমে কয়েকবার গিয়েছি। হরিতলায় কয়েকঘর মাঝির বাস, হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে। এখানকার ভাষায়, ‘শালাক মাঝ গাঙে লিয়ে যায়ে, মরদ ইলসে খাওয়াবোনে।’ শুনে আত্মা খাঁচা। কিন্তু দুলাভাইয়ের assurance : ‘যা। সাঁতার ত জানিস।’ মানে, নৌকা ডুবলেও ফিরে আসা যাবে। সেই thrill গন্ধ আমার নাকে আসে। এখানে ইলিশ শুধু মাছ নয়, একটি সংস্কৃতি, একটি legacy ।
দুই বৃদ্ধ মাঝি বয়সে বড়, কিন্তু কথায় ইয়ারদোস্ত। তাদের মুখে শুনি: এলাকাভিত্তিক নদী এখন auction ওঠে। ‘হরিতলা থেকে নাজিরপুর পোরজোনতো আমরা খরিদ করেছি। পাকশীর ড্যান ভেড়ামারা আরেক ব্যাটা।’ বোশাখের season ইলিশের দামে উঠানামা। মাছটির চরিত্র কথিত অস্থির—‘হারামির চৌবাচ্চা’। ডিম ছাড়ার জন্য উজানে যায়, ঝাঁকে ফিরে আসে। ৯৯ ভাগ female ইলিশ, বাকি পেছনে দাবড়ায় male । বাস্তবে ধরা পড়ে শতকরা মাত্র কয়েকটি। ইলিশ কেবল নদীর নয়, এক সামাজিক জীবনচক্রের অংশ।
ইলিশ খাওয়ার কালচার শুরু হয় পদ্মাকুলের বেদেদের মাঝে, নিম্নশ্রেণি থেকে জমিদার ঘরে, পরে আপ্যায়ন হয় জামাইষষ্ঠীতে। এটি পূর্ব বাংলারই মাছ। গঙ্গা-যমুনার হাভাতের কাছে এ খুব value পায় না। তারাশঙ্কর, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ—কারও লেখায় এর আস্বাদ নেই। কিন্তু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়—সবাই সম্পৃক্ত। ফরিদপুরের মৃণাল সেন একবার বিকেলে এক তরুণীকে দেখে বলেছিলেন: ‘shiny ।’ মাছ নয়, এক স্মৃতি।
বিশ্বজুড়ে ইলিশের popularity সীমিত। আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের বাকি প্রান্তে এর আসর নেই। কিন্তু বাইরে—মিয়ানমার, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপে—বড় ইলিশ পাওয়া যায়, weight বেশি, দাম কম। তবু প্যাকেটে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ লিখে দ্বিগুণ দামে বিক্রি। demand অকল্পনীয়। রাজনীতিতেও সেটি ভূমিকা রাখে। এক উপদেষ্টা ঘোষণা করলেন: ‘ভারতে ইলিশ দেওয়া হবে না।’ কিন্তু পরক্ষণেই অর্থনীতি সব বদলে দেয়। প্রায় তিন হাজার টন রপ্তানি হয়, কলকাতা, হাওড়া, ত্রিপুরা, আসামে।
ইলিশ এখন শুধু মাছ নয়, এটি কূটনীতি। এরশাদের আমলে এটি শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী-সাহিত্যিকদের কাছে পাঠানো হত চার কেজি করে। সত্যজিৎ রায় ফোনে বললেন, ‘পদ্মার চকচকে ইলিশ। মঙ্কু রান্না করবেন।’ সেই ট্রাডিশন এখনও জীবন্ত। এটি কেবল মাছ নয়—এটি একটি প্রতীক, একটি beauty , যার ছায়ায় বাঙালি সংস্কৃতি এখনও নাচে।
আমার বাবা পদ্মার মাঝি ছিলেন। এই stories গল্পগুলো শুনলে মনে হয় তাঁকে ফিরে পাচ্ছি।
৯৯% মহিলা ইলিশ? এটা নিয়ে একটু research গবেষণা দরকার। কিন্তু মজার তথ্য!
আমরা তো প্রতিদিন ইলিশ খাই, কিন্তু ভাবিনি এটা এত বড় রাজনীতি হতে পারে।
‘হারামির চৌবাচ্চা’—এই রূপকটা খুব জোরালো। ইলিশের আচরণ সত্যিই অস্থির।
মৃণাল সেনের কথা শুনে হাসি পেল। ‘চকচকে রূপালি ইলিশ’—কোন ছবির ডায়ালগ মনে হচ্ছে!
প্রায় তিন হাজার টন রপ্তানি? এটা শুধু মাছ নয়, এটা একটা অর্থনীতি।
ভারত ইলিশ না পেলে কী হত? এতটা নির্ভরশীলতা ঠিক কি?
‘মরদ ইলসে খাওয়াবোনে’—এই লাইনটা আমার পছন্দের। humor মজা আছে, সংস্কৃতিও আছে।