ছাত্র রাজনীতির লেজুরবৃত্তি থামবে কি ক্যাম্পাসে?

campus এখন শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত, কিন্তু রুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে সেই peace নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৬ এপ্রিল সেখানে মিছিল হয়েছে—ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে। অথচ সেই ক্যাম্পাসেই দুই ধারার রাজনীতি মুখোমুখি হচ্ছে। একদিকে সাধারণ ছাত্রদের দাবি, protest আর স্লোগান—‘নো মোর পলিটিক্স’; অন্যদিকে দলীয় ছাত্রসংগঠনের ব্যানার, মিছিল আর রাতের স্লোগান—‘শহীদ জিয়ার গড়া দল, জিয়ার সৈনিক এক হও’। এই দ্বন্দ্বে লুকিয়ে আছে এক বড় দ্বন্দ্ব: শিক্ষার মাঠ নাকি রাজনীতির ময়দান?

জাতীয় সংসদেও এই প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির হুইপ রকিবুল ইসলাম ২৭ এপ্রিল বলেছেন, ছাত্ররা আর চায় না ক্যাম্পাস অশান্ত হোক। তারা চায় শিক্ষা নিরাপদ মাঠে হোক। তিনি দাবি করেছেন, সবার মতামতে ভিত্তি করে ক্যাম্পাসে রাজনীতির ধরন নির্ধারণ করা হোক। তার কথায়, রক্তের বিনিময়ে যে ক্যাম্পাস ফিরে পাওয়া গেছে, তা আর ধ্বংস করা যাবে না। এই মন্তব্য প্রতিফলিত করে একটি ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা—আবার ফিরে আসবে কি লাঠিয়াল রাজনীতি? ক্যাম্পাসের দেয়ালে লেখা, ‘ছাত্র রাজনীতির কালো হাত ভেঙে দাও’, সেই আশঙ্কারই voice

বিগত বছরগুলোতে ছাত্ররাই দেশ পরিবর্তনের মুখ। কিন্তু এই সাধারণ ছাত্ররা এখন বলছে, রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি নয়, শুধু শিক্ষা চায়। তাদের ক্ষোভের ভিত্তি—গত ১.৫ দশকের ছাত্রলীগের তাণ্ডব। তারা ভয় পায়, আবার কি কোনো দল ক্যাম্পাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি। একটি সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারত, কিন্তু রাজনৈতিক ভয়ে হাত দেয়া হয়নি। কারণ, ক্ষমতাশীলদের মতে, ছাত্র রাজনীতি হলো ক্ষমতার সিঁড়ি—ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তারা হাত বাড়ায় না।

তবুও কিছু আশা আছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা হওয়া উচিত orderly , বুদ্ধিবৃত্তিক আর নিয়মতান্ত্রিক। তারা চান না ছাত্ররা লাঠি তুলুক, চান তারা বই নিয়ে বসুক। কবি নজরুলের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন—‘চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল, বক্ষে দেশপ্রেম’। এটি কোনো প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং এক অভিভাবকের মনোভাব। ক্যাম্পাস হোক নিরাপদ, শান্ত, আর focused । সেখানে রাজনীতির চর্চা হোক, কিন্তু তা যেন হয় আলোচনায়, নয় হাতাহাতি বা ব্যানার পোড়ানোয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররাই দেশের গতি বদলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই রাজনীতি ছিল জনবিপ্লবের, নয় দলের লেজুরবৃত্তির। তারা এখন চায় না ক্যাম্পাস হোক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠ। ছাত্র রাজনীতি থাকুক, কিন্তু যেন হয় সংস্কার করা, নিয়ন্ত্রিত আর প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক। জাতীয় সংসদের মতো মঞ্চ এটি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে যেখানে ছাত্ররা মত প্রকাশ করবে, কিন্তু শিক্ষার প্রতিযোগিতা করবে না। এটাই হোক আগামী দিনের নীতি—learning জন্য ক্যাম্পাস, নয় লড়াইয়ের ময়দান।

প্রতিক্রিয়া 8

  • ছাত্র_ভবিষ্যৎ

    আমি একজন সাধারণ ছাত্র, ক্লাস আর লাইব্রেরিতে সময় দিতে চাই। class আর রাজনীতি একসাথে চলে না।

  • জ্ঞান_পিপাসু

    ছাত্র রাজনীতি থাকলেও যেন হয় আলোচনা-ভিত্তিক, নয় সহিংসতা। debate হোক, ব্যানার নয়।

  • প্রাকৃত_চিন্তা

    রাজনীতি ছাড়া ক্যাম্পাস অসম্ভব—কিন্তু লেজুরবৃত্তি নয়। balance বজায় রাখতে হবে।

  • নিরাপদ_মাঠ

    আমাদের মা-বাবা চান আমরা নিরাপদে পড়াশোনা করি। safe পরিবেশ চাই।

  • বাস্তববাদী_১৯৭১

    ১৯৭১-এর মতো ছাত্র আবার নেতৃত্ব দেবে, কিন্তু ক্যাম্পাসে নয়।

  • জ্ঞানচক্ষু

    ‘শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলি, চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল’—এই কথাটাই মনে রাখুক প্রত্যেকে।

  • প্রগতির_পথে

    বিশ্ববিদ্যালয় হোক গবেষণা আর উদ্ভাবনের জায়গা। উদ্ভাবন হোক, নয় বিদ্বেষ।

  • স্মৃতিবিজড়িত

    আমি দেখেছি ক্যাম্পাসে কত রক্ত ঝরেছে। আর নয় সেই দুঃস্বপ্ন।

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]