আশা ভোসলের স্মরণে বেবী নাজনীন: "তাঁর বিনম্রতা ছিল তাঁর প্রতিভার মতোই অসীম"
ভারতীয় সঙ্গিত জগতের এক অমর অধ্যায়ের অন্তিম পাতা উল্টে গেল আজ, যখন কিংবদন্তি গায়িকা legend আশা ভোসলের মৃত্যু হয়। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। এতদিন পর্যন্ত অসুস্থতার কোনো খবর ছিল না, কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর নাতনি জানিয়েছেন, extreme fatigue এবং বুকে সংক্রমণের কারণেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত গায়িকা বেবী নাজনীন আশা ভোসলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়। দুই যুগ আগে ২০০০-এর দশকের শুরুতে তাঁরা একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন album 'দুটি মনে এক প্রাণ'-এ। বেবী নাজনীন লিখেছেন, 'আমি যেন সংগীতের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।' স্টুডিওতে কাটানো সময় তাঁর কাছে আজও vivid । তিনি বলেছেন, আশা ভোসলের বিনম্রতা ছিল তাঁর প্রতিভার মতোই অসীম। তাঁর প্রতিটি গানে ছিল প্রাণ ঢালা এক ভাবনা—যেন প্রতিটি গানই তাঁর প্রথম এবং শেষ।
আট দশকের বেশি ক্যারিয়ারে আশা ভোসলে শুধু হিন্দি নয়, বাংলা, মারাঠি, কন্নড় থেকে শুরু করে আরবি, চীনা, এমনকি ইংরেজিতেও গান গেয়েছেন। তাঁর সঙ্গীতে ছিল অসাধারণ অভিযোজন ability —শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, গজল, পপ, ক্যাবারে সব ধারাতেই তিনি ছিলেন মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো সুরেলা। তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা ধারণা করা হয় ১২,০০০ ছাড়িয়ে। এই অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন national award , দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ—পাশাপাশি গ্র্যামি মনোনয়নও।
আশা ভোসলের জীবন ছিল সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্প। খুব কম বয়সে বাবার মৃত্যু, স্বামীর পরিবারের কাছে নির্যাতন, একা সন্তানদের মানুষ করা—এই সবই তাঁকে গড়ে তুলেছিল লৌহ দৃঢ়তায়। পরে আরডি বর্মনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠতেই তাঁর ক্যারিয়ারে এসেছিল নতুন era । 'তিসরি মঞ্জিল', 'পিয়া তু আব তো আজা', 'দম মারো দম'-এর মতো গান তৈরি করেছিল সেই মুহূর্ত। যখন অন্যদের কণ্ঠ থমকে দাঁড়ায়, আশা ভোসলে নিজেকে ভাঙছেন প্রতি যুগে।
১৯৯০-এর দশকে তিনি নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে আবারও প্রমাণ করেছিলেন তাঁর relevance । এ আর রাহমানের সঙ্গে তাঁর কাজ নতুন শ্রোতাদের কাছে তাঁকে আনে। বেবী নাজনীনের কথায়, পৃথিবী আজ তার সবচেয়ে বহুমুখী, সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠস্বরটি হারিয়েছে। কিন্তু তাঁর গানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুরণিত হতে থাকবে—future generation , যারা এখনো জন্ম নেয়নি।
আশা দিদি শুধু গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক era যুগ। তাঁর প্রতিটি নিঃশব্দ মুহূর্তেও ছিল সুরের অনুভূতি।
১২ হাজার গান! এই number সংখ্যা শুনলেই মনে হয়, একজন মানুষ কতটা দিতে পারে।
বেবী নাজনীনের মন্তব্যটা পড়ে চোখে জল। আশা ভোসলে সত্যিই কাজ করতেন যেন প্রতিটি পারফর্ম্যান্সই প্রথম।
বাংলার গানেও তাঁর কণ্ঠ! 'কে বলে তুমি মোরে ভুলিবি না'—এই গানটা আমার ছোটবেলার memory স্মৃতি।
তাঁর মৃত্যুতে শোক আছে, কিন্তু সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞতাও আছে। এত সুর দিয়ে গেলেন আমাদের জন্য।
গ্র্যামি মনোনয়ন! আন্তর্জাতিক recognition স্বীকৃতি তাঁর ছিল। ভারতের গর্ব।