গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা, ঐকমত্য কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারা হোসেন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং সেই কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত the referendum গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত এই কমিশনকে democratic process হিসেবে দেখা যায় না। গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, "ভোটারদের এই ভোটের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে কোনো awareness ছিল না। কীসের জন্য ভোট দিচ্ছি, এটা আমি যদি না জানি, তাহলে ভোটের কত value আছে?" গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকটি আয়োজন করেছিল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ছিলেন। সারা হোসেন বলেন, "আমি একটু ভিন্নমত পোষণ করব। বলা হচ্ছে জুলাই সনদ আমাদের রাখতেই হবে এবং গণভোটের ফলাফল মানতে হবে। কিন্তু আপনারা যে ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছেন, এটাকে no way গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না। এটা ছিল একটি selective process । কয়েকজন মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখানে গণতন্ত্র কোথায়?"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কমিশনে women's representation না থাকা একটি গুরুতর ত্রুটি। "কমিশনে একজন নারীও ছিলেন না, অথচ পুরো বিচারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।" তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় বহুসংখ্যককে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা স্বীকার করা উচিত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল জটিল এবং জনগণের কাছে তার কোনো clarity ছিল না।
সেই প্রশ্নে উল্লেখিত ৩০টি প্রস্তাব—যেমন মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংসদে নারী আসন বৃদ্ধি—নিয়ে সারা হোসেন বলেন, "কয়জন মানুষ বলতে পারবেন সেই ৩০টি প্রস্তাব কী ছিল?" তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "আপনি হ্যাঁ বা না ভোট দিচ্ছেন, কিন্তু কেন দিচ্ছেন তা যদি না জানেন, তাহলে সেই ভোটের significance কতটুকু?"
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "আমরা চাই বিচার বিভাগ আর কখনো নির্বাহী বিভাগের tool হিসেবে ব্যবহৃত না হোক।" তিনি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এবং এ বি এম খায়রুল হকের উদাহরণ তুলে ধরেন, যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "গোয়েন্দা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে বিচারপতিদের চাপে রাখা হতো। এই অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে।"
গণভোটের প্রশ্নগুলো এত complex জটিল ছিল যে সাধারণ মানুষ কিছুই বুঝতে পারেনি। এটা কি সত্যিকার গণভোট নাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা?
কমিশনে নারীদের অন্তর্ভুক্তি না করা কীভাবে democracy গণতন্ত্র বোঝায়? এটা তো সরাসরি বৈষম্য।
ভোট দিলাম, কিন্তু কেন দিলাম তা জানি না। এখন ভাবছি, আমার সেই ভোটের আসলে impact প্রভাব কী ছিল?
বিচারপতি সিনহা এবং খায়রুল হকের ব্যাপারগুলো নিয়ে চুপ থাকা নাগরিক সমাজের জন্য লজ্জার। এটা শুধু রাজনীতি নয়, justice ন্যায়বিচার এর প্রশ্ন।
একটা গোলটেবিল বৈঠকে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে, কিন্তু সংবাদমাধ্যম কেন তা স্পটলাইট দিচ্ছে না? এটা নিয়ে public debate জনমত গড়ে উঠুক।
যদি গণভোটের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আগে থেকে প্রচার না করা হয়, তাহলে এটা কীভাবে informed decision সচেতন সিদ্ধান্ত হয়?