সংঘাতে তেল খাতে রমরমা ব্যবসা—ঘণ্টায় অতিরিক্ত মুনাফা ৩০০ মিলিয়ন ডলার

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার প্রথম মাসেই বিশ্বজুড়ে new risk তৈরি হয়েছে—কিন্তু সেই সঙ্গে উঠে এসেছে এক অপ্রত্যাশিত market opportunity । শীর্ষ তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত মুনাফা করছে, যা মানুষের জন্য বাড়তি খরচ আর সরকারের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মাত্র এক মাসে অতিরিক্ত মুনাফা হয়েছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সমান। যদি এই দাম বজায় থাকে, তবে বছর শেষে এটি পৌঁছাতে পারে ২৩৪ বিলিয়ন ডলারে। এ কোম্পানিগুলোর কাছে একটি financial windfall , কিন্তু ভোক্তাদের কাছে এটি daily pressure

সৌদি আরামকো, রাশিয়ার গাজপ্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমবিল মতো কোম্পানিগুলো এই profit surge থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে। সৌদি আরামকো এই পরিস্থিতি থেকে ২০২৬ সালে একাই ২৫.৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারে। রাশিয়ার তিন কোম্পানি মিলিয়ে ২৩.৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি মুনাফা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে গাজপ্রমের পাশাপাশি রোসনেফ্ট ও লুকওয়েলও রয়েছে। পশ্চিমাও পিছিয়ে নেই—এক্সনমবিল প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আর শেভরন ৯.২ বিলিয়ন ডলার লাভের পথে।

এই অস্থিরতার মুখে কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে জ্বালানির ওপর কর কমিয়েছে ভোক্তাদের বোঝা কমাতে। কিন্তু এই কর কমানো সরকারি revenue loss ডেকে আনছে, যা সামাজিক ব্যয়ের পরিকল্পনাকে economic strain ফেলছে। জার্মানি, ইতালি ও স্পেনসহ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ ইইউ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর আরোপের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এই টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা সহায়তায় ব্যবহার করা উচিত।

জাতিসংঘের জলবায়ু কর্মকর্তা সাইমন স্টিল সতর্ক করেছেন যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে long-term risk -তে ফেলছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাওয়া অপরিহার্য। যেসব দেশ সৌর ও বায়ু শক্তি বাড়িয়েছে, তারা এই অস্থিরতা থেকে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত। যুক্তরাজ্যে মার্চে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে গ্যাস আমদানি কমানো সম্ভব হয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মূল বার্তা স্পষ্ট: যতদিন বিশ্ব তেল ও গ্যাসের ওপর reliance থাকবে, ততদিন এমন সংকট ভোক্তা ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।

প্রতিক্রিয়া 6

  • সাজিদ_৮৭

    প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মুনাফা? এই টাকা দিয়ে পুরো দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারত। কিন্তু কে পায়? আর কে দেয়? public cost বাড়ছে, কোম্পানির লাভ বাড়ছে।

  • নীল_আকাশ

    সরকারগুলো কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কর কমালে সমস্যা সমাধান হবে? short-term fix দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা মেটানো যাবে না।

  • গ্রিন_হপ

    এই তথ্যগুলো আমাদের আরও দৃঢ় করা উচিত নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগোতে। আমাদের দেশও সৌর শক্তি বাড়ালে এমন external shock থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে।

  • ফারহান

    যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো লাভ করছে, আবার তারা নৈতিকতা দেখাচ্ছে জলবায়ু নিয়ে? অসামঞ্জস্য বেশ স্পষ্ট।

  • এনার্জি_ওয়াচ

    তেলের এই দাম বেড়ে যাওয়া শুধু ভোক্তার জন্য নয়, ব্যবসায়িক খাতেও production cost বাড়িয়েছে। পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন—সব ক্ষেত্রে চাপ।

  • শান্তনু

    কেন কোম্পানিগুলো এত লাভ করলেও তাদের কাছ থেকে কিছু ফেরত নেওয়া যাবে না? fair share দাবি করা হোক, না হয় এই অসমতা আরও বাড়বে।

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]