বিশ্বে চরম খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে : এফএও
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য supply এবং কৃষি cost উভয়ই গুরুতর চাপের মুখে পড়তে পারে, সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থার কৃষি-খাদ্য অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ডেভিড লাবোর্দে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকলে চলতি বছরের শেষের দিকে এবং ২০২৭-এর মধ্যে খাদ্যপণ্য ও খুচরা দামে উল্লম্ফন ঘটতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ কৃষি উপকরণ প্রবাহিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সার এবং জ্বালানি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এলাকায় অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তেহরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান প্রণালীতে shipping বন্ধ করে দেয়। অবরোধ এবং রাজনৈতিক অনড় অবস্থানের কারণে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এফএও বলছে, এই নৌপথ যদি আরও দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব খাদ্য সংকটের দিকে pressure বাড়বে দ্রুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেক ইউরিয়া সার এবং অন্যান্য সারের বড় অংশ প্রবাহিত হয়। এই সারগুলো কৃষি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু উপসাগরীয় এলাকার সার কারখানাগুলো প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, আর বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন ইতিমধ্যেই কমেছে। ফলে, কৃষকরা হয় কম সার ব্যবহার করবেন, নয়তো খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানোর decision নেবেন।
এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, এখনই খাদ্য সংকট নেই কারণ মজুদ এবং ফসলের মাধ্যমে সরবরাহ এখনও স্থিতিশীল। কিন্তু তিনি সতর্ক করেন, এটি শুধুমাত্র সাময়িক। যদি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত না থাকে এবং জাহাজ চলাচল শুরু না হয়, তবে সরবরাহের এই ভারসাম্য ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। কারণ তাদের খাদ্য সুরক্ষা ইতিমধ্যেই দুর্বল।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। কিন্তু ইসলামাবাদে সম্প্রতি হওয়া ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হয়। বিশ্ব এখন একটি স্থায়ী peace চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে। এফএও বলছে, এই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কৃষি পঞ্জিকা অনুযায়ী উপকরণ পেতে দেরি হলে উৎপাদন কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক growth ধীরগতি হবে।
দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর risk ঝুঁকি। তাদের কাছে খাদ্য ক্রয়ের অতিরিক্ত সামর্থ্য নেই।
আমরা শুধু রাজনীতি নিয়ে জানি, কিন্তু এর impact প্রভাব আমাদের রান্নাঘরে পড়বে। ভাতের দাম বাড়বে, দাল আরও দুর্ভাব্য হবে।
হরমুজ প্রণালী শুধু তেলের নয়, খাদ্যের নিরাপত্তার জন্যও কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আজ আমি বুঝলাম।
যুদ্ধবিরতি শুধু বন্দুকের গুলি cease থামানো নয়, জাহাজের চলাচলও ফিরে আসা দরকার। সেটা হচ্ছে না কেন?
এফএও বারবার সতর্ক করছে, কিন্তু রাজনৈতিক pressure চাপ এখনও কাজ করছে না। কবে থামবে এই ভূ-রাজনীতির খেলা?
কৃষকদের জন্য সারের অভাব কেবল খাদ্য উৎপাদন নয়, তাদের আয়ের স্থিতিশীলতাও নষ্ট করবে।