পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ময়দানে ভাগ্য নির্ধারণ হবে একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীর
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক battleground হয়ে উঠছে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর সমাবেশ। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে প্রধান contest হলেও, কংগ্রেস, সিপিআইএম, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এবং এজেআইউপি-সহ অন্যান্য দলগুলোও নিজেদের উপস্থিতি মজবুত করতে চাইছে। রাজ্যে গত তিন বার ক্ষমতাসীন তৃণমূল চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রস্তুত, আর বিজেপি দাবি করছে এবার তারা সরকার গড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই ভবানীপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। চমক হল, শুভেন্দু এবার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দু'জায়গা থেকেই লড়ছেন। তৃণমূলের অন্যতম মুখ ফিরহাদ হাকিম কলকাতা বন্দর আসনে প্রার্থী, যেখানে তার মেয়র হিসেবে কাজের সমালোচনা এবং প্রশংসা দুই-ই রয়েছে। এছাড়া, controversial ব্যক্তিত্ব মদন মিত্র কামারহাটি থেকে প্রার্থী, যার অতীতে আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তাকে মঞ্চ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের ভিতরেই dissent তৈরি করেছে।
বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকায় বেছে নিয়েছে বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারীদের। দিলীপ ঘোষ খড়গপুর সদর থেকে লড়ছেন, শঙ্কর ঘোষ উত্তরবঙ্গে বিজেপির মুখ হিসেবে শিলিগুড়িতে আবার ময়দানে। রেখা পাত্র, যিনি সন্দেশখালি scandal মামলায় উঠে এসেছিলেন, তিনি এবার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে প্রার্থী। রত্না দেবনাথ তাঁর মেয়ের হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পানিহাটি থেকে প্রার্থী, যেখানে অভিযোগ এবং আবেগ রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অর্জুন সিংয়ের মতো পুনঃপ্রবেশকারী নেতা নোয়াপাড়ায় প্রার্থী, যার দল পরিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘাঁটি ফিরে পেতে চাইছে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে বহরমপুর থেকে প্রার্থী করে। বামফ্রন্টের পক্ষে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যাদবপুরে প্রচারে ঝড় তুলেছেন, নারী safety , কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। এজেআইউপির হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তৃণমূলের ক্রোধের মুখে পড়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি রেজিনগর ও নওদা থেকে দ্বৈত প্রার্থী হিসেবে ময়দানে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের নওশাদ সিদ্দিকী ভাঙ্গর থেকে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তার মুসলিম community ভিত্তি শক্ত।
৪ মে ভোটগণনার দিন পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে। এই নির্বাচন শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতির জন্যও সমীকরণ বদলে দিতে পারে। প্রার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা, গণভিত্তি ও রাজনৈতিক বার্তা কীভাবে respond পায়, তাই এখন প্রশ্ন। যদিও বিরোধীদলগুলো একত্রিত হতে না পারায় তৃণমূল এবং বিজেপি মূল লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে। নির্বাচন শুধু আসন নয়, public trust ফিরে পাওয়ার লড়াই।
মমতা ভবানীপুরে জেতবেন কিনা সেটাই এখন দেখার, কিন্তু শুভেন্দু দুই জায়গা থেকে লড়াই করাটা strategic কৌশলগত ভাবে বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
মদন মিত্রের মতো controversial বিতর্কিত মানুষকে আবার প্রার্থী করা—এটা নৈতিকতা নাকি রাজনীতি?
রত্না দেবনাথের গল্প সত্যিই হৃদয়বিদারক, কিন্তু রাজনীতিতে এমন আবেগ কতদিন টিকবে?
বিকাশ রঞ্জন যাদবপুরে প্রচারে যা করছেন, তাতে public response সাড়া পাচ্ছেন অবশ্যই। নারী নিরাপত্তা এখন প্রধান ইস্যু।
হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ায় মুর্শিদাবাদে ভাটা পড়বে তৃণমূলের?
বিজেপি রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছে সন্দেশখালির প্রতিক্রিয়া মিটাতে—ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ কি সফল হবে?