২১৩ শিশুর মৃত্যু: হামের ছায়া কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতন?
শুধু চার ঘণ্টা নয়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের প্রাণ গেল—এই হিসাবে এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ২১৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিষ্প্রাণ করে দিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা চলছে ২২ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে। এই অতিমারি যে কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, তা বোঝা গেছে জনস্বাস্থ্য expert কণ্ঠে। তাঁদের মতে, হাম শূন্যে নামানোর ২০২৫-এর লক্ষ্য ভাঙছে ক্রমাগত সরকারি অবহেলায়। বিগত সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার, আর বর্তমান সরকার—কেউই দায় এড়াতে পারছেন না।
টিকার কার্যক্রম যে কতটা ভেঙে গেছে, তা বলছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের মুখে—৮ বছর ধরে নিয়মিত হামের টিকা দেওয়া হয়নি। সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বিশেষ ক্যাম্পেইনও বন্ধ। ফলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ভাগ শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এই বাদ পড়া প্রজন্মই এখন হামের সবচেয়ে বড় শিকার। মাঠ পর্যায়ে health assistant অসন্তোষ আর আন্দোলন টিকাদান কর্মসূচিতে বাধা তৈরি করেছে। বঞ্চনার দাবিতে তাঁরা কর্মসূচি জিম্মি করার মতো চরম পদক্ষেপও নিয়েছেন। এর ফাঁকে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস।
আরও ভয়াবহ তথ্য: হামে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় তিন ভাগের বেশি শিশু ৯ মাসের কম বয়সী। এদের শরীরে প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট না থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি আর মায়েদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইমিউনিটি না পাওয়াই এর কারণ। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক জানান, মৃত্যুহার আগে প্রতি হাজারে ৩ জন থেকে বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এটা কোনো সাধারণ মহামারি নয়—এটা একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা।
জরুরি ভিত্তিতে ৫ এপ্রিল থেকে ক্যাচ-আপ টিকাদান শুরু হয়েছে। কিন্তু সেটাও পর্যাপ্ত নয়। বিএমএ-র সাবেক সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, হাম রোধে পুষ্টি কর্মসূচি জোরদার করা, অপুষ্ট শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া আর মাতৃদুগ্ধপান বাড়ানো জরুরি। টিকার সরবরাহে self-reliance অর্জন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মহামারি ঘোষণা করেনি। কিন্তু চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল আর অতিরিক্ত নিয়োগের মতো পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে—পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে।
এই সংকট শুধু হামের টিকা না দেওয়ার ফল নয়—এটা স্বাস্থ্য খাতের গভীর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতীক। প্রতিটি সরকার অন্য কাউকে দায়ী করে সময় কাটাচ্ছে, কিন্তু শিশুদের প্রাণ ফিরে আসছে না। বিশেষজ্ঞরা আরও জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। কারণ, ভাইরাস রাজনীতি বোঝে না—শুধু দেহের দুর্বলতাকে খোঁজে।
টিকার ঘাটতি শুধু যোগানের সমস্যা নয়, সরকারি পরিচালনার ব্যর্থতা।
আমার ছোট্ট মেয়েও ৮ মাসের, খুব ভয় লাগছে। কখন টিকা দেওয়া হবে?
৯ মাসের কম শিশুরা আক্রান্ত হওয়া মানে মায়েদের ইমিউনিটি transfer স্থানান্তর ব্যর্থ হচ্ছে।
হাসপাতাল ভর্তি হাজারো শিশু—কিন্তু budget বাজেট কোথায়? আমরা আর কত সইব?
প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রাজনীতি আর উদাসীনতা। দায় কার?
মৃত্যুহার বেড়ে ১০-এ, এটা আর নিয়ন্ত্রণে নেই। emergency জরুরি ঘোষণা দেরি হচ্ছে কেন?
আমরা প্রতিবেদন পড়ি, কিন্তু কে কী করছে জানি না। কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি?
টিকা বন্ধ থাকার দায় নিতে হবে—কিন্তু ভবিষ্যতে এমনটা আর নয়।