মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বাংলাদেশের চালের দাম: এক সংঘাত, হাজার প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন আর শুধু সেই অঞ্চলের ব্যাপার নয়—এর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, ঘরের চুলা আর কারখানার মেশিনে। conflict তৈরি করছে অস্থিরতা, আর সেই অস্থিরতা একে একে গিলছে পরিবহন খরচ, জ্বালানি মূল্য, উৎপাদন খরচ—শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটের জীবনযাত্রা। বিশ্বব্যাংকের ভবিষ্যদ্বাণী ভয়াবহ: চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.৯ শতাংশে, আর প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। এটা আর শুধু অর্থনীতির সংকট নয়—এটা এক জাতীয় বাস্তবতার সংকট।
সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে fuel খাতে। মন্ত্রী টুকু স্পষ্ট করেছেন: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর সরাসরি ফলাফল? সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সমস্যা শুধু সরকারের নয়। আমদানি ব্যয়ের এই বোঝা প্রতিফলিত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে—দেশের ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে আমদানি জ্বালানি থেকে। বাড়ছে ভর্তুকি, চাপ বাড়ছে বাজেটে। energy উৎপাদন খরচ গত এক বছরে বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ—একটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা cost যা জাতীয় অর্থনীতির ভিত নাড়ছে।
বাণিজ্য খাতও আশ্রয় পাচ্ছে না। ঢাকা চেম্বার জানাচ্ছে: আমদানি কমলেও ব্যয় কমছে না—বরং বাড়ছে। একে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ‘import -জনিত মূল্যস্ফীতি’। ডিজেলের দাম বাড়ায় ইনল্যান্ড হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ, শিপিং খরচ ৩৫-৪৫ শতাংশ, বিমা প্রিমিয়াম ৫০-৬০ শতাংশ। একদিকে আমদানি ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে export পণ্যের প্রতিযোগিতা কমছে। বিজিএমইএ-এর মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, কাঁচামাল থেকে পরিবহন—সবখানে চাপ, কিন্তু মূল্য বাড়ানো যাচ্ছে না। তাই profit ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
রেমিট্যান্স নিয়ে জটিল চিত্র। গত দুই মাসে কিছুটা বৃদ্ধি হলেও ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এটা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল নয়। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর কম কর্মীর মানেই ভবিষ্যতে কম রেমিট্যান্স। দেশের ভেতরে এর প্রভাব আরও গভীর। খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন একসঙ্গে বাড়তে থাকায় ক্রয়ক্ষমতা কমছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কৃষকরা পরিবহন আর সারের খরচ বাড়লেও তাদের আয় বাড়ছে না। ছোট কারখানাগুলো তো আরও বেশি কষ্টে—উৎপাদন খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কেউ উৎপাদন কমিয়েছে, কেউ অর্ডার সীমিত করেছে। সব মিলিয়ে, একটা বৈশ্বিক crisis এখন পরিণত হয়েছে ঘরে বসে গণনা করা বিলের সংকটে।
ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করছেন: এখনই প্রয়োজন দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ। alternative জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান—এসব ছাড়া অর্থনীতি আরও নিচে যেতে পারে। বিশ্লেষণ বলছে, তেলের দাম ৪০ শতাংশ বাড়লে জিডিপি ১.২ শতাংশ কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে ৪ শতাংশ। এটা শুধু সংখ্যা নয়—এটা হাজার হাজার মানুষের ভোজনের মাপ, তাদের wage আর তাদের ভবিষ্যতের হিসাব। বৈশ্বিক সংঘাত এখন আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অংশ—আর সেই অংশ হালকা নয়।
আমাদের ছেলে দোহায় কাজ করে। সে বলে, কাজ কমছে, কিন্তু রেমিট্যান্স এখনো আসছে। ভবিষ্যতে কী হবে ভাবলে মন খারাপ হয়।
জ্বালানির দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের বেতন কেন আর নড়ে না? wage মজুরি ঠিক রাখা হয় কীভাবে?
এলএনজি আর তেলের ওপর এত নির্ভরতা থাকলে এ ধরনের shock সদ্যপ্রভাব অনিবার্য। বিকল্প উৎস না পাওয়া পর্যন্ত ঢল থাকবেই।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, কিন্তু আমাদের সরকার কি শুনছে? নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কাজ না করলে চালের দাম আরও বাড়বে।
আমাদের ছোট কাপড়ের দোকান। গত মাসে হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়েছে ৮.৫ শতাংশ। ছোট ব্যবসাগুলো কীভাবে টিকবে?
এত কিছু বললেও, আমদানি কমানো গেলে খরচ কমবে না—কারণ আমরা সবকিছুর ওপর নির্ভর করি। import আমদানি-নির্ভরতা কমাতে হবে।
বাড়িতে কয়লা চুলা ফিরিয়ে আনা হোক। এত দাম আর সইতে পারছি না। কিন্তু সরকার কি কিছু করবে?
প্রতিটি খাতে চাপ বাড়ছে দেখে মনে হচ্ছে, আসল মূল্যস্ফীতি এখনও আসেনি। এটা হলো শুরুর লক্ষণ।