২৩ মে ছুটি চাইছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা — নয় ছুটির জন্য, ভাতার জন্য
২৩ মে, শনিবার। একদিন ছিল না বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়, কিন্তু এখন সেদিনের দাবি করছেন হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। তাদের লড়াইয়ের কেন্দ্রে নেই বেতন না হোক, নেই পদোন্নতি। শুধু একটি allowance — যাকে বলা হয় শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, যা পাওয়ার অধিকার তাদেরও রয়েছে, অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই। কিন্তু একটি ছুটির দিন না পেয়ে তারা বারে বারে বঞ্চিত হচ্ছেন। এবার তারা বলছেন, সেই একদিন ছুটি ঘোষণা করুন, শুধু তাদের ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে। এই চাওয়া আর না পাওয়ার গল্পে ধ্বনিত হচ্ছে শিক্ষার অগদন্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের চার নেতা বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি application দাখিল করেছেন। তাদের যুক্তি স্পষ্ট: তিন বছর পর পর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার বিধান আছে, কিন্তু শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা অচল। কেন? কারণ, ঈদের ছুটির সময় শিশুদের শিখন-ঘাটতি পূরণের জন্য classes চলে, বিশেষ করে ১০টি শনিবার। ফলে, সেই দিনগুলোতে বিদ্যালয় খোলা থাকে। ঈদ-উল-আযহার ছুটি শুরু হচ্ছে ২৪ মে থেকে, কিন্তু ২৩ মে, শনিবার বিদ্যালয় খোলা থাকলে ছুটির ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। একটি day এখানে হারানো মানে হাজার হাজার শিক্ষকের জন্য ভাতার সুযোগ হারানো।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, বর্তমান ছুটির সূচিতে ১৫ দিনের ছুটি মেলানো সম্ভব হলেও ২৩ মে বিদ্যালয় খোলা থাকায় মোট ছুটি ১৫ দিন হবে না। ফলে, তারা আবারও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা থেকে excluded হবেন। এই বঞ্চনা নেহাত আর্থিক নয়; এটি স্বীকৃতির অভাব। তারা আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজের প্রকৃতি ভ্যাকেশনাল ডিপার্টমেন্টের মতো নয়, কিন্তু তাদের সুবিধা পাওয়ার দরজা এই ভিন্নতা ঘেঁষে বন্ধ হয়ে যায়। সেই ভেদ ঘোচাতেই তারা একটি holiday চাইছেন — নিজেদের জন্য নয়, বরং ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের জন্য।
২৩ মে ছুটি ঘোষণা করা হলে শিক্ষকরা প্রায় ১৫ কর্মদিবসের ছুটি পাবেন, যা ভাতা পাওয়ার শর্ত পূরণ করবে। এই আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মো. আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রান্তি ভাতা পেতে তাদের তিন বছরের বদলে চার থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এটি কোনো ছোট ব্যাপার নয়। এটি একটি delay , যা শিক্ষার অগ্রযাত্রার গতি কমিয়ে দেয় এবং শিক্ষকদের মনোবল নষ্ট করে। তাই এই আবেদনের পেছনে শুধু ভাতা নয়, মর্যাদার দাবিও ধ্বনিত হচ্ছে।
একদিনের ছুটি চাইছেন ভাতা পেতে — শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা বাস্তব। আমাদের system ব্যবস্থার এমনই বৈষম্য।
শনিবারে ক্লাস করা হয় শিশুদের জন্য, কিন্তু শিক্ষকদের ভাতা না পাওয়া কী ভাবে ন্যায়সঙ্গত?
এই আবেদনের পেছনে আসলে ন্যায়বিচার চাওয়া হচ্ছে, নগদ টাকা নয়। মর্যাদা চাইছেন শিক্ষকরা।
আমরা কত সহজে ভাবি সরকারি চাকরি মানেই benefits সুবিধা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কতটা ভিন্ন!
২৩ মে ছুটি দিলে কী হবে? পরের বছর আবার একই সমস্যা। আসল সমাধান কি নীতির পরিবর্তন নয়?
ভাতা পেতে একদিন ছুটি — এটা কি খুব বেশি চাওয়া? এটা তো শুধু ন্যূনতম right অধিকার।
শিক্ষকদের শ্রম ও সময় কখনোই আনুষ্ঠানিক ছুটির দিন দিয়ে মাপা যায় না।
এই আবেদনের পেছনে কত বছরের অবহেলা? একটি request আবেদন নয়, এটা চিৎকার।