বাসি রুটি, দুর্গন্ধযুক্ত ডিম: পুষ্টির নামে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে?
একটি সরকারি প্রকল্পের নাম করে শিশুদের মুখে পুষ্টি নয়, পোকা-ধরা রুটি আর দুর্গন্ধযুক্ত ডিম পাঠানো হচ্ছে—এটা কি আর কল্পনার বাইরে? নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে feeding প্রকল্পের নামে চলছে খাবার বিতরণের অনিয়ম। শিক্ষার্থীদের বলা হয়, এটা তাদের পুষ্টির জন্য, কিন্তু বাস্তবে তা স্বাস্থ্য ঝুঁকির বীজ বপন করছে। খাবার দেখে ছোট ছোট চোখে ভয়, নয় বিতৃষ্ণা, কখনো বা অভিভাবকদের হৃদয় ভার। যারা বিশ্বাস করেছিলেন সরকারি হাত তাদের সন্তানদের পুষ্টির দিকে এগিয়ে নেবে, তারাই এখন প্রশ্ন তুলছেন—প্রকল্পটা কি শুধু কাগজে কার্যকর?
প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২২ হাজার ৯২৩ জন শিশু, যাদের সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন: বনরুটির প্যাকেটে insect , সিদ্ধ ডিমে গন্ধ, কলায় সন্দেহজনক ফরমালিনের গন্ধ। ফুল খেয়ে উঠতে পারে না যে ফল, তা কি তাদের মেনুতে ঢুকবে? স্বাস্থ্যসম্মত মানদণ্ড কোথায় হারিয়ে গেল? অভিভাবকদের আক্ষেপ, স্কুলে এসে তাদের ছেলেমেয়েরা খাবার পাচ্ছে না, বরং অসুস্থতা পাচ্ছে। supply প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারির অভাব ছাড়া আর কী ব্যাখ্যা দেয় এই চিত্র?
কিছু officials জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের দোহাই দিচ্ছেন। রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহরুক জাবীন বলেন, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং ঠিকাদাররা শতভাগ খাবার সরবরাহ করতে পারছেন না। কিন্তু যেটুকু আসে, তার বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। অথচ সেই অসম্পূর্ণ সরবরাহের মধ্যেও যদি মানহীন খাবার থাকে, তবে বিল পরিশোধের নীতি কি শুধু হিসাবের কাগজে সত্য? বিতরণকারীদের একজন আমিনুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই—কিন্তু ভৌত বাস্তবতা তার কথার বিপরীত প্রমাণ দিচ্ছে। local উৎস থেকে খাবার সংগ্রহের দাবি কি মান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অজুহাত মাত্র?
ইউএনও মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় সেই ব্যবস্থা? কারা দায়ী? কে জবাব দেবে সেই শিশুদের যারা পেট ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরছে? এই project শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য। কিন্তু যদি খাবারের মাধ্যমে তারা অসুস্থ হয়, তবে সেই উপস্থিতি কি আর অর্থবহ? পুষ্টি না পেয়ে শিশুরা হারাচ্ছে আস্থা—এবং স্বাস্থ্য। প্রতিটি দুর্গন্ধযুক্ত ডিম একটি প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতার গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখন প্রশ্ন, কখন থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি হয়ে উঠল পুষ্টির বিকল্প?
আমার ভাইপো বিরাবো স্কুলে পড়ে। অসুস্থ হয়ে গেল খাবার খাওয়ার পর। আমরা কি করব?
কোনো ঠিকাদার যদি মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার দেয়, তার বিরুদ্ধে কি action ব্যবস্থা হবে না?
জ্বালানি সঙ্কটের দোহাই দিলেও পোকা-ধরা রুটির কী কারণ হতে পারে?
এই প্রকল্পের আদর্শ উদ্দেশ্য ছিল help সাহায্য করা, কিন্তু কাজে কাজে এটা হচ্ছে বঞ্চনা।
আমি বিশ্বাস করি না যে প্রতিষ্ঠানগুলো এতটা অযত্ন করতে পারে। নিশ্চয়ই কেউ ঘুষ খাচ্ছে।
আমার মেয়ে স্কুলে খাবার খায় না। বলে, গন্ধ খারাপ। এটা কি স্বাভাবিক?
monitoring তদারকি না থাকলে এমন হবেই। কে খাবার পাঠাচ্ছে, কে বিতরণ করছে—কেউ দেখছে কি?