প্রেগন্যান্সিতে প্যারাসিটামল: ভয় নাকি আশ্বাস, বিজ্ঞান কী বলছে?
pregnancy একটি ছোট্ট জ্বর মানেই কি অটিজমের বীজ বোনা? এমন প্রশ্ন আজও অনেক mother মনে উঁকি দেয়, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কিছু মন্তব্যের পর। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তৃতায় গর্ভবতীদের paracetamol না খাওয়ার পরামর্শ দিলে, তা তো আগুনে ঘি ঢালার মতো হয়ে গেল। 'টাইলেনল গর্ভাবস্থার জন্য একদম ভাল নয়'—এই কথার রেশ পড়ে গেল হাজার হাজার মায়ের ঘুমে। কিন্তু বিজ্ঞান কি সত্যিই এই ভয়ের সঙ্গে একমত?
এখন ডেনমার্কের এক research সেই ভয় ভাঙছে এক ঝটকায়। journal 'জামা পেডিয়াট্রিক্স'-এ প্রকাশিত এই অধ্যয়নে ১৯৯৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত জন্মানো ১৫ লক্ষ ৪ হাজার শিশুর তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১,০০০ মায়ের গর্ভাবস্থায় medicine খাওয়ার রেকর্ড ছিল। আশ্চর্যের বিষয়: যাদের জন্মের আগে তারা প্যারাসিটামলের সংস্পর্শে এসেছিল, তাদের মধ্যে মাত্র ১.৮% শিশুর অটিজম ধরা পড়ে। আর যাদের মা খেয়েছিলেন না? তাদের মধ্যে তা ছিল ৩%। অর্থাৎ, ওষুধ না খাওয়া শিশুদের মধ্যে অটিজমের হার আরও বেশি!
এটা মানে কি প্যারাসিটামল সুপারিশ করা হচ্ছে? না। বরং বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রমাণ তো এর উল্টোটাই বলছে। ডোজের মাত্রা, গর্ভাবস্থার কোন ত্রৈমাসিকে খেয়েছেন—সব কিছু মিলিয়েও কোনও link পাওয়া যায়নি। আগের কিছু গবেষণা, বিশেষ করে ২০২৪ সালের sweden এক অধ্যয়নে বলা হয়েছিল, এই ওষুধে এডিএইচডি বা অটিজমের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সেটার পেছনে অন্য কারণ খুঁজছেন—যেমন, উচ্চ জ্বর বা সংক্রমণ, যার কারণে মা ওষুধ খেয়েছিলেন। সেই শারীরিক condition বরং শিশুর স্নায়বিক বিকাশে প্রভাব ফেলেছে, ওষুধ নয়।
অটিজম হল স্নায়বিক বিকাশের এক ভিন্নতা, রোগ নয়। এটি শৈশবেই প্রকাশ পায়, কিন্তু সঠিক সমর্থনে অটিজম আক্রান্ত মানুষ অত্যন্ত সফল ও সৃজনশীল জীবন গড়তে পারেন। আর হ্যাঁ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এখনও একই: ওষুধ খাওয়া উচিত শুধু প্রয়োজনে, ন্যূনতম মাত্রায় এবং সবসময় পরামর্শ করে। কিন্তু আর নয় অযথা ভয়। বিজ্ঞান বলছে, আশ্বাস দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। গর্ভাবস্থা হওয়া উচিত আনন্দের, নয় গুজবের ভয়ে anxiety বাড়ানোর।
মায়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, শিশুর জন্যও জরুরি। প্যারাসিটামল এখনও সবচেয়ে নিরাপদ জ্বর কমানোর ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। তবে caution এখনও প্রয়োজন। চিকিৎসক ছাড়া কোনও treatment নয়। তথ্য ছাড়া কোনও ভয় নয়। একটি সুস্থ মনের মধ্যেই একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে।
এতদিন ভেবেছি জ্বরেও ওষুধ খেলে বাচ্চার ক্ষতি হবে। এই study গবেষণা পড়ে একটু স্বস্তি পেলাম।
সুইডেন আর ডেনমার্ক—দুটো গবেষণাই কি একই ডেটা ব্যবহার করেছে? পার্থক্যের কারণ কি নমুনা আকার?
আমি প্রতিদিন মায়েদের বলি—paracetamol প্যারাসিটামল এখনও সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রা কখনও নয়।
ট্রাম্প কেন এমন মন্তব্য করলেন? রাজনীতি নাকি জনস্বাস্থ্য নিয়ে আসল উদ্বেগ?
ভয় পেয়ো না, মায়েরা। আমার তিন সন্তান, সবার জন্মের আগে প্যারাসিটামল খেয়েছি। সবাই ভালো আছে।
১.৮% আর ৩%—এই হারের পার্থক্যের পিছনে কি আসলে অন্য ফ্যাক্টর কাজ করছে?
বিজ্ঞান সবসময় এক দিনে চূড়ান্ত হয় না। আরও গবেষণা দরকার, কিন্তু এখন অপ্রমাণিত ভয়ে নিজেকে অসুস্থ করা ঠিক নয়।
মা হওয়া মানেই তো প্রতিদিনকার ছোট সিদ্ধান্তে ভারসাম্য রাখা। ভারসাম্যটাই মূলকথা।