টিকা নেই, কিন্তু কথা বললে চাকরি যাবে?
টিকার সংকট আর তার মুখোমুখি হওয়া মানুষ — এ কোনো নতুন ছবি নয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার। কিন্তু যখন এক সরকারি official বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দিয়ে জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতি তুলে ধরেন, তখন শুধু সেই ঘাটতি নয়, বরং তাকে punish নেওয়ার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মুন্সীগঞ্জের হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তিনি এক কর্মকর্তাকে close ঘোষণা দেন এবং জেলার সিভিল সার্জনসহ আরও দুজনকে বরখাস্ত করার কথা বলেন। কেন? কারণ, তারা সরকারের image করেছেন বলে মন্ত্রীর অভিযোগ।
অথচ মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন কামরুল জমাদ্দার দাবি করছেন, তারা আগেই উপরের অফিসকে inform টিকার স্বল্পতা নিয়ে। তারা শুধু বলেছেন যে, প্রতিমাসে পুরো জেলাতে ২৬০০ ভায়েল টিকার প্রয়োজন। এখন হাসপাতালে মাত্র ২৬ ভায়েল আছে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিজেই কয়েক মাস আগে জেলা অফিসগুলোকে বলেছিল, টেন্ডারের টাকা থেকে purchase হোক। কিন্তু সেই টাকার বড় অংশ ইতিমধ্যেই spent হয়ে গেছে অন্য কাজে। এখানেই শেষ নয়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে জলাতঙ্কের টিকার সংকট চলছে দেশজুড়ে, যা একটি মরণব্যাধি যার মৃত্যুহার প্রায় শতভাগ।
মন্ত্রী বারবার claim যে সব ধরনের টিকা কমপক্ষে ছয় মাসের মজুদ আছে। "টিকার কোনো সংকট নেই" — এমন কথা তিনি বারবার বলেছেন মিডিয়ার সামনে। কিন্তু বিবিসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রোগীর স্বজনদের নিজেদের টাকায় বাইরে থেকে টিকা কিনতে forced হচ্ছে। একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এটি set । কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সরবরাহের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের blame হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই ঔষধ, সরঞ্জাম আর লোকবলের অভাবে লড়ছেন।
এই ঘটনা শুধু মুন্সীগঞ্জের নয় — পুরো দেশের টিকাদান কর্মসূচি এখন ঝুঁকির মুখে। হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ সেই টিকার মজুদ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজধানীর কোনো কোনো কেন্দ্রে polio নেই বলে জানা গেছে। এদিকে, ২০১১ সালে শুরু হওয়া জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি এখন ভাঙনের মুখোমুখি। যে ওপি প্ল্যান বা অপারেশনাল প্ল্যান ছিল কর্মসূচির ভিত্তি, সেটি ২০২৫ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, টিকা কেনার পরিকল্পনা নেই, budget নেই, আছে শুধু অভিযোগ আর দায় চাপানো। কারা পাবে টিকা, কারা পাবে না — সেটাই এখন প্রশ্ন।
মন্ত্রী বলেছেন, কর্মকর্তা সরকারের বিরুদ্ধে act করেছেন। কিন্তু কী হবে তাদের, যারা নিজের টাকায় টিকা কিনে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে? কী হবে সেই কর্মকর্তাদের, যারা report সাহস পাবে না? একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলে যদি ভয় থাকে, তাহলে সত্য কে বলবে? আর সত্য না বললে, সংকট কি কখনো সমাধান হবে? টিকা নেই — এটা বলার দায় কার? আর কার দায় টিকা দেওয়া?
একজন কর্মকর্তা speak কথা বলেছেন, তাকেই ক্লোজ করা? এতে ভবিষ্যতে কেউ সত্য বলবে না।
টিকা নাই, কিন্তু মন্ত্রী বলছেন আছে। এই অস্বীকৃতি কতদিন চলবে?
আমরা হাসপাতালে যাই, কিন্তু টিকা নেই। রোগীর পরিবারকে buy কিনতে হচ্ছে। এটা কীভাবে হয়?
কেন্দ্র থেকে যদি সরবরাহ fail ব্যর্থ হয়, তাহলে জেলার কর্মকর্তাকে দায়ী করা যায় না।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষাও ভাববে না এখন। সবাই চুপ করে থাকবে।
জলাতঙ্ক মারাত্মক রোগ। টিকা না পেলে মানুষ মরবে। এটা কি মন্ত্রী বুঝছেন?
আমরা নির্দেশ মানি, কিন্তু টাকা আর সাপোর্ট না পেলে কাজ চালানো অসম্ভব।
বিবিসি এসে প্রকাশ করল। নইলে আমরা কি কখনো জানতাম?