বাংলাদেশে হামের স্রোত, পশ্চিমবঙ্গে কি আসবে সেই ঝুঁকি?

সংক্রমণ মানুষের ভয় নয়, তাকে মাপতে হয় উৎসে। বাংলাদেশে এখন সেই মাপ নেই—৬৪ জেলার ৫৮টিতে measles ছড়িয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে দেশের ৯৯ শতাংশ এলাকা। প্রতিটি পাড়ায় শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, চোখ লাল, জ্বরে কাবু। এমন অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশটিকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। তারা বলছে, এই ভাইরাস আর কেবল বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই—সীমান্ত পার করে এটি হুমকি হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গসহ প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোর জন্য। জ্বর, কাশি, সর্দি—এগুলো আর সাধারণ symptom নয়, এগুলো হামের প্রথম ইঙ্গিত।

১৫ মার্চ থেকে আড়াইশোর বেশি শিশুর মৃত্যু—এক লিখিত সংখ্যা নয়, এটা ঘরে ঘরে শোকের মিছিল। প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। হাসপাতালে ৫০ হাজার শিশু চিকিৎসাধীন, আর বাড়িতে তার চেয়েও বেশি। এই মহামারির পেছনে রয়েছে টিকাকরণের ভয়াবহ ধসinterim government চলাকালীন হামের টিকাকরণ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দেশ থেকে নির্মূল হওয়া রোগ আবার ফিরে এসেছে। এখন পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুরা দলে দলে আক্রান্ত হচ্ছে। একটি ভাইরাস শুধু শরীর আক্রান্ত করে না, এটি ভেঙে দেয় সুস্থ জীবনের ভারসাম্য। সেই ভারসাম্য এখন নেই।

হাম এমন একটি virus যা অতি দ্রুত ছড়ায়, বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে। সংস্পর্শমাত্রই বিপদ—একটি কাশি, একটি হাঁচি পর্যাপ্ত হতে পারে হাজার জনকে ঝুঁকিতে ফেলতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: সীমান্তবর্তী এলাকায় vaccination ও নজরদারি তৎক্ষণাৎ শুরু করতে হবে। যারা সংক্রামিত শিশুর সংস্পর্শে এসেছে, তাদের বয়স নির্বিশেষে হামের টিকা দেওয়া প্রয়োজন। এটি কোনো suggestion নয়, এটি জরুরি নির্দেশ। প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু না হলে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ফুসকুড়ি, যা মাথা থেকে শুরু হয়ে পা পর্যন্ত ছড়ায়।

এই অবস্থা কি শুধু বাংলাদেশের? না। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ স্থল ও নদীর সীমান্ত রয়েছে। ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয়—সব জেলাই সংলগ্ন। নিয়মিত যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, পারিবারিক সম্পর্ক—এগুলো হামের ভাইরাসের অদৃশ্য সেতু হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট এখন হালকা লাল সতর্কতা নয়—এটি লাল সাইরেন। দ্রুত টিকাকরণ কার্যক্রম শুরু না হলে আমরা শুধু প্রতিবেশী দেশের দুঃখের গল্প পড়ব না, তা হয়ে উঠবে আমাদের নিজেদের সংকট। একটি ভাইরাস এখন দুই দেশের মানুষের health নিয়ে খেলা করছে।

বাংলাদেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষয়ের চিহ্ন। যেখানে টিকাকরণ বন্ধ হয়, সেখানে রোগ ফিরে আসে। আমরা দেখছি কীভাবে একটি নির্মূল হওয়া রোগ আবার ঘরে ঘরে মৃত্যু ছড়াচ্ছে। এটি শুধু মৃত্যুর গণনা নয়, এটি একটি সমাজের ভয়, হতাশা, আর অসহায়ত্বের গল্প। এখন সময় হয়েছে সতর্ক হওয়ার। নজরদারি, টিকা, আর সচেতনতা—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সুরক্ষা গড়ে তুলতে হবে। ভাইরাস যেমন সীমান্ত মানে না, তেমনই আমাদের সুরক্ষাও হওয়া উচিত সীমাহীন। আমাদের children এই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ—তাদের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা এখনই প্রমাণ করতে হবে।

প্রতিক্রিয়া 8

  • সুমন_৩৮

    এত শিশুর মৃত্যু? কীভাবে সম্ভব! টিকাকরণ কেন বন্ধ হল? government কোথায় ছিল?

  • ডাক্তার_আরিফ

    প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরেই চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। fever আর কাশি মানুষ উপেক্ষা করে।

  • মা_নন্দিনী

    আমার ছোট ছেলেটা অনেকদিন টিকা নেয়নি। এখন কি করব? ভয় লাগছে। vaccination নিয়ে আর দেরি করা যাবে না।

  • রাজীব_কলকাতা

    পশ্চিমবঙ্গে কি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? border দিয়ে তো ঘন ঘন যাতায়াত।

  • নির্মল_৭২

    আগে এমন হাম দেখিনি। এখন সব জায়গাতেই শোনা যাচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতা।

  • সুকুমারী

    আমরা এত কিছু ভুলে যাই। হাম নির্মূল হয়েছে ভেবে টিকা বন্ধ। কিন্তু রোগ মানুষের মনে নয়, ভাইরাসের মধ্যে।

  • আলাউদ্দিন_৪৫

    টিকাকরণ কার্যক্রম তো আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল। delay হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

  • নীলাদ্রি

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শুধু হাসপাতালে নয়, রাস্তায়, বাড়িতে, প্রতিটি মায়ের হাতে।

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]