২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু: হাম কি আবার ফিরে এল?
শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন, আর সেই খবর শুনে গোটা দেশ কাঁপছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের symptom নিয়ে মারা গেছে ৯ শিশু — এমন তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত এই মৃত্যুগুলো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে hospital হওয়া শিশুদের সংখ্যাও কমছে না — শুধু এই সময়ের মধ্যেই ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭৬ শিশু। হাম কি আবার ফিরে এল এমন প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম সংক্রমণে মারা গেছে অন্তত ৪৭ শিশু। এছাড়া, হামের infection না থাকলেও তার উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২৬৬ শিশু। মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা উল্লেখ করছেন দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১৬৩ শিশুর দেহে হামের virus । এই রোগ ছড়াচ্ছে বাতাসের মাধ্যমে, আর একজন আক্রান্ত শিশু থেকে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮৫৬টি শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে ল্যাব পরীক্ষায়। আর দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুকে। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু ইতোমধ্যে discharge নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় সংকটের মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি যথেষ্ট প্রস্তুত? হাসপাতালে শিশুদের ভিড় দেখে মনে হয় না। treatment পাচ্ছেন অনেকেই, কিন্তু সবাই পাচ্ছেন কি? আর কতদিন এই সংক্রমণ ছড়াবে?
টিকা যে হাম রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়, তা আমরা জানি। কিন্তু তবু কেন এত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে? সেখানে উঠছে টিকাদানের ফাঁকফোকরের প্রশ্ন। কিছু এলাকায় টিকা পৌঁছাচ্ছে না, আবার কোথাও বা অভিভাবকদের দ্বিধা। হাম শুধু একটি রোগ নয়, এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরীক্ষা। প্রতিটি মৃত শিশুর পিছনে রয়েছে ব্যর্থতার গল্প — সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক আর প্রশাসনিক। প্রশ্ন এখন শুধু একটাই: কবে থামবে এই মৃত্যুর প্রবাহ? প্রতিরোধ সম্ভব, কিন্তু সেটা সময় আর সম্মিলিত কর্মসূচির ব্যাপার।
এত শিশুর মৃত্যু শুনে হৃদয় ভেঙে গেল। টিকা নিলে হাম হয় না, কিন্তু কেন এখনো সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না?
এই সংখ্যাগুলো দেখে মনে হচ্ছে আমরা পিছনে ফিরে যাচ্ছি। প্রযুক্তি আছে, জ্ঞান আছে, তবু কেন এত আটকানো যাবে এমন মৃত্যু?
আমার ছোট ভাইয়ের হাম হয়েছিল, কিন্তু তাকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে বেঁচে গেছে। কিন্তু অনেকের কাছে এমন সুযোগ নেই।
উপসর্গ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা হলে অনেক মৃত্যু এড়ানো যায়। early আরম্ভে লক্ষণ চিনতে পারা গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা শুধু মৃত্যুর সংখ্যা শুনছি, কিন্তু কীভাবে হাম ছড়ায়, কীভাবে বাচ্চা সে থেকে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা কতটা?
গ্রামের কিছু মা টিকার বিরুদ্ধে কথা বলেন, ভাবেন টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হবে। এই ভুল তথ্য কবে দূর হবে?
হাসপাতালগুলোতে এখন শিশুদের ভিড় দেখে মনে হয় আপদ আসছে। কিন্তু সরকার কি প্রস্তুত আছে এর মোকাবিলা করতে?
আমার বাড়িতে টিকার প্রচার কর্মী এসেছিল, কিন্তু পাশের বাড়ির মা বলেছেন, টিকা দেবেন না। কেন? কারণ জানেন না। শুধু fear ভয়।