দুদক অধ্যাদেশ বাতিল: দুর্নীতিবাজদের পোষণ নাকি রাজনৈতিক টালবাহানা?

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশ। নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিটমেন্টহীন, মেরুদণ্ডহীন এবং ক্ষমতার অনুগত ব্যক্তিদের দুদকে নিয়োগ দেওয়ার পথ তৈরি করার অভিযোগ ওঠেছে। এই সিদ্ধান্তএর ফলে দুর্নীতিবাজদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির জায়গা সংকুচিত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে আশা জাগা ছিল, তা নিরাশায় পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

দুদক সংস্কার কমিশনের সদস্য আহমেদ আতাউল হাকিম বলেন, অধ্যাদেশ বাতিল করা হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই unfortunate । তারা বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। সরকার যদি কোনো বিষয়ে আপত্তি করতে চায়, তবে আলোচনা করুক, কিন্তু একতরফা বাতিলের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তিনি জোর দেন যে, দেশের স্বার্থ চিরস্থায়ী, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ নয়।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো এখনো presented করা হয়নি সংসদে, কারণ সেগুলো আরও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি তার নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী এগুলোকে আরও modern করে আইনে রূপান্তরিত করবে। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ যুক্তিকে delaying বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশে কিছু ঘাটতি থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে দুর্বল করা হয়েছে। তবু ভালো উপাদানগুলো রয়েছে, যা সংসদে আলোচনা করে ঢেলে সাজানো উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব অঙ্গীকারের বিরোধিতা করা হচ্ছে। দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম জানান, বাতিল হলেও অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বলবৎ থাকবে, কারণ আপিল বিভাগের রায় এ বিষয়ে স্পষ্ট।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুদকের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে মামলা দায়ের, তদন্ত ও বিশেষ আদালত গঠনের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের দুর্নীতিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছিল। বর্তমানে যে ‘দুদক আইন ২০০৪’ কাজ করছে, তাতে 32(ক) ধারায় বিচারক বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারি অনুমতি লাগে, যা দুদকের independence খর্ব করে। আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেন, সরকার আন্তরিক না হলে নতুন আইন করা হবে না। তাদের সিদ্ধান্ত থেকেই পরিষ্কার, anti-corruption প্রতি কোনো প্রকৃত support নেই।

প্রতিক্রিয়া 6

  • রাজনীতির_অন্তর

    এই অধ্যাদেশ বাতিল করা মানে দুর্নীতিবাজদের জন্য লাল কার্পেট বিছানো। support না থাকলে সংস্কার হবে কীভাবে?

  • আইন_খোঁজা

    আপিল বিভাগের রায় আছে বলে অধ্যাদেশের সিদ্ধান্তগুলো বলবৎ থাকবে, কিন্তু নতুন কমিশন না গঠন করলে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।

  • জনগণ_এক

    আমরা জুলাইয়ের আশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম, আর এখন আবার পুরনো রাজনীতির দিকে ফিরে যাচ্ছি। pressure তৈরি করতে হবে আবার।

  • বাস্তবদর্শী৮৭

    বিএনপি জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল—তাই আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তারা দুদককে নিজেদের মতো করে গড়বে।

  • সত্য_খোঁজা

    সরকার যদি সত্যিই দুর্নীতি দমন চাইত, তবে অধ্যাদেশ নয়, আইন করে সংস্কার করত। decision থেকেই ইচ্ছার অভাব স্পষ্ট।

  • নিরীক্ষণ

    দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল অধ্যাদেশে—এটা বাতিল হলে কে কার ওপর জবাবদিহি করবে?

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]