‘কুশন’ ছাড়া অর্থনীতি ফিরবে না: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
economy যখন তলানিতে, তখন তাকে ফের সোজা করে দাঁড় করাতে বড় investment ছাড়া উপায় নেই। এমনই কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যাঁর মতে দেশের ধসে যাওয়া economic অবস্থা ঠিক করতে সরকার এখন বড় ধরনের বাজেট প্রণয়নের পথে। বুধবার এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে আসন্ন বাজেট নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ discussion সভায় প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করে তিনি এই সংকেত দেন। এটি কেবল নীতি নয়, এক ঘোষণা—যে সংকট গভীর, তা লুকোনো হবে না, কিন্তু তা মোকাবিলায় স্পষ্ট পথ ধরা হবে।
additional খরচের চাপ কম নয়: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি খাতে দেশের ব্যয় বেড়েছে তিন বিলিয়ন ডলার। এটি কোনও ছোট অঙ্ক নয়—এমন সংখ্যা যা কোনো উন্নয়নশীল দেশের আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। এই প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে যে ঘুরে দাঁড়াতে তাদের কমপক্ষে দুই বছরের একটি ‘কুশন’ বা আর্থিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। এটি কোনও আবেগপ্রবণ আবদার নয়, বরং বাস্তব অবস্থার স্বীকৃতি।
তবে সমস্যার মূল কেবল বৈশ্বিক নয়। দেশের নিজস্ব অবকাঠামোও নড়বড়ে। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের এক ভঙ্গুর উত্তরাধিকার পেয়েছে। এই fragile ভিত থেকে দাঁড়ানো সহজ নয়, কিন্তু সরকার সেই চেষ্টায় নিয়োজিত। ব্যবসায়িক barriers দূর করা, নীতি সরলীকরণ, কার্যকর তদারকি—এগুলোই এখন কাজের প্রাথমিক তালিকা। এখানে শুধু কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের প্রয়োজন, আর তার প্রমাণ আশা করছে ব্যবসায়ী মহল।
আশার কথা হলো, সরকার শুধু পোশাক খাতেই ভরসা রাখছে না। রফতানি আয় বাড়াতে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোতেও প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এটি কেবল বৈচিত্র্য নয়, টেকসই growth কৌশল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বাস ফিরে পাওয়া। বিনিয়োগকারীদের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করা—যে এই দেশে আবার বড় business করা সম্ভব। সেই পথে হাঁটা শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রমাণ তো এখনও বাকি।
এগিয়ে যাওয়ার পথে সংকট কমবে না হঠাৎ। কিন্তু সংকটকে স্বীকার করার সাহস থাকলে, পথ খোঁজার ইচ্ছাশক্তি থাকলে, পুনরুদ্ধার অসম্ভব নয়। এখন প্রশ্ন হলো, ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হবে? বাজেট কি শুধু কাগজে লালিত্য নেবে, নাকি মাটিতে প্রভাব ফেলবে? তার উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, কর্মী—সকলেই। কারণ, অর্থনীতি শুধু সংখ্যা নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আর সেই প্রতিশ্রুতি রাখা যায় কি না, তা নির্ভর করছে প্রতিটি পদক্ষেপের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।
ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার fragile ভঙ্গুর—এ কথা স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু কখন ঠিক হবে?
বাজেটে প্রণোদনা দেবেন বলেছেন, কিন্তু কোন খাতে? তার বিস্তারিত কখন?
তিন বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ—এটা কি শুধু জ্বালানির জন্য?
আমরা প্রতিদিন মুদ্রাস্ফীতি ভোগ করছি, এই কুশন কি আমাদের জীবনে স্পর্শ করবে?
বিনিয়োগ চাই, কিন্তু বিশ্বাস কম। ঘোষণা বেশি, কাজ কম।
অন্তত সমস্যা লুকোচুরি করা হচ্ছে না—এটাই প্রথম ধাপ।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সাথে কথা হয়েছে—কিন্তু তাদের শর্তাবলী কী হতে পারে?
রফতানি আয় বাড়াতে চাইলে প্রথমে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের barriers বাধা দূর করুন।