চল্লিশ দিনের যুদ্ধে সত্তর বছরের সব অর্জন হারিয়েছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র

চল্লিশ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে joint strategy ছিল, তা কেবল ইরানের সরকারকে ভাঙার জন্য ছিল না, বরং তেল সম্পদ দখল এবং আঞ্চলিক dominance বিস্তারের পরিকল্পনাও ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব এখন সেই পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই অপারেশনের পরিণতি ছিল ভিন্ন। ইরান কেবল আক্রমণ মোকাবিলাই করেনি, বরং ন্যাটো ঘাঁটি, বিমানবাহী রণতরী এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক pressure ভেঙে দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন সামরিক নেতারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছিলেন। প্রাক্তন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ ছিল কল্পনার ব্যর্থতা। এটি ছিল না কোনো বাস্তব জাতীয় স্বার্থের যুদ্ধ, বরং ইসরায়েলি নেতাদের চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে গিয়েছিল। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার পরিকল্পনা ছিল অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ, কিন্তু ইরানি প্রতিরোধ তাকে বুমেরাং-এ পরিণত করেছে। ফলে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস, নৌবহর ভস্মিভূত এবং সামগ্রিক trust হারানো হয়েছে।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল যে unprepared ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ইরানি প্রতিনিধিরা তাদের যুক্তিপূর্ণ দাবি উপস্থাপন করলেও মার্কিনরা যুদ্ধে হারার পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে জয়ের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ ছিল অভিজ্ঞ এবং কূটনৈতিক দক্ষতায় ভরপুর। এই ব্যবধান মার্কিন বৈশ্বিক প্রভাবের পতনের আরেকটি প্রমাণ। বিশেষ করে জারেড কুশনারের মতো নেতারা যখন বৈদেশিক নীতি চালায়, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নয়, বরং ideological agenda পূরণ হয়।

ইরানের পারমানবিক বোমা না তৈরির ফতোয়া, চার দশকের কৌশলগত সহনশীলতা এবং অবরোধের মধ্যে টিকে থাকা দেখায় যে তারা শুধু প্রতিরোধই জানে না, বরং আক্রমণাত্মক কৌশল পরিচালনায় সক্ষম। এবার তারা আইআরজিসি হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন রোধে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল লেবাননের জন্য নয়, বরং সমগ্র আরব জগতের জন্য একটি warning । যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন মিত্ররা এখন তাদের স্বাধীনতা ও সম্পদ রক্ষায় নতুন ঐক্যের ডাক দিচ্ছে।

ইসরাইল এবং মার্কিন প্রপাগান্ডা মিডিয়া যুদ্ধে কৃত্রিম বিজয়ের ছবি তৈরি করলেও বাস্তবতা অন্যরকম। ইরান তার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে। এই এক মাসের অবরোধই পশ্চিমকে পঙ্গু করে দিয়েছে। চল্লিশ দিনের যুদ্ধে শুধু সত্তর বছরের অর্জন নয়, বরং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভবিষ্যতও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এখন আর কোনো easy decision নেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতিক্রিয়া 6

  • আলিফ

    এই যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল কিন্তু মার্কিন মানুষের কাছে লুকোনো হচ্ছে। public trust ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।

  • নূরা

    ইসরাইল আগে থেকেই নৈতিকভাবে আলাদা হয়ে গিয়েছে। এবার সামরিকভাবেও তারা isolation

  • সাকিব

    মার্কিন প্রশাসনের এই হাবাগোবা আচরণ দেখে অবাক লাগে। তারা কি সত্যিই unprepared ছিল?

  • তাহমিদ

    যুদ্ধে হারার চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো আন্তর্জাতিক আস্থা হারানো। মার্কিন প্রভাব আর ফিরবে না।

  • রিমা

    ইরানের কৌশল ছিল নিখুঁত। তারা শুধু হামলা করেনি, বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

  • জাহিদ

    কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পক্ষে এগিয়ে গেল? তাদের কি কোনো real interest ছিল?

এই লেখা তথ্যভিত্তিক এবং ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত; পাঠকের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের উদাহরণ।

[email protected]