ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতার জাল?
বাংলাদেশ কি বিএনপি সরকারের চলতি মেয়াদেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে? সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা এমন আশা প্রকাশ করেছেন। এই দাবি কি রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস নাকি অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সরকারপক্ষ বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি commitment বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতিতে আসবে transformation । রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ পেশ করা হয়েছিল ১২ মার্চ, আর আলোচনার জন্য কার্য উপদেষ্টা কমিটি নির্ধারণ করেছে ৫০ ঘণ্টা—সময় বলছে, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনৈতিক conflict চলে এসেছে কেন্দ্রে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অভিযোগ করেন, বিরোধীরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণকে confuse করছে। তার মতে, জনগণ বিএনপিকে আইন প্রণয়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই সব কাজ আইনি কাঠামোর মধ্যেই হবে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা তুলে ধরেন, বলেন, তারা জুলাই অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আরও স্পষ্ট করেন: সরকার এ নিয়ে কোনো controversy চায় না।
এদিকে, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, বগুড়া, নড়াইল, হবিগঞ্জ—সারা দেশের প্রতিনিধিরা। বিরোধীরা শহীদ পরিবারের সংখ্যা নিয়ে দাবি করেছেন ১২০০, কিন্তু সরকারি গেজেট অনুযায়ী তা ৮৩৪—এই বৈসাদৃশ্য নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারি পক্ষ বলছে, বিরোধীরা নতুন করে narrative তৈরি করছে। কিন্তু এনসিপির মো. আবুল হাসনাত আরেক রকম অভিযোগ তোলেন: সরকারের ভেতরেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ছড়াচ্ছে। এটা কি অর্থনৈতিক স্বপ্ন নাকি রাজনৈতিক কারাগারের দিকে পথ?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ভাষায়, প্রায় দুই দশক পর জনগণ পেয়েছে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার উপযোগী সংসদ। কিন্তু ঢাকা-১৬ এর বিরোধী সদস্য এম আবদুল বাতেন নজর দিয়েছেন আরেক দিকে—উর্দুভাষী মানুষের resettlement । তিনি সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার call জানান। অর্থনীতির স্বপ্ন যখন চড়ছে আকাশ ছোঁয়া, সেখানে ভূমিতে পা রেখে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনের প্রশ্নও কি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ? সংসদের এই আলোচনা শুধু অর্থনীতির কথা নয়, রাজনৈতিক আলোচনারও এক প্রতিফলন—যেখানে স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কথা শুনে ভালো লাগলেও, অবকাঠামো আর শিল্পায়নের কথা কেউ বলল না কেন?
৮৩৪ নাকি ১২০০—এই number সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক শেষ হওয়া উচিত, কারণ প্রতিটি প্রাণ মূল্যবান।
উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্নটা ঠিক, কিন্তু এটা কি priority অগ্রাধিকার পাবে ট্রিলিয়ন ডলারের পর?
প্রতিমন্ত্রীরা সবসময় বিরোধীদের নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু development উন্নয়ন নিয়ে কথা কম।
ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির অভিযোগটা গাভাবিত নয়, প্রতিদিনের রাজনীতিতে এর ছায়া স্পষ্ট।
গণতন্ত্র ফিরেছে কি না জানি না, কিন্তু সংসদে আলোচনা হচ্ছে—এটাই একটা শুরু।
এত প্রতিমন্ত্রী, এত আলোচনা—কিন্তু কোনো budget বাজেট বা GDP উল্লেখ নেই।
ট্রিলিয়ন ডলার লক্ষ্য হলেও আমাদের ছোট ছোট জীবনগুলোকে যদি সম্মান দেওয়া হয়, তাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।