বজ্রপাতে মারা যাচ্ছেন কৃষক: কে দায়ী?
এক ফোঁটা বৃষ্টির আগে আকাশ ফাটুক বিদ্যুতে—এ আর কোনো surprise নয়। কিন্তু কী কারণে এই বজ্রপাত এখন মানুষের জন্য মৃত্যুর সমান? বৈজ্ঞানিকরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে moisture ধরে রাখার ক্ষমতা বেড়েছে। এটিই তৈরি করছে শক্তিশালী বজ্রমেঘ—যেন প্রকৃতির হাতে চার্জ করা বন্দুক। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষা এখন আগের চেয়ে দীর্ঘ, আর ঋতুর সময়ও নড়েছে। ঘন ঘন বজ্রঝড় এখন খেলা নয়, একটি সঙ্কট।
বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড আর dust বাড়ছে, যা বজ্রপাতের পথ মসৃণ করছে। মেঘের ভেতর জলীয়বাষ্প ও বরফের কণা ঘষাঘষি করে চার্জ তৈরি করে। এতে মেঘের উপরে পজিটিভ আর নিচে নেগেটিভ চার্জ জমা হয়। যখন ভারসাম্যহীনতা সীমা ছাড়িয়ে যায়, বায়ুম-লের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ ছুটে যায়—এটাই বজ্রপাত। গবেষণা বলছে, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়ে ১২ থেকে ২০ শতাংশ। আর এই খেলা খেলছে না প্রকৃতি—খেলছে মানব activity ।
বাংলাদেশে গত এক decade বজ্রপাতে মারা গেছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ। প্রতি বছর গড়ে মৃত্যু হয় ৩০০ এর বেশি। ২০২০ সালে সর্বোচ্চ—৪২৭। কে মরছে? ৭০ শতাংশ প্রান্তিক মানুষ, বেশিরভাগই farmer । তারা ক্ষেতে কাজ করছেন—ঝড়ের খবর নেই, আশ্রয় নেই, সতর্কতা নেই। বজ্রপাত এখন তাদের পেশাগত ঝুঁকি। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনার হাওর এলাকা—এখানে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। আর মার্চ থেকে জুন—এই সময়টাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
বজ্রপাত কি নিয়তি? নাকি এটা আমাদের অবহেলার ফল? বিশ্লেষকদের মতে, দায়ী শিল্পোন্নত দেশ—চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত। চীন বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের ৩০-৩৩ শতাংশ দায়ী, আমেরিকা ১১-১২, ভারত ৭-৮। বাংলাদেশ নিঃসরণ করে মাত্র ০.৫ শতাংশের কম। কিন্তু ধুঁকছে বাংলাদেশ। এই অন্যায় নাম দিচ্ছি ‘জলবায়ু করাচি’। বিশ্বের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে আমাদের কৃষকের জীবন দিয়ে।
২০২৫ সালে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল—বজ্রপাত মোকাবেলায় সরকারকে কাজ করতে। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, অগ্রগতি প্রতিবেদন, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন—সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কিছু হয়নি। কোনো committee গঠিত হয়নি, কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। নেই কোনো আইনি সুরক্ষা, নেই ক্ষতিপূরণ। যারা মরে, তাদের পরিবার এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনায় ত্রাণের ছোটখাটো টাকা পায়। কিন্তু জলবায়ু তহবিলের টাকা কৃষকের ঘরে যায় না। তাহলে, কে জবাব দেবে এই মৃত্যুর?
একটা farmer কৃষক কি আকাশের বিদ্যুত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? তার মৃত্যুর দায় কি তার?
বজ্রপাত কি সত্যিই নিয়তি? নাকি আমরা শুধু সেটাই ভাবতে শিখেছি, কারণ কিছু করার ইচ্ছা নেই?
আমরা ক্ষেতে কাজ করি, পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করি না। কিন্তু প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করি। একটা shelter আশ্রয়কেন্দ্র থাকলে তো কম মানুষ মরত!
আর্দ্রতা আর তাপের সম্পর্ক বোঝা গেলে বোঝা যায়—temperature তাপমাত্রা বাড়া মানেই বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়া।
বিচারপতি রুল দিলেন, কিন্তু কার্যকর হলো না। আদালতের নির্দেশনা কি কাগজের পাখি?
আমরা চাই শুধু ত্রাণ নয়, চাই ন্যায়। ন্যায় চাই।